২ লাখ কোটি টাকার ঈদ অর্থনীতি

প্রকাশ : ৩১ মে ২০১৯, ০৯:২৭ | আপডেট : ৩১ মে ২০১৯, ১০:২৫

শাহজাহান সাজু

আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে নতুন দোকান ও শপিংমল বেড়েছে দেশজুড়ে। পাশাপাশি বেড়েছে ঈদ-অর্থনীতির আকার ও অঙ্ক। রাজধানীসহ দেশের ছোট-বড় সব বিপণিবিতানগুলো সুন্দর সাজে সাজানো হয়েছে। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ভিড় বাড়ছে মার্কেটে ও শপিংমলে। উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী এখন কেনাকাটায় ব্যস্ত। এতে বাড়ছে ঈদ-অর্থনীতি। টাকার অঙ্কে যা প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা। অন্যদিকে সাড়ে ১২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বোনাসের টাকা, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আরো প্রায় দেড় কোটি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বোনাসের অর্থ। এই বিশাল অঙ্কের টাকার সিংহভাগই উড়ছে ঈদবাজারে। ইতিবাচক গতি আনছে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের এক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে অর্থনীতিতে যুক্ত হচ্ছে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু নতুন পোশাক কেনাকাটায় যাচ্ছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। ভোগ্যপণ্যের বাজারে বাড়তি যুক্ত হচ্ছে প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা। ধনীদের দেওয়া জাকাত ও ফিতরার মাধ্যমে যোগ হচ্ছে প্রায় ৬৮ হাজার কোটি টাকা। ইফতার ও সাহরি বাবদ যোগ হচ্ছে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। ঈদকেন্দ্রিক বিনোদনে যুক্ত হচ্ছে আরো ৫ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া পরিবহন খাতে ঈদে ঘরে ফেরা আর কাজে ফেরাতে যুক্ত হচ্ছে অতিরিক্ত ৭০০ কোটি টাকা।

অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতে লেনদেন বেড়েছে ব্যাপক হারে। ঈদ উপলক্ষে রেকর্ড গতিতে দেশের অর্থনীতিতে জমা হচ্ছে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স। শুধু চলতি মে মাসের ২৪ দিনেই ১৩৫ কোটি (১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছেন তারা। ঈদের কেনাকাটায় এটিএম বুথে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কোটি টাকার বেশি উত্তোলন করছেন গ্রাহকরা। মোবাইলে লেনদেন প্রতিদিনই বাড়ছে। এদিকে মানুষের চাহিদা পূরণে বাজারে অতিরিক্ত ১৭ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট ছেড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রূপালী ব্যাংকের এক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, এবারের ঈদে ব্যাংকিং লেনদেন অনেক বেশি। বিশেষ করে ভোক্তারা অনেক বেশি খরচ করছেন। দোকানি ও ব্যবসায়ীরা পণ্যের পসরা সাজাতে ব্যাংক থেকে প্রতিদিনই টাকা তুলছেন। সব মিলিয়ে স্বাভাবিকের তুলনায় লেনদেন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে।

এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ঈদে টাকার প্রবাহ বাড়ে। এর কারণ হলো, ঈদে মানুষ বিভিন্নভাবে টাকা খরচ করে থাকেন। নতুন পোশাক ছাড়াও অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের জন্য খরচ বাড়ায়। ঈদকে কেন্দ্র করে গ্রামের বাড়ি যাওয়া-আসায় খরচ বাড়ে। ঈদে আনন্দ এবং ভ্রমণেও অতিরিক্ত টাকা খরচ করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

এদিকে ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, বাজার ততই জমে উঠছে। ঈদুল ফিতরে মানুষ মূলত পোশাক কিনতে পছন্দ করে বেশি। বিশেষ করে থ্রি পিস, শাড়ি, পাঞ্জাবি কেনার ঝোঁক বেশি থাকে। রাজধানীর বসুন্ধরাসিটি শপিং কমপ্লেক্স, ইস্টার্ন প্লাজা, মৌচাক মার্কেট, আনারকলি মার্কেট, কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি মার্কেটসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি শপিংমল ঘুরে দেখা গেছে, ভারতীয় পোশাক যেমন বিক্রি হচ্ছে, আবার দেশীয় পোশাকের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত ভারতীয় ভিসা সহজ হওয়ার ফলে দেশের বাজারে শাড়ির বিক্রি কমে গেছে। অনেকেই ঈদের শপিং করতে এখন ভারতে যাচ্ছেন। তারা আর দেশের বাজার থেকে শাড়ি কিনছেন না। নিউমার্কেট, চাঁদনী চক, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট, গাউসিয়া, ধানমন্ডি হকার্স, গাউসল আজম মার্কেট, রাইফেলস স্কয়ার, ক্যাপিটাল মার্কেট, ধানমন্ডি প্লাজা, মেট্রো শপিংমল, প্রিন্স প্লাজা, রাপা প্লাজাসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি শপিংমল ঘুরে দেখা গেছে, থ্রি পিস, পাঞ্জাবি ও বাচ্চাদের পোশাক কেনায় ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি।

পিডিএসও/হেলাল