সরবরাহ কম

মাছ মাংস ও সবজির দাম বেড়েছে

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০১৯, ১১:১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরবরাহ কমায় রাজধানীর বাজারগুলোতে বেড়েছে মাছ, মাংস ও তেলের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি মাছের দাম ৩০-৫০ টাকা, মাংসের দাম ১০ ও সবজির দাম ৫-১০ টাকা বেড়েছে। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে সব ধরনের মুদিপণ্যের দাম।

ক্রেতাদের অভিযোগ, যৌক্তিক কোনো কারণ ছাড়াই দাম বাড়ান ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের অজুহাত সরবরাহ কমায় মোকামে দাম বেড়েছে। ফলে আমাদেরও বেশি দাম দিয়ে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এদিকে দ্রব্যমূল্যের এ ঊর্ধŸমুখী বেকায়দায় ফেলেছে সীমিত আয়ের নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের। এতে জীবনযাপনের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারগুলো। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক কেজি ওজনের ইলিশ ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা, ৬০০-৭০০ গ্রামের ইলিশ ১২০০-১৩০০, ৪০০-৫০০ গ্রামের ইলিশ ১০০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ৫০০ গ্রামের ইলিশ ১০০০ টাকা, ৮০০ গ্রামের ১২০০ টাকা, এক কেজি ওজনের ইলিশ ১৪০০ ১৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এ বিষয়ে কারওয়ান বাজারের মাছ বিক্রেতা সুমন বেপারী বলেন, জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ শুরু হবে, তাই বাজারগুলোতে এখন থেকেই প্রচার শুরু করেছে সরকার। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে অভিযানও পরিচালনা করা হয়ে থাকে। এজন্য বাজারগুলোতে সব ধরনের মাছের সরবরাহ কমে গেছে। কিন্তু চাহিদা আগের মতো থাকায় দাম বেড়েছে। বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা বেড়েছে ইলিশের, তাই এর দামও অন্যান্য মাছের তুলনায় বেশি।

প্রসঙ্গত, আগামী ১৬ থেকে ২২ মার্চ পালন করা হবে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০১৯। এ লক্ষ্যে এখন থেকেই বিভিন্ন বাজারে অভিযান ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

এদিকে বাজারে সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ৩০-৫০ টাকা বেড়েছে। প্রতি কেজি রুই ২৮০ থেকে ৪২০ টাকা, পাবদা ৫৫০ থেকে ৬০০, টেংরা ৫৫০ থেকে ৭০০, তেলাপিয়া ১৬০ থেকে ২০০, শিং ৬০০ থেকে ৭০০, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮৫০, চিতল ৬০০ থেকে ১০০০, আইড় ৭৫০ থেকে ৮৫০, বাইলা ৮০০, বাইম ৬০০, পোয়া ৬০০, মলা ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

বাজারগুলোতে সব ধরনের মাংসের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৫২০ টাকা, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৪৮০ টাকায়। খাসির মাংস ৮৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২১০ টাকা, কক মুরগি ১৮০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

মাংস বিক্রেতা মামুন জানান, প্রতি বছর এ সময় মাংসের দাম বেশি থাকে। কারণ ফাল্গুন মাসে সামাজিক অনুষ্ঠান বেশি হয়। ফলে অন্য সময়ের থেকে চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আর চাহিদা বাড়লে দামও বাড়ে।

এ বিষয়ে বাদল স্টোরের বাদল হোসেন জানান, গত সপ্তাহের শেষের দিকে হঠাৎ ভোজ্যতেলের দাম পাইকারি বাজারে ২০ টাকা বেড়েছে। ফলে আমরাও ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছি। তবে যাদের আগে স্টকে ছিল তারা একটু কম দামে বিক্রি করতে পারছেন। দাম বাড়ার যৌক্তিক কোনো কারণ দেখাতে পারেননি তিনি।

কাঁচাবাজারগুলোয় দেখা গেছে, পণ্যের মানভেদে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ২৫ টাকা, টমেটো ৩০, বেগুন ৫০, শিম ৩০, ফুলকপি প্রতি পিস ৩০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতি পিস ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতি কেজি করলা ৮০ টাকা, ঝিঙে ৮০, চিচিঙ্গা ৭০, লাউ ৫০, শালগম ৩০ টাকা কেজি এবং মুলা ২৫ টাকা, নতুন আলু ১৫, কাঁচামরিচ ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সব ধরনের শাক বিক্রি হচ্ছে ১০-১৫ টাকা আঁটি।

অপরিবর্তিত রয়েছে চাল ও অন্যান্য মুদিপণ্যের দাম। বাজারে প্রতি কেজি নাজির ৫৮-৬০ টাকা। মিনিকেট চাল ৫৫-৫২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। স্বর্ণা ৩৫ ৩৮ টাকা, বিআর ২৮ ৩৮ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি খোলা আটা ২৬ টাকা, প্যাকেট ৩২ টাকা, আমদানি করা চিনি ৫০, ডাল ৪০ থেকে ৯০, লবণ ৩০-৩৫, পোলাও চাল ৯০ ৯৫ বিক্রি হচ্ছে। তবে বেড়েছে সব ধরনের ডিমের দাম। মুরগির ডিম প্রতি ডজনে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকায়; যা গত সপ্তাহে ছিল ১০০ টাকা। হাঁসের ডিম ১৫৫ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ১৭০ টাকা ডজন বিক্রি হয়েছে।

পিডিএসও/তাজ