লিজিং কোম্পানির হয়রানি : ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

মেয়াদপূর্ণ হওয়া আমানতের অর্থ সুদসহ ফেরতের তাগিদ

প্রকাশ | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৩:০০

শাহ্জাহান সাজু

কিছু লিজিং কোম্পানি বা নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ওইসব কোম্পানির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের আমানতের টাকা সময়মতো ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফজলুর রহমান স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বিভিন্ন লিজিং কোম্পানিতে গ্রাহকদের আমানতকৃত টাকা ফেরত প্রদান না করা/ফেরত প্রদানে নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ শীর্ষক একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যবসা করার লক্ষ্যে লাইসেন্সপ্রাপ্ত হয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন লিজিং কোম্পানি কর্তৃক গ্রাহকদের মেয়াদি আমানতের টাকা যথাসময়ে ফেরত

না দেওয়া বা ফেরত প্রদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির অভিযোগ মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নানাভাবে আলোচিত হচ্ছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বিভিন্ন সময়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে প্রতিকারের জন্য আবেদন করেছেন।

ওই চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতির মধ্যেও বর্ণিত লিজিং কোম্পানিগুলো উচ্চহারে সুদ প্রদানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রদান অথবা মোবাইল এসএমএস প্রদানের মাধ্যমে আমানত সংগ্রহে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে লিজিং কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমের বিষয়ে জনগণ বিভ্রান্ত হচ্ছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের প্রতিকার প্রদানের স্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এছাড়া গ্রাহকদের মেয়াদপূর্ণ হওয়া আমানতের অর্থ সুদসহ ফেরত প্রদানের বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যক হয়ে পড়েছে। চিঠিতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, অভিযুক্ত লিজিং কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে আমানত সংগ্রহ করে। এমনকি তারা গ্রাহকদের মোবাইল ফোনে মেসেজ পাঠিয়ে উচ্চসুদের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন মেয়াদে আমানত সংগ্রহ করে থাকে। যা তারা করতে পারেন না।

জানা যায়, দেশে বর্তমানে ৩৫টি লিজিং কোম্পানি প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করছে। এর মধ্যে ৪৫ শতাংশ শিল্প খাতে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং আবাসন খাতসহ অন্যন্য খাতে তারা বিনিয়োগ করে থাকে। লিজিং কোম্পানিগুলো কোনো চেক, ডিমান্ড ড্রাফট বা পে-অর্ডার ইস্যু বা বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবসা করতে পারে না।

সূত্র আরো জানায়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এরই মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হিসাব চেয়ে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দিয়েছে। একই সঙ্গে নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (লিজিং কোম্পানি) বিষয়েও প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশনা দিয়েছে।

পিডিএসও/তাজ