করসেবা সহজ করতে ‘ভ্যাট ইস্ট’ অ্যাপ চালু

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১২:৪৬

অনলাইন ডেস্ক

করদাতাদের জন্য মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট সেবা সহজ করতে ‘ভ্যাট ইস্ট’ নামে মোবাইল অ্যাপস চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পূর্ব)। এই অ্যাপ দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষ, করদাতা ও ভ্যাট কর্মকর্তা জরুরি কার্যক্রম কোন ধরনের খরচ ছাড়াই দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন।

ভ্যাট কর্মকর্তারা বলছেন, মোবাইল অ্যাপ-ভিত্তিক কার্যক্রম জনপ্রিয়তা পাওয়ায় অ্যাপ-ভিত্তিক প্লাটফরমকে কাজে লাগিয়ে সেবা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে করদাতা-বান্ধব ও সেবাধর্মী পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এই অ্যাপ ব্যবহার করে করদাতা তার বিআইএন সঠিক আছে কিনা তা যাচাই করতে পারবেন। এছাড়া ভ্যাট অফিস বা কোন ভ্যাট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা দাখিল করা যাবে। একইসঙ্গে ভ্যাট অফিসকে কর ফাঁকির তথ্যও প্রদান করা যাবে।

এ বিষয়ে ভ্যাট বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ করদাতা সেবার পরিবেশকে সহজ ও দ্রুততর করেছে। একইসঙ্গে ভ্যাট অফিসের সঙ্গে কায়িক যোগাযোগ হ্রাস পেয়েছে। যা মূলত করদাতার ব্যবসায়িক খরচ কমাচ্ছে। এই আ্যপের মাধ্যমে করদাতা দেশের যেকোন জায়গায় বসে দ্রুততার সঙ্গে সেবা গ্রহণ করতে পারেন বলে তিনি জানান।

তিনি আরো বলেন, নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তিমাত্রই তাকে প্রতি কর মেয়াদের দাখিলপত্র পরের মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ভ্যাট অফিসে দাখিল করতে হয়। কোন করদাতা যাতে তার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ভুলে না যান সেজন্য ১০ তারিখের মধ্যে পর্যায় ক্রমে সব করদাতাকে এসএমএস এবং অ্যাপস নোটিফিকেশনের মাধ্যমে মনে করিয়ে দেওয়া হয়। ১৫ তারিখের মধ্যে দাখিলপত্র পেশে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি অবহিত করা হবে। যেকোনো ব্যক্তি অ্যাপের বিন চেক আইকনে গিয়ে বিআইএন নম্বর দিলে, সেটি সঠিক কিনা তা যাচাই করতে পারবেন। এর মাধ্যমে দেশের সব ভ্যাট, কাস্টম ও আয়কর অফিসের ঠিকানা, ফোন নম্বরসহ ঢাকা ইস্ট কমিশনারেটের বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। দাখিলপত্র পেশ করার পর এসএমএস ও নোটিফিকেশনের মাধ্যমে প্রাপ্তি স্বীকার করা হবে।

এছাড়া ভ্যাট কর্মকর্তারা অ্যাপ ব্যবহার করে জরিপ প্রতিবেদন সিস্টেমে আপলোড করতে পারেন। যেমন- করদাতার নাম ও ছবি, তার প্রতিষ্ঠানের নাম ও ছবি, ভৌগোলিক অবস্থান, নাম ঠিকানা, ব্যবসার প্রকৃতি, ব্যবসায়ের আকার, কর প্রদানের তথ্য, ইত্যাদি তাৎক্ষণিকভাবে পরিদর্শনের সময় সিস্টেমে আপলোড করতে পারেন। এতে করদাতা জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা ও তথ্য সংরক্ষণ, মনিটরিং সহজ ও অধিক কার্যকরী হচ্ছে। স্পট এসেসমেন্ট অপশনটি ব্যবহার করে ভ্যাট কর্মকর্তারা স্পট এসেসম্যান্টের কাজটি সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করতে পারেন। করদাতার তথ্য হালনাগাদ, ভ্যাট ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে নির্ভুলভাবে ভ্যাটের পরিমাণ নির্ধারণ, আইন-কানুন, বিধিবিধান, ফরম ইত্যাদি ডাউনলাড করতে পারবেন।

তিনি বলেন, অ্যাপটি বর্তমানে শুধু অ্যান্ড্রয়েড প্লাটফরমে পরিচালিত হচ্ছে। খুব দ্রুত তা আইওএস এবং উইন্ডোজ ফোন ব্যবহারকারীরা অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পিডিএসও/তাজ