২০১৯-২০ অর্থবছর

বাজেটের আকার হতে পারে সোয়া ৫ লাখ কোটি টাকা

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:১৯ | আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:৩৬

শাহ্জাহান সাজু
ama ami

আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের কাজ শুরু করেছে সরকার। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ কর্মসূচি সামনে রেখে নতুন বাজেট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এই বাজেটের আকার হতে পারে ৫ লাখ ২২ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা। যা চলতি বাজেটের চেয়ে ৫৮ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা বেশি। নতুন বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত ১০ বছরের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ২০১৯-২০ সালের অর্থবছরের বাজেটের আকার বাড়ানো হচ্ছে। এজন্য প্রায় সোয়া ৫ লাখ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণার প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে ১০ মেগা প্রকল্প ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ ১০ উদ্যোগ বাস্তবায়নে।

সূত্র জানায়, নতুন বিশাল বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। চলতি বাজেটে এ লক্ষ্যমাত্রার পরিমাণ ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। নতুন বাজেটের বিশাল ব্যয় ও আয়ে ঘাটতি থাকছে এ যাবতকালের সর্বোচ্চ ৯৩ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরে রয়েছে ৭১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে দুইভাবে ঋণ আসে। ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে। আগামী অর্থবছরে ব্যাংক খাতের ঋণের ওপর বেশি ঝুঁকছে সরকার। নতুন বাজেটে ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে প্রায় ৬৮ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা রয়েছে। অর্থাৎ আগামী অর্থবছরে চলতি অর্থবছর থেকে ২৬ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা বেশি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা প্রাথমিকভাবে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার টেকসই উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আগামী বাজেট প্রণয়ন হচ্ছে। তাছাড়া বাজেট প্রণয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দুই বছরের মধ্যে রূপকল্প-২১ বাস্তবায়নে। এ সময়ের মধ্যে দারিদ্র্য সম্পূর্ণ দূর করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবে সরকার। গুরুত্ব পাচ্ছে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রূপকল্প-২১ এর মতো ৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন, ৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্ন নিয়ে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা এবং সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সুদীর্ঘ শত বছরের ডেল্টা প্ল্যান (বদ্বীপ) পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে ডেল্টা প্লান-২১০০ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গ্রাম উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এজন্য কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ, গ্রামের সব স্কুল কলেজ আধুনিকায়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়ন, কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার, কৃষি ভর্তুকি বাড়ানো ও উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা, গৃহহীনকে ঘর প্রদান, আধুনিক বাজার ব্যবস্থা চালু, ব্যাংকের শাখা গ্রামে বাধ্যতামূলক চালুকরণ, সহজ শর্তে ব্যাংক হিসাব খোলা ও ঋণপ্রাপ্তি, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ, স্বল্প খরচে ডিশ ও ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান, এলপি গ্যাস সহজলভ্য করা, ভূমিহীনকে খাস জমি বরাদ্দ, সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়িয়ে দারিদ্র্য সম্পূর্ণরূপে দূরীকরণ এবং ‘লাঙল যার জমি তার, জাল যার জলা তার’ নীতি চালুকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে পয়ঃনিষ্কাশন ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে প্রতিটি গ্রামে।

সূত্র জানায়, বিদেশি ঋণ ও অনুদান নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অর্থে বাজেট প্রণয়নে জোর দিচ্ছে বর্তমান সরকার। এজন্য কর রাজস্ব বাড়াতে ব্যাপক সংস্কার আনা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনসহ চার খাতে সংস্কার আনা হতে পারে। এ প্রসঙ্গে পরামর্শ চেয়ে সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে একটি সারসংক্ষেপে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য সাবেক অর্থমন্ত্রী অনুমোদন দিয়ে গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

পিডিএসও/হেলাল