কৃষি যন্ত্রপাতি মেলা শুরু ২৫ এপ্রিল

কৃষি যান্ত্রিকীকরণে বাংলাদেশ

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ১৩:১১

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘যান্ত্রিকীকরণই গড়বে আধুনিক ও লাভজনক কৃষি’ স্লোগানকে সামনে রেখে আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে (কেআইবি) শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় কৃষি যন্ত্রপাতি মেলা-২০১৯। কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করবেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ হুমায়ূন।

মেলা চলবে আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত। মেলায় থাকবে ৩০ থেকে ৪০টি স্টল। সেখানে কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানি ও প্রস্তুতকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা তাদের পণ্য সম্পর্কে দর্শনার্থীদের অবহিত করবেন। এছাড়া মেলায় থাকছে প্রদর্শনীর পাশাপাশি পণ্য বিক্রির চাহিদা গ্রহণের সুবিধাও। মেলার সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের খামার যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্প।

দেশের মাথাপিছু আয় দিন দিন বাড়ার কারণে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে কৃষি খাতে। ফলে কৃষিযন্ত্র ব্যবহারে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের। পাশাপাশি সরকারও কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহ দিচ্ছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএইউ) এক গবেষণা অনুযায়ী, ফসল আবাদে জমি চাষ, সেচ, নিড়ানি, কীটনাশক প্রয়োগ ও মাড়াইয়ের ক্ষেত্রে দেশে ৬৫ থেকে ৯৫ শতাংশ যান্ত্রিকীকরণ হয়েছে। কিন্তু রোপণ, সার দেওয়া, ফসল কাটার ক্ষেত্রে এর হার খুবই নগন্যÑ মাত্র ১ থেকে ৩ শতাংশের মতো।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে এখন রোপণযন্ত্র বা ট্রান্সপ্ল্যান্টার, ফসল কাটার যন্ত্র বা হারভেস্টার, মাড়াই যন্ত্র ইত্যাদির বাজার তৈরি হচ্ছে। দিন দিন এসব কৃষিযন্ত্রের কদরও বাড়ছে। কৃষিতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলা, উৎপাদন ব্যয় কমানো ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে যান্ত্রিকীকরণের কোনো বিকল্প নেই জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু গ্রামীণ শ্রমশক্তির ৪০ শতাংশ এখন কৃষিকাজ করে। এ হার ২০৩০ সালে ২০ শতাংশে নামবে। ফলে কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বাড়াতেই হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের খামার যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্প বলছে, যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে একজন কৃষকের খরচ ও সময় উভয়ই সাশ্রয় হয়। সনাতন পদ্ধতিতে এক একর জমির ধান কাটতে খরচ হয় ৮ হাজার ৬৬৮ টাকা। সেখানে মিনি কম্বাইন হারভেস্টারের মাধ্যমে খরচ হয় ৩ হাজার ৯৪২ টাকা। আবার সনাতন পদ্ধতিতে এক একর জমিতে ধান রোপণ করতে খরচ হয় ১ হাজার ৬০০ টাকা সেখানে রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টার ব্যবহারে খরচ হয় ৬০০ টাকার মতো। উভয় ক্ষেত্রে খরচ সাশ্রয় হয় ৬০ শতাংশেরও বেশি। সময় লাগে অনেক কম।

এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্প পরিচালক শেখ মো. নাজিম উদ্দিন প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, ‘কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ এখন সময়ের দাবি। যন্ত্রের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকের সময় ও খরচ উভয়ই সাশ্রয় হয়। মাঠ পর্যায়ে কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার সম্পর্কে জানাতেই আয়োজন করা হয়েছে কৃষি যন্ত্রপাতি মেলার।

কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. নুরুল ইসলাম প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, কৃষি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সেক্টর। এখানে কাজ হয় অনেক। কিন্তু আমাদের দেশে কৃষিকে বাণিজ্যিকভাবে এখনো নেওয়া সম্ভব হয়নি। আর এ কারণে আমাদের দেশের কৃষি জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারছে না। কৃষিকে জিডিপির আওতায় আনা গেলে আমাদের দেশের জিডিপির গ্রোথ আরো বাড়বে। ডিজিটাল যুগে এসে যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার ছাড়া কৃষির উন্নয়ন সম্ভব নয়।

পিডিএসও/তাজ