স্বর্ণ আমদানিতে ভ্যাট আরোপে কমিটি গঠন

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ১২:১৫ | আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ১২:২২

নিজস্ব প্রতিবেদক
ama ami

স্বর্ণ আমদানি ও রফতানিতে কী পরিমাণ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আরোপ যুক্তিযুক্ত হবে তা নির্ধারণে বাণিজ্য সচিবকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। একইসঙ্গে ইতিমধ্যে ভ্যাট ছাড়া যে পরিমাণ স্বর্ণ দেশে চলে এসেছে, সেগুলোকে মূল ধারায় নিয়ে আসতে কী পরিমাণ অর্থ ভ্যাট হিসেবে আদায় করা যায়, সে বিষয়েও সুপারিশ করবে এই কমিটি।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় উপস্থিতি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, বাণিজ্য সচিব সুভাশীষ বসু, অর্থ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার প্রমুখ।

বৈঠক সূত্র জানায়, কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের একজন করে প্রতিনিধি, এনবিআরের একজন ও বাংলাদেশের ব্যাংকের একজন প্রতিনিধি। এ কমিটি ব্যাগেজ রুলসের বিষয়েও মতামত প্রদান করবে। সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটি অর্থমন্ত্রীর কাছে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন জমা দেবেন।

সূত্র জানায়,স্বর্ণ আমদানিতে ভরিতে ১ হাজার টাকা ভ্যাট আরোপ করতে চান অর্থমন্ত্রী। কিন্তু বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ভ্যাটের পরিমাণ আরো কমানোর আবেদন করেছে। এছাড়া ইতোমধ্যেই যেসব স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা ভ্যাট না দিয়ে স্বর্ণ আমদানি করে স্টক করে রেখেছেন, তাদের স্বর্ণ বৈধ করার জন্য ভরিতে ১ হাজার টাকা করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু বাজুস এর হার ৩০০ টাকা করার আবেদন জানায়। এরই প্রেক্ষিতে নতুন গঠিত কমিটিকে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বাজারদর বিশ্লেষণ করে এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত দিতে বলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, এর আগে গত সেপ্টেম্বরে স্বর্ণ নীতিমালা প্রণয়ে তাগিদ দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেন অর্থমন্ত্রী। ওই চিঠিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতি ভরি স্বর্ণ আমদানির ওপর ১ হাজার টাকা করে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আরোপ করা উচিত। আর বর্তমানে যাদের কাছে স্বর্ণ আছে, তাদের কাছ থেকেও প্রতি ভরিতে ১ হাজার টাকা করে নিতে হবে। চিঠিতে স্বর্ণ ব্যবসায়ের আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

এ বিষয়ে তিনি বলেছেন, দেশে কত স্বর্ণ আছে, তার কোনো হিসাব নেই, হিসাবটি করাও যাবে না। তার মতে, এই হিসাব করতে গেলে স্বর্ণের বাজারমূল্য বিবেচনা করে একটি মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। এই মূল্য নির্ধারণের ফলে যাদের কাছে স্বর্ণ আছে, তারা রাতারাতি ধনী হয়ে যাবেন। এই বর্ধিত ধনের ওপর অবশ্য জুতসই লেভি নির্ধারণ করা যায়।

তবে লেভি খুব বেশি ধরলে স্বর্ণের ব্যবসায়ের প্রসার হবে না। তবে অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী লেভি হতে পারে প্রতি ভরিতে ১ হাজার টাকা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) লেভির পরিমাণ ৩০০ টাকা ধরার অনুরোধ জানালেও এত কমের পক্ষে নন অর্থমন্ত্রী। দেশে স্বর্ণ কেনাবেচা হয় ভরি, আনা ও রতি হিসেবে। যেমন ১৬ আনায় ১ ভরি ও ৪ রতিতে ১ আনা। বাণিজ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মানদন্ডে ভরির কোনো অস্থিত্ব নেই।

আর দেশীয় হিসাবে ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রামে ১ ভরি হয়। সেই হিসাবে ১ কেজি স্বর্ণের ওজন হলো ৮৫ দশমিক ৭৩৩ ভরি। বিদেশ থেকে দেশে বেআইনিভাবে প্রচুর পরিমাণে স্বর্ণ আসে এবং সেগুলো আবার ভারতে পাচার হয় এবং এক হিসাবে ভারতের স্বর্ণ ব্যবসায়ের জন্য বড় একটি অংশ বাংলাদেশ থেকে যায় বলে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

ওই চিঠিতে অর্থমন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, বাস্তবতা হলো আমাদের কোনো স্বর্ণ নীতিমালা নেই। তবে এখানে স্বর্ণ আমদানি করা যায়। কিন্তু গত সাত থেকে আট বছরে এক ফোঁটা স্বর্ণও আমদানি হয়নি। আমাদের স্বর্ণকাররা খুবই গুণী এবং তারা স্বর্ণালংকারের একটি সীমিত বাজার পরিচালনা করেন। এসব স্বর্ণই আমাদের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহের স্বর্ণ এবং সেগুলোকে প্রায়ই নতুন করে বানানো হয়।

স্বর্ণ আমদানির ওপর ২০১১ সালে প্রতি আউন্সে (২৮ দশমিক ২৫ গ্রাম) ৩ হাজার টাকা ভ্যাট আরোপ করা হয়েছিল উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রীকে অর্থমন্ত্রী জানান, আগে এই ভ্যাট ছিল ৭০০ টাকা। কিন্তু নতুন ভ্যাট হার আরোপের পর আর কোনো স্বর্ণ আইনগতভাবে দেশে আসেনি। প্রসঙ্গত, গত ৩ অক্টোবর স্বর্ণ নীতিমালা অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা।

পিডিএসও/তাজ