আসন্ন বাজেটে সরকারের নতুন কর্মসূচি

আমার গ্রাম আমার শহর

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ০৯:৫৪ | আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ১০:০৮

শাহজাহান সাজু

আগামী বাজেটে ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ শীর্ষক একটি নতুন কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে সরকার। এই কর্মসূচির আওতায় শহরের মতো গ্রামের মানুষও সব ধরনের আধুনিক নাগরিক সুবিধা পাবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে পরিবেশ সংরক্ষণে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট পেশ করা হতে পারে আগামী ১৩ জুন। ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় গ্রামের কাঁচা রাস্তা পাকা হবে। থাকবে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সুবিধা। স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা প্রদানের ব্যাপারেও বাড়তি উদ্যোগ থাকবে এ বাজেটে। একই সঙ্গে গ্রামে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে এবং এমন কিছু প্রকল্প সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে, যার ফলে গ্রামের মানুষের ধীরে ধীরে শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা হ্রাস পাবে।

জানা গেছে, আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ১০টি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বাজেট মনিটরিং কমিটির প্রথম বৈঠকে শনাক্ত করা এসব খাতের মধ্যে রয়েছে, মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন এবং কর্মসৃজন, সার্বিক মানবসম্পদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও ডেমোগ্র্যাফিক ডিভিডেন্ডের সুফল প্রাপ্তির লক্ষ্যে দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি-সড়ক-রেলপথ ও বন্দরসহ সার্বিক ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে মেগা প্রকল্পগুলোর মান বজায় রেখে দ্রুত বাস্তবায়ন করা, সামাজিক সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ, তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে সরকারি সেবা প্রদানের আওতা সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জন, বহির্বিশ্বের অর্থনৈতিক সুযোগের অধিকতর ব্যবহার, নতুন নতুন রফতানি বাজার অনুসন্ধান এবং প্রবাসী আয় বাড়ানো। সূত্র আরো জানায়, বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোর হিসাব অনুযায়ী আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের মোট আকার ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এটি আগামী অর্থবছরের জিডিপির ১৮ শতাংশ এবং চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার থেকে ১২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

এদিকে চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। সেই হিসাবে নতুন বাজেটের আকার বাড়ছে ৫৮ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা। কিন্তু সংশোধিত বাজেটে মূল বাজেটের আকার থেকে প্রায় ২১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা কাটছাঁট করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। এক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকার দাঁড়াবে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটের আকারের সঙ্গে তুলনা করলে আসন্ন বাজেটের প্রকৃত আকার বাড়বে প্রায় ৮০ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, নতুন বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। চলতি বাজেটে এ লক্ষ্যমাত্রার পরিমাণ ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। নতুন বাজেটের বিশাল ব্যয় ও আয়ে ঘাটতি থাকছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। চলতি বাজেটে এ ঘাটতির পরিমাণ ১ লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি বাজেট থেকে প্রাক্কলিত ঘাটতি ২০ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা বেশি। বিশাল এ ঘাটতি পূরণ করতে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়। আগামী অর্থবছর অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রার প্রস্তাব করা হয়েছে ৯৩ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা; যা চলতি অর্থবছরে রয়েছে ৭১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে দুইভাবে ঋণ আসে। প্রথমটি হলো, ব্যাংকিংব্যবস্থা থেকে। আর দ্বিতীয়টি হলো- ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে। আগামী অর্থবছরে ব্যাংক খাতের ঋণের ওপর বেশি ঝুঁকছে সরকার। নতুন বাজেটে ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬৮ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা রয়েছে। অর্থাৎ আগামী অর্থবছরে চলতি অর্থবছর থেকে ২৬ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা বেশি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা প্রাথমিকভাবে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আসন্ন বাজেটে এডিপির আকার প্রস্তাব করা হয়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। এদিকে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মূল বাজেটে এডিপির আকার ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। এটি ছিল বাজেটে প্রাক্কলিত জিডিপির ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। সংশোধিত বাজেটে এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা।

সূত্র আরো জানায়, আসছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন (এসডিজি) এবং আগামী দুই বছরের মধ্যে সরকার প্রণীত ‘রূপকল্প-২১’ বাস্তবায়নের বিষয়টি অধিকতর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত বলে ঘোষণা করতে চায় সরকার।

পিডিএসও/হেলাল