সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আসছে আরো ১৩ লাখ

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০১৯, ১০:০২

শাহজাহান সাজু

আসছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১৩ লাখ বাড়ানো হচ্ছে। ফলে আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আসছে ৮৭ লাখ মানুষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী আসছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে যোগ্য সব প্রতিবন্ধীকে সামাজিক বেষ্টনীর আওতায় আনা হচ্ছে। এজন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় আগামী বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সাড়ে ৭৩ লাখ মানুষ বিভিন্ন ভাতা পাচ্ছেন। এর বিপরীতে বরাদ্দ রয়েছে ৬৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আসছে বাজেটে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১৩ লাখ ৭৫ হাজার বাড়িয়ে প্রায় ৮৭ লাখে উন্নীত করা হবে। তাছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা খাতের আওতায় প্রতি পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সামাজিক সুরক্ষা খাত অগ্রাধিকার পাবে। নতুন করে ১৩ লাখ দরিদ্র মানুষকে এই সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা হবে। বর্তমান বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সাড়ে ৭৪ লাখ মানুষ বিভিন্ন ভাতা পান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে মোট বাজেটের ১৩ শতাংশ অর্থ এই সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়। চলতি অর্থবছরে এই খাতে মোট বরাদ্দ দেওয়া হয় ৬৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির আড়াই শতাংশ। আগামী বাজেটে এ খাতে মোট ৭২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী আসছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে যোগ্য সব প্রতিবন্ধীকে সামাজিক বেষ্টনীর আওতায় আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের মাসিক ভাতা ও পরিবারের ছেলেমেয়েদের শিক্ষাবৃত্তির টাকাও বাড়ানো হচ্ছে। বাড়ছে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় কর্মংসংস্থান বাড়ানো হবে। গত ২৯ এপ্রিল বাজেট সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সামাজিক নিরাপত্তা বলয় বাড়াতে দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেন। যার মধ্যে রয়েছে কর্মক্ষম ভাতাভোগীদের স্বাবলম্বী করা ও সব ভাতাভোগীকে দ্রুত অনলাইন ডাটাবেজের বা ডিজিটালাইজেশনের আওতায় নিয়ে আসা।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, যারা এখন ভাতা পাচ্ছেন তাদের অনেকেই কর্মক্ষম। তাদের ভাতার আওতা থেকে বের করে আনতে আয় বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। তাছাড়া বর্তমানে বয়স্ক, বিধবাসহ কিছু ভাতার টাকা পরিশোধ পদ্ধতি ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। অন্যান্য ভাতাও যাতে উপকারভোগীর অ্যাকাউন্টে জমা হয় সে ব্যবস্থা করতে হবে।

সূত্র জানায়, আসছে বাজেটে গরিব রোগীদের জন্য নগদ সহায়তা বাড়ানো হবে। ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোক ও প্যারালাইসিসে আক্রান্ত গরিব রোগীদের এককালীন নগদ সহায়তা দেয় সরকার। এর পরিমাণ রোগীপ্রতি ৫০ হাজার টাকা। বর্তমানে ১৫ হাজার রোগী আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন। আসন্ন বাজেটে এই সংখ্যা দ্বিগুণ করা হচ্ছে। এছাড়া বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এবং তাদের ছেলেমেয়েরা মাসিক ভাতাসহ নানা সুবিধা পাচ্ছে। বর্তমানে ৬৪ হাজার এই সুবিধা ভোগ করছে। নতুন বাজেটে এই সংখ্যা ৮১ হাজারে উন্নীত করা পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

সূত্র আরো জানায়, আসন্ন বাজেটে বয়স্ক (৬৫ বছর) ভাতা বাড়ানো হচ্ছে না। তবে ভাতাভোগীর সংখ্যা ৪০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৪৪ লাখ এবং বরাদ্দ ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা হারে এ ভাতা দেওয়া হয়। এছাড়া, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতাও অপরিবর্তিত থাকছে। বর্তমানে ১০ লাখ অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ৭০০ টাকা হারে ভাতা পান। আগামী বাজেটে অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের আওতা বাড়িয়ে ১৫ লাখ ৪৫ হাজারে উন্নীত করা হচ্ছে। আর ভাতা বাড়িয়ে করা হবে ৭৫০ টাকা। এছাড়া, বর্তমানে ৯০ হাজার অসচ্ছল প্রতিবন্ধী পরিবারের ছেলেমেয়ে শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে (প্রাইমারি থেকে উচ্চতর) সর্বনিম্ন মাসিক ৭০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ টাকা করে বৃত্তি পায়। আসন্ন বাজেটে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত ভাতা ৫০ টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১০০ টাকা বাড়ানো হচ্ছে। সব মিলে ১৬ লাখ ৪৫ হাজার প্রতিবন্ধী ও তাদের পরিবারের শিক্ষিত ছেলেমেয়েকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র আরো জানায়, গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক সুরক্ষার বিভিন্ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ ছিল ৫৪ হাজার ২০৬ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে তা হয় ৬৫ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে এ বরাদ্দের পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। এখন দেশে প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতাসহ প্রায় ১৪৫টি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

পিডিএসও/হেলাল