প্রায় ১ কোটি মানুষ কর দেয় : মুহিত

প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২০:০২

অনলাইন ডেস্ক

জনগণকে কর দিতে উৎসাহিত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়োজনে সারা দেশের বিভিন্ন কর অঞ্চলে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলা।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর রমনায় অফিসার্স ক্লাব আঙিনায় এ মেলার উদ্বোধন করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, এক সময় কর দিতে মানুষের অনীহা ছিল। কিন্তু এখন অসংখ্য যুবক এসে মেলায় কর দিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে সারা দেশে ৩৫ লাখ মানুষের আয়কর শনাক্তকারী নম্বর (টিআইএন) রয়েছে। তাদের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন ২০ লাখ। আগামী দুই বছরে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৫ লাখ করার পাশাপাশি ই-টিআইএনধারীর সংখ্যা ৫০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য ঠিক করেছে এনবিআর।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এক সময় দেশে মাত্র ৭ লাখ করদাতার কাছ থেকে আয়কর আদায় করা যেত। সেই সংখ্যা এখন বেড়ে ৩০ লাখের বেশি হয়েছে। এখন বিভিন্নভাবে প্রায় ১ কোটি মানুষ কর দেয়। অনেক ধরনের কর আছে, সব ধরলে ১ কোটি মানুষ আজকে কর দেয়। এটা যথেষ্ট কৃতিত্বের বিষয়। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১ কোটি করদাতা। তবে আমাদের উন্নয়ন যেভাবে ধাবিত হচ্ছে, তাতে ১ কোটি নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নয়। এই ১ কোটির সঙ্গে আরো কয়েক কোটি এখানে যুক্ত হওয়া উচিত।

অর্থমন্ত্রী বলেন, একসময় দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৭০ শতাংশ। তা এখন ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ সবার জন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ২২ শতাংশও কম নয়। ২২ শতাংশ মানে প্রায় ৩ কোটি মানুষ। এই ৩ কোটি মানুষকে এখন আয়-রোজগারের দিক থেকে উপরে ওঠাতে হবে। সেটাই এখন আমাদের জাতীয় লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, দেশে আয়কর দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে কিন্তু তা এখনো জিডিপির ১০ শতাংশের কম। অথচ প্রতিবেশী দেশগুলোতেও এই হার ১৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা গতবারের মতোই আছে।

যাদের বার্ষিক আয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম, তাদের কোনো কর দিতে হবে না। কোনো ব্যক্তি-করদাতার প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্য থাকলে প্রত্যেক সন্তান বা পোষ্যের জন্য তার করমুক্ত আয়সীমা ৫০ হাজার টাকা করে বাড়বে। অর্থাৎ কোনো করদাতার একজন প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্য থাকলে তার করমুক্ত আয়সীমা হবে ৩ লাখ টাকা।

পিডিএসও/তাজ