গার্মেন্টে বেতন বাড়ল ৬ গ্রেডে

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:২১

নিজস্ব প্রতিবেদক
ama ami

টানা শ্রমিক বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে দেশের রফতানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি কাঠামোর ছয়টি গ্রেডে বেতন বাড়িয়েছে সরকার। গতকাল রোববার শ্রম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মালিক-শ্রমিক ও প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানান, প্রথম গ্রেডের একজন কর্মী এখন থেকে সব মিলিয়ে ১৮ হাজার ২৫৭ টাকা বেতন পাবেন। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে এই গ্রেডের মজুরি ছিল ১৩ হাজার টাকা। ২০১৮ সালে নতুন মজুরি কাঠামোর গেজেটে তা ১৭ হাজার ৫১০ টাকা করা হয়েছিল।

দ্বিতীয় গ্রেডের সর্বমোট বেতন ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৪১৬ টাকা। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে এই গ্রেডের বেতন ১০ হাজার ৯০০ টাকা এবং ২০১৮ সালে মজুরি কাঠামোর গেজেটে তা ১৪ হাজার ৬৩০ টাকা ছিল। তৃতীয় গ্রেডের সর্বমোট বেতন ঠিক হয়েছে ৯ হাজার ৮৪৫ টাকা, যা ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে ৬ হাজার ৮০৫ টাকা এবং ২০১৮ সালের গেজেটে ৯ হাজার ৮৪৫ টাকা করা হয়েছিল। চতুর্থ গ্রেডের সর্বমোট বেতন ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৩৪৭ টাকা। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে এই গ্রেডের বেতন ৬ হাজার ৪২০ টাকা এবং ২০১৮ সালে মজুরি কাঠামোর গেজেটে তা ৯ হাজার ২৪৫ টাকা করা হয়েছিল। পঞ্চম গ্রেডে সর্বমোট বেতন ঠিক হয়েছে ৮ হাজার ৮৭৫ টাকা, যা ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে ৬ হাজার ৪২ টাকা এবং ২০১৮ সালের গেজেটে ৮ হাজার ৮৭৫ টাকা করা হয়েছিল। ষষ্ঠ গ্রেডের সর্বমোট বেতন ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৪২০ টাকা। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে তা ছিল ৫ হাজার ৬৭৮। আর ২০১৮ সালে মজুরি কাঠামোর গেজেটে তা করা হয়েছিল ৮ হাজার ৪০৫ টাকা করা হয়েছিল।

আর সপ্তম গ্রেডের মজুরি সব মিলিয়ে গেজেটের মতোই আট হাজার টাকা রাখা হয়েছে। ২০১৩ সালের কাঠামোতে সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন ছিল ৫৩০০ টাকা। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, সংশোধিত এই কাঠামো গত ডিসেম্বর থেকেই কার্যকর ধরা হবে। ফেব্রুয়ারির বেতন থেকে তা সমন্বয় করা হবে। ত্রিপক্ষীয় ওই বৈঠক শেষে সচিবালয়ে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান।

এ সময় শ্রমসচিব আফরোজা খান, বাণিজ্য সচিব মফিজুল ইসলাম, পোশাক কারখানা মালিকদের পক্ষে বিজিএমই সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সালাম মুর্শেদী এমপি, আতিকুর রহমান, শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, এ কে আজাদ এবং শ্রমিকদের পক্ষে নাজমা আকতার, ফজলুল হক মন্টু, আমিররুল ইসলাম আমিন উপস্থিত ছিলেন। এর আগে শ্রম সচিব আফরোজা খানের নেতৃত্বে পোশাক কারখানা মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ বৈঠক শেষে নতুন মজুরি কাঠামো অনুমোদন করে তাতে শ্রমিক নেতারা স্বাক্ষর করেন বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান। বৈঠক শেষে পোশাক মালিকদের পক্ষে শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, গত কয়েক দিনে আন্দোলনের নামে যারা পোশাক কারখানা ভাঙচুর করেছে, তাদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। সম্পদ রক্ষায় সরকারকে সচেষ্ট হতে হবে। সরকার যেন কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেয়। এ সময় পোশাক শ্রমিকদের অনতিবিলম্বে কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এরপর বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘যারা ভাঙচুর করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই কদিনে যে ক্ষতি হয়েছে, তারা (পোশাক শ্রমিক) সবাই উদ্যোগী হয়ে কাজ করে যেন সেটুকু পুষিয়ে দেন।’ বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি নিয়ম অনুসারে নিহত শ্রমিকের পরিবার যে ক্ষতিপূরণ পাবেন, তার সঙ্গে আমি আরো ১ লাখ টাকা দেব।’

শ্রমিকদের পক্ষে জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন বলেন, ‘আগামীকাল (সোমবার) থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেবেন। মজুরি কাঠামো নিয়ে যে অসামঞ্জস্য ছিল, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তা সমাধান হয়েছে। আজকে যে মজুরি ঘোষণা হলো, শুধু মেনে নেওয়া নয়, আমরা স্বাগত জানাই। ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন ধ্বংসাত্মক করা যাবে না। আন্দোলন মানে রাস্তা অবরোধ নয়, কারখানা ভাঙচুর নয়। মালিককে অবরুদ্ধ করা নয়। এই কদিনের আন্দোলনের নামে যারা ধ্বংসাত্মক কর্মকা- করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবেন, তবে কোনোভাবেই কোনো নিরপরাধ শ্রমিক যেন এর শিকার না হয়।’

এ ছাড়া গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি মন্টু ঘোষ, বাংলাদেশ বিপ্লবী গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি সালাউদ্দিন স্বপন, গার্মেন্ট শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি লিমা ফেরদাউস, মজুরি বোর্ডের সাবেক সদস্য সিরাজুল ইসলাম রুমি, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজুলুল হক মন্টু উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বেতন কাঠামোতে বৈষম্যের অভিযোগ এনে পোশাক শ্রমিকদের এক সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি সমাধানে ছয়টি গ্রেডেই মজুরি সমন্বয়ের জন্য গত শনিবার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার রাতে এ সমস্যার সমাধানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সচিব এবং পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নেতাদের গণভবনে ডেকে নেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তাদের সঙ্গে কথা বলে বিরাজমান সমস্যা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের স্বার্থে ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডের পাশাপাশি ১ ও ২ নম্বর গ্রেডের মজুরি সমন্বয়ের নির্দেশ দেন।

পিডিএসও/হেলাল