ছাড়ের ছড়াছড়ি তবু নেই ক্রেতা

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:৫৩

পাঠান সোহাগ

বাণিজ্যমেলায় চলছে ছাড়ের ছড়াছড়ি। তবু নেই ক্রেতা। প্রত্যেকটি স্টলে শতকরা ১০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ে পণ্য বিক্রি চলছে। তবুও চাহিদা মাফিক ক্রেতা নেই। দর্শনার্থী আছে কিন্তু ক্রেতা কম। সকল দর্শনার্থী এখনো ক্রেতা হয়ে উঠতে পারেনি। এমটাই জানালেন স্টল মালিক ও বিক্রয় কর্মীরা। তবে গত শুক্রবারের তুলনায় শনিবারে দর্শনার্থী ও ক্রেতা দুটোই কমেছে। এদিকে মেলার চার দিন অতিবাহিত হলেও বেশ বিছু প্যাভিলিয়ন ও স্টলের কাজ শেষ হয়নি। 

এবারের মেলায় ২৫ দেশের ৫২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এই সব দেশি-বিদেশি পণ্যের মধ্যে রয়েছে পোশাক, পাট ও পাটজাত পন্য, মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিকস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স, গৃহসামগ্রী, চামড়াজাত পণ্য, স্পোর্টস সামগ্রী, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামাইন, ইমিটেশন জুয়েলারি, সিরামিকস, নানা ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড, আসবাবপত্র ও হস্ত ও কারুপণ্য শিল্পজাত পণ্য, ফার্নিচার অন্যতম। এই সকল পন্যই শতকরা ১০ শতাংশ থেতে ৮০ শতাংশ ছাড়ে বিক্রি করছেন বিক্রয় কর্মীরা। 

মেলা পরিচালনা কমিটির কর্মকতারা বলছেন, আমাদের দেশের গ্রাহকদের দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পণ্য ও তাদের সেবার মানের সঙ্গে পরিচিতি করতেই এমন বড় পরিসরে আয়োজন করা হয়। মেলায় দেশি-বিদেশি অনেক দর্শনার্থী থাকে। তারা সকল স্টলগুলো ঘুরে ঘুরে দেখে। পণ্যের গুনগত মান ভাল থাকলে পরবর্তীতে এসব পণ্য আমদানি রপ্তানিতে বড় ভূমিকা রাখে। পণের প্রসারের জন্য সকল প্রতিষ্ঠান বিশাল ছাড়ের ব্যবস্থা রাখে।

সরেজমিনে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দর্শনার্থী, ক্রেতা ও বিক্রয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অলটাইমের ১১ প্যাকেজ চলছে বিশাল ছাড়ে। অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স তাদের তাদের বিভিন্ন অফার দিয়ে আসছে এই মেলায়। প্রিমিও প্লাস্টিক তাদের সকল পণ্যে শতকরা ১৫ শতাংশ ছাড় দিয়েছে। শতরঞ্চি কারুপণ্যে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ ছাড়ে পন্য বিক্রি করছেন। জুট ক্রাফট’স মালিক আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমরাও বিভিন্ন পণ্য শতকরা ৩০ শতাংশ ছাড়ে বিক্রি করছি। লাভের আশায় মেলায় স্টল দেইনি। গ্রাহকের কাছে পন্য পৌঁছে দেওয়াই আমার উদ্দেশ্য।’ 

মেলায় আমিনুল ইসলাম পরিবার নিয়ে এসেছেন। তিনি জানান, ‘বিভিন্ন স্টলে ছাড় চলছে। কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনেছি। পছন্দ হলে আরো কিছু কিনব।’ 

গাবতলি থেকে আসা মিজান মিয়া জানান, ‘ছাড়ের জিনিস সব সময় ভাল হয় না। অনেক দেখে শুনে কিনতে হয়। আমি ওয়াল্টনের একটি টিভি কিনব, দেখা-শুনা চলছে। 

নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম জানান, ‘মেলায় পরিবেশ খুব সন্দর। আমারা সব সময় চেষ্টা করছি মেলার পরিবেশ কিভাবে আরো ভালো রাখা যায়। ক্রেতারা কেনাকাটা করে যেন ভালভাবে বাড়ি ফিরতে পারে এটাই আমাদের লক্ষ্য।’

পিডিএসও/অপূর্ব