এবার ঢাকায় সার্কুলার স্কাইট্রেনের পরিকল্পনা

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৩:২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা ঘিরে স্কাইট্রেন তৈরির পরিকল্পনা করছে সরকার। এ বিষয়ে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও চীনের যৌথ কোম্পানি। ঢাকার মধ্যে ৮০ কিলোমিটার স্কাইট্রেন নির্মাণ করতে প্রস্তাব দিয়েছে এই কোম্পানি। মাত্র দুই বছরে সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক স্কাইট্রেন নির্মাণ করবে তারা। আর এতে মেট্রোরেলের চেয়ে কম খরচ এবং অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে তাদের প্রস্তাবে।

প্রায় সাড়ে ২৮ হাজার কোটি টাকা খরচে দুবাইভিত্তিক এ কোম্পানি মাত্র দুই বছরে ৮০ কিলোমিটার বিস্তৃত সার্কুলার রেলরুট টানতে পারবে বলে জানিয়েছে। সম্প্রতি এ প্রস্তাব নিয়ে তারা রেল মন্ত্রণালয় ঘুরে গেছেন। গতকাল শনিবার কোম্পানির বাংলাদেশ অংশের সিজ অ্যান্ড পার্টনারস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাজ আহমেদ শাহরিয়ার জানান, সার্কুলার রেল রুট নির্মাণে রেলপথ মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করছে। এ কারণে রেল মন্ত্রণালয়ে এ প্রস্তাব দিয়েছে। রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন সার্কুলার রুটে স্কাইট্রেনে আগ্রহ দেখিয়েছেন।

সাজ আহমেদ শাহরিয়ার বলেন, সমীক্ষা তথ্য অনুসারে ঢাকায় এখন ঘণ্টায় সাত কিলোমিটার বেগে গাড়ি চলে। দিনের অর্ধেক সময় বা কর্মঘণ্টা নষ্ট হয় রাস্তায় যানজটে আটকে থেকে। এমন সময়ে মেট্রোরেলের কাজও চলছে। তবে, একইসঙ্গে অর্থ ও ভূমি সাশ্রয়ী স্কাইট্রেন প্রযুক্তি ঢাকায় গতি আনতে পারে বলে তারা নিজেরা সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখেছেন। এ কারণে প্রাথমিকভাবে রেল মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তাদের আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, সাড়ে ২৮ হাজার কোটি টাকায় ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বেশির ভাগ জায়গায় সার্কুলার মাধ্যমে স্কাইট্রেন রুটের মধ্যে পড়বে। এতে দিনে কয়েক লাখ মানুষ মাত্র ১০ থেকে ২০ মিনিটে চলাচল সুবিধা পাবেন। আর পুরো ৮০ কিলোমিটার সার্কুলার রুটে স্কাইট্রেনে ঘুরতে এক ঘণ্টা সময় লাগবে। এর মধ্যে ৩৫ থেকে ৪০টি স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা করবে।

সাজ আহমেদ জানান, ঢাকার প্রধান প্রধান সড়কগুলো উত্তর-দক্ষিণমুখী। এজন্য সার্কুলার রুটে তারা পূর্ব-পশ্চিম দিকে জোর দিয়েছেন। এ হিসেবে ৮০ কিলোমিটারে পুরো ঢাকা ঘিরে ফেলা যাবে। প্রতি ১০ মিনিট অন্তর অন্তর ইলেকট্রিক অটোমেটেড ট্রেনকোচ সার্কুলার রুট ধরে স্কাইট্রেন চলবে। সিজ অ্যান্ড পার্টনারস লিমিটেডের ডিরেক্টর সুস্মিতা শারলিন জানান, দুবাই এবং চীন মেট্রোরেলের পর স্কাইট্রেন প্রযুক্তিতে জোর দিচ্ছে। চীনে একটি স্কাইট্রেন নির্মাণ শেষ হয়েছে এখন আরেকটির নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। ওই একই প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশেও স্কাইট্রেন নির্মাণে সহযোগী হয়েছে। তাদের বিনিয়োগে এর নির্মাণ হবে। পরবর্তী ২৫ বছর তারা স্কাইট্রেন থেকে টোল নেবে—এমন প্রস্তাব রয়েছে।

পরিবহন কৌশলপত্র নামে সর্বশেষ ২০১৭ সালে রিভাইস স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (আরএসটিপি) নামে নগর পরিকল্পনাবিদরা ঢাকার পরিকল্পনা করেছেন। সেখানে স্কাই ট্রেনের প্রস্তাব নেই। নতুন করে স্কাইট্রেন প্রযুক্তিতে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় করতে চাইলে কী ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে? এই প্রশ্নে সাজ আহমেদ জানান, স্কাইট্রেনে আলাদা করে জমি অধিগ্রহণের তেমন প্রয়োজন হয় না। আর যেহেতু এটি এলিভেটেড আকারে যাচ্ছে সেজন্য ভূমিতে কাজও নেই। সম্পূর্ণ অটোমেটেডভাবে পিলার এবং স্কাইট্রেন রুট টানা যাবে। এক্ষেত্রে মেট্রোরেলের চেয়ে কয়েকগুণ সাশ্রয়ী হতে পারে এটি।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে স্কাইট্রেন নির্মাণ শেষ করা যাবে। যেখানে মেট্রোরেল শেষ হতে ছয় বছরের বেশি সময় লাগছে। আর মেট্রোরেলের চেয়ে প্রায় অর্ধেক খরচে এটি করা যাবে বলে মনে করে সিজ অ্যান্ড পার্টনারস লিমিটেড এবং দুবাইভিত্তিক অ্যাকসেন্ট ক্যাপিটাল লিমিটেড।

পিডিএসও/হেলাল