অর্থবছরের ৬ মাস

বাজেট ঘাটতি সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশ : ১৭ মে ২০১৯, ১১:০৩ | আপডেট : ১৭ মে ২০১৯, ১২:৫০

শাহজাহান সাজু

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত অর্থবছরের তুলনায় একই সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ৭ দশমিক ৬৩ গুণ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও আয়-ব্যয়ের গতিধারা সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, চলতি অর্থবছরে বাজেটে মোট ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা; যা মোট জিডিপির ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধিতে পিছিয়ে থাকাসহ গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বৈদেশিক অর্থায়ন কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে আসায় বাজেট ঘাটতির অন্যতম কারণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সেজন্য রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, এই অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে গত ছয় মাসে রাজস্ব আহরিত হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৩৪ শতাংশ। সেই হিসাবে অর্থবছরের বাকি ছয় মাসে রাজস্ব আহরণ করতে হবে প্রায় ৬৬ শতাংশ।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা আদায়ে টার্গেট দেওয়া হয়েছে এনবিআরকে। এছাড়া এনবিআরবহির্ভূত কর রাজস্ব আহরণে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা এবং করবহির্ভূত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩৩ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। তার মধ্যে প্রথম ছয় মাসে এনবিআর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২৮ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। আলোচ্য সময়ে ১ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এনবিআর আদায় করছে ৯৭ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে আদায় বেড়েছে সাড়ে ৫ শতাংশ। যদিও গত অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ১৫ শতাংশ।

এনবিআর সূত্র জানায়, আমদানি শুল্ক ও স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আদায়ে বেশ পিছিয়ে এনবিআর। গত ছয় মাসে ৪০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আমদানি শুল্ক আদায় হয়েছে ৩০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শুল্ক আদায় হয়েছিল ২৯ হাজার ৭১২ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত ছয় মাসে শুল্ক আদায় বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক ৭২ শতাংশ। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে শুল্ক আদায়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৯ শতাংশের বেশি। অর্থবছরের ছয় মাসে ৫০ হাজার ২৪ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ভ্যাট আদায় হয়েছে ৩৭ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ভ্যাট আদায় হয়েছিল ৩৬ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে গত ছয় মাসে আদায় বেড়েছে ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ। অথচ উল্লিখিত সময়ে গত অর্থবছরে ভ্যাট আদায়ে প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ২০ শতাংশ। এই দুই খাতের তুলনায় আয়কর আদায়ে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেশি, যা প্রায় ১১ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে আয়কর খাতেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আদায় কম হয়েছে প্রায় পৌনে ৭ হাজার কোটি টাকা। এ সময়ে আয়কর খাতে রাজস্ব আয় হয়েছে ২৮ হাজার ৬১২ কোটি টাকা।

এদিকে এনবিআরবহির্ভূত কর রাজস্ব আহরণে ৯ হাজার ৭২৭ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রথম ছয় মাসে আহরণ হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কম। গত বছর উল্লিখিত সময়ে এ খাতে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৩ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা। এছাড়া করবহির্ভূত রাজস্ব আহরণে ৩৩ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৪ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা; যা এ খাতে মোট লক্ষ্যমাত্রার ৪৩ শতাংশ।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে বাজেটের ১ লাখ ২৫ হাজার ২৯৪ কোটি টাকার ঘাটতি মেটাতে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এরই মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা। আর ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে ২৯ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। এছাড়া বৈদেশিক উৎস থেকে ৫৪ হাজার ৬৭ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বৈদেশিক অর্থায়ন কমে প্রায় অর্ধেকে নামে। গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে যেখানে বৈদেশিক অর্থায়ন এসেছিল ৬ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সেখানে এসেছে মাত্র ৩ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা।

পিডিএসও/হেলাল