কাজ বাকি রেখেই শুরু হয়েছে বাণিজ্য মেলা

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:৫০

পাঠান সোহাগ

কাজ বাকি রেখেই রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অস্থায়ী মাঠে বাণিজ্য মেলা শুরু হয়েছে। বুধবার বাণিজ্য মেলার পর্দা উঠছে। কিন্তু এখনো মেলার প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ বাকি আছে। মেলা প্রঙ্গণের স্টলগুলো পরিপাটি করে সাজানো হয়নি। প্যাভিলিয়ন ও স্টলের মেরামতের কাজ চলছে। আবার কোথাও কোথাও মালামাল সাজিয়ে রাখছে। মেলায় অল্প সংখ্যক দর্শনার্থী ও ক্রেতা সমাগম আছে। তারা মেলায় বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে দেখছেন। কেউ কেউ আবার প্রয়োজনীয় সমগ্রী কিনছেন।  

বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেলার ভেতরের সবগুলোর রাস্তার কাজ এখনো শেষ হয়নি। মেলায় অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের স্টল ও প্যাভিলিয়নের কাজও শেষ করতে পারেনি। অবকাঠামোর কাজ শেষ হলেও ভেতরের সাজসজ্জা সম্পন্ন হয়নি।  কোনো কোনো স্টল ও প্যাভিলিয়নের ভেতরে পণ্য নেওয়াই হয়নি। এছাড়া মেলার ভেতরের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ শেষ করতে পারেনি মেলা আয়োজকরা।

মেলা ঘুরে দেখা যায়, পোশাক ও নিত্য প্রযোজনীয় স্টল ও প্যাভিলিয়ন গুলোতে ভিড় সবচেয়ে বেশি। দর্শনার্থী, ক্রেতারা  ঘুরে ঘুরে দেখছে ও পছন্দের পণ্য কিনছে। মিরপুর বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী সবুজ মিয়া জানান, ‘এক হাজার ২০০ টাকা দিয়ে একটি শীতের কাপড় কিনেছি। আকলিমা মুনসুর জানান, ‘প্লাষ্টিকের কয়েকটি পণ্য কিনলাম।  এর মধ্যে আরএফএল এর জিনিস আছে।,

আবুল খায়ের গ্রুপের প্যাভিলিয়নের সামনে কথা হয়, নিরাপত্তা কর্মী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এই প্যাভিলিয়নটি প্রায় এক মাস ধরে কাজ করছে। কিন্তু এখনো শেষ করতে পারেনি।’ কাজের গতি কম বলে জানান তিনি। আবুল খায়ের গ্রুপের এই প্যাভিলিয়ন তৈরির কাজ করছেন নয়ন, কবিরসহ আরো অনেকেই। তারা জানান, ‘ টুকিটাকি কাজ প্রচুর। দ্রুতগতিতেই কাজ চলছে। তবে দুই দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হয়ে যাবে।’  এর পাশের আরেকটি স্টলে কাজ করছেন মো. আশ্যাফ। তিনি জানান, ‘স্টল মালিক সিন্ধান্ত দিতেই দেরি করেছেন। আমরা সাত দিন কাজ করছি। আর দুই তিন দিনের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।’ এছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের স্টল, প্যাভিলিয়ন নির্মাণের ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের স্টল নির্মাণের কাজ চলছে। এই প্রতিষ্ঠানের কর্মরতরা জানায়, ‘কাঠামো ছাড়া বাকি রয়েছে সকল কাজ। স্টলে পুকুর তৈরি, সাজসজ্জা কিছুই হয়নি। সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে চার পাঁচ দিন লাগবে।’ 

প্রধান ফটকের সামনে রয়েছে ডিজিটাল এক্সপিরিয়েন্স সেন্টার। এখানে দর্শনার্থীরা তাদের  পছন্দের স্টল বা প্যাভিলিয়ন খোঁজে না পেলে সহয়তা পাবে। মেলায় আসা দর্শনার্থীদের জন্য বিশ্রামের ব্যবস্থা রাখছে মেলা কর্তৃপক্ষ। তবে বিশ্রামাগার বা অবসর সময় কাটানোর জন্য বেঞ্চ তৈরির কাজও শেষ হয়নি।

মূল ফটকের সামনে কাউন্টারে টিকিট বিক্রি করছেন সুজন মিয়া। তিনি জানান, ‘প্রতিদিন সকাল ১০টায় শুরু হয়ে চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ৩০ টাকা ও অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ২০ টাকা টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তেমন টিকিট বিক্রি হয়নি। শুক্রবারে দর্শনার্থী ও ক্রেতার সংখ্যা বাড়বে বলে জানান তিনি।

মেলায় প্যাভিলিয়ন, মিনি-প্যাভিলিয়ন, রেস্তোরাঁ ও স্টলের মোট সংখ্যা ৬০৫টি। এর মধ্যে রয়েছে প্যাভিলিয়ন ১১০টি, মিনি-প্যাভিলিয়ন ৮৩টি ও রেস্তোরাঁসহ স্টলের সংখ্যা ৪১২টি।

পিডিএসও/রিহাব