আস্থা ফিরতে শুরু করেছে বিদেশি ক্রেতাদের

অক্টোবরে রফতানিতে প্রবৃদ্ধি ৩১ শতাংশ

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ১৫:২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক কারখানার সংস্কার ইস্যুতে ভালো অগ্রগতি হয়েছে। আর এতে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। অন্যদিকে সম্প্রতি বিশ্ব অর্থনীতির দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা চীনের বাইরে বিকল্প বাজার খোঁজা শুরু করেছে। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের একটি অংশ বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ বাড়াতে শুরু করেছে। এর সুফল দেখা যাচ্ছে রফতানি বাণিজ্যের চিত্রে।

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম চার মাস জুলাই থেকে অক্টোবর সময়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রফতানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে ১ হাজার ২১৩ কোটি ডলারের সমপরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রফতানি হয়েছে ১ হাজার ৩৬৫ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল ১ হাজার ১৫১ কোটি ডলারের পণ্য। অর্থাৎ গত চার মাসে রফতানি বেড়েছে ২১৪ কোটি ৫৯ লাখ ডলার বা প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানা গেছে।

অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, রফতানির এই উল্লম্ফন দেশের অর্থনীতির জন্য খানিকটা স্বস্তি বলেই মনে করছেন তারা। অন্যদিকে উদ্যোক্তারা বলছেন, বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা বাড়ানোর বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

এ বিষয়ে বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ফারুক হাসান বলেন, সম্প্রতি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক ক্রেতাদের একটি অংশ চীন থেকে আমদানি কমিয়ে অন্য দেশে নিয়ে যাচ্ছে। এর একটি অংশ আমরা পাচ্ছি।

অন্যদিকে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, নতুন বাজারেও রফতানি বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রথাগত কম দরের পণ্য থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ এখন অপেক্ষাকৃত উচ্চমূল্যের পোশাক রফতানি করছে। বাংলাদেশ এ ধরনের পণ্য চীনের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে সরবরাহ করতে পারছে। ফলে বিশ্বের নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা বাড়াচ্ছে বলে জানান তারা।

ইপিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অক্টোবরে ২৭৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রফতানি হয়েছে ৩৭১ কোটি ডলারের বেশি। আর গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানির পরিমাণ ছিল ২৮৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ রফতানি বেড়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত চার মাসে গার্মেন্টস পণ্য রফতানি বেড়েছে ২০ শতাংশের ওপরে। আলোচ্য সময়ে ১ হাজার ১৬ কোটি ৪৬ লাখ ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে গার্মেন্টস পণ্য রফতানি হয়েছে ১ হাজার ১৩৩ কোটি ৩১ লাখ ডলারের।

গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল ৯৪৩ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের। গার্মেন্টস ছাড়াও রফতানি বৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে কৃষিপণ্য ৮০ শতাংশ, প্লাস্টিক পণ্য ৩৩ শতাংশ, কাঠ জাতীয় পণ্য ৫৯ শতাংশ, হস্তশিল্প ৫১ শতাংশ, বিশেষায়িত টেক্সটাইল ৫২ শতাংশ, হোম টেক্সটাইল ৩ শতাংশ। অন্যদিকে গত চার মাসে বেশ কিছু পণ্যের রফতানি কমেছে। এ তালিকায় রয়েছে চামড়া জাতীয় পণ্য ১৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ, পাটজাতীয় পণ্য ১৬ শতাংশ।

পিডিএসও/তাজ