সাইবার হামলার ঝুঁকিতে ৫০ শতাংশ ব্যাংক

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ১১:০১

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গ্রাহকসেবার মান বাড়াতে ব্যাংকগুলোতে বেড়েছে প্রযুক্তির ব্যবহার। টাকা জমা দেওয়া, ওঠানো এমনটি বিভিন্ন সেবার মূল্য পরিশোধ করা হচ্ছে ব্যাংকের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে। নিমিশেই একটি খুদে বার্তা চলে আসছে গ্রাহকের সেলফোনে। এ ছাড়া অনলাইন ট্রানজেকশনের জন্য অটিপি বা ওয়ানটাইম পাসওয়ার্ডের সঙ্গে পরিচিত প্রায় সবাই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংক খাত যত বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে, ততই বাড়ছে ঝুঁকি।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, দেশের ৫০ শতাংশ ব্যাংক সাইবার আক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ অবস্থায় সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে তৃতীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের আওতায় ব্যাংকগুলোকে নিয়ে আসার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। তবে ব্যাংকাররা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকেই আগে এগিয়ে আসতে হবে।

ব্যাংকিং খাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার আর্থিক লেনদেনকে করে তুলেছে অনেক দ্রুত ও সহজ। হাল আমলে কার্ড এবং মোবাইলে লেনদেন হয়ে উঠেছে বেশ জনপ্রিয়। সেই সঙ্গে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়ায় ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে ইন্টারনেট ব্যাংকিংও। আর তথ্যপ্রযুক্তির এসব ব্যবহার জীবনকে যত সহজ করছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে আর্থিক ঝুঁকি। গ্রাহকের অজান্তেই সাইবার অপরাধীরা লুটে নিতে পারে ব্যাংকে জমা রাখা বড় অঙ্কের অর্থ।

পূবালী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী গণমাধ্যমকে জানান, ‘কেউ কার্ডের তথ্য হ্যাক করে নকল কার্ড বানিয়ে ফেলল এবং এটিএম থেকে ট্রানজেকশন শুরু করল, তাতে হবে কি অ্যাকাউন্টে যতটুকুই টাকা থাক, এটা তুলে নিতে পারবে।’

বিআইবিএমএর গবেষণা বলছে, দেশের ৫০ শতাংশ ব্যাংক এখনো সাইবার আক্রমণ ঠেকানোর সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। বিআইবিএমের অধ্যাপক ড. শাহ মোহাম্মদ আহসান হাবীব বলেন, ‘প্রযুক্তি অ্যাডাপ্ট করতে থাকলে যদি মনে করেন, এখন আর কোনো ঝুঁকি নেই, আমি নিশ্চিত—তাহলেই আপনি ভুল করবেন। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া আপনি যত বেশি প্রযুক্তি অ্যাডাপ্ট করবেন, সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকি তত বাড়বে।’

প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, আর্থিক খাতে সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাংকগুলোর উচিত একক তথ্যভাণ্ডার সৃষ্টি করা। আর ব্যাংকাররা মনে করেন, একক তথ্যভাণ্ডার এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করতে হলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকেই আগে এগিয়ে আসতে হবে। এ ছাড়া সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে গোপন নম্বর বা পাসওয়ার্ড কারো সঙ্গে শেয়ার না করার পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যবহারে গ্রাহকদের সচেতন হওয়ারও তাগিদ দিয়েছেন ব্যাংকার ও প্রযুক্তিবিদরা।

পিডিএসও/হেলাল