পরিবহন শ্রমিকদের ডাটাবেস তৈরি হচ্ছে

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০১৮, ১১:৪৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

গণপরিবহনের চালক, কন্ডাকটর, সুপারভাইজার ও হেলপারদের তথ্য সংরক্ষণে একযোগে কাজ করছে পরিবহন মালিক সমিতি, বিআরটিএ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এটা একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জঙ্গিবাদসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে এর আগে পুলিশ ‘সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিআইএমএস)’ নামে একটি ডিজিটাল ডাটাবেস তৈরির কার্যক্রম চালিয়েছে। যেখানে দেশের সব নাগরিকের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়।

বিশেষ করে ভাসমান অপরাধী জঙ্গিগোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো বাড়ির মালিক, ভাড়াটিয়া, গাড়ির চালক এবং পরিবারের কাজের লোকসহ সবার ছবিসহ নাম-ঠিকানা নিয়ে পুলিশ সিআইএমএসের তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিয়েছে। সেই ডাটাবেসের আওতায় এবার গণপরিবহনের চালক ও হেলপারদের আলাদা ফরমেটে তথ্য সংরক্ষণে কাজ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, প্রায় দুই বছর ধরে এই তথ্য সংরক্ষণের কাজ করছে পুলিশ। শুরুতে ঢাকা মহানগরীতে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য নিয়ে ডাটাবেস তৈরির কাজে হাত দিয়েছিল পুলিশ। পরে সেই ডাটাবেসের কাজ সারা দেশে শুরু করা হয়। লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের অবস্থান জানতে এবং জঙ্গি ও সন্ত্রাসীরা যাতে কোথাও আস্তানা গড়ে তুলতে না পারে, সে জন্যই প্রথমে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই কার্যক্রম এখনো চলছে। এই ডাটাবেস সম্পূর্ণ শেষ না হলেও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এর সুফল পাচ্ছেন বলেও দাবি পুলিশ কর্মকর্তাদের।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জঙ্গি ও সন্ত্রাসীরা নির্দিষ্ট টার্গেট নিয়ে ভুয়া নাম-ঠিকানা, বাসা-বাড়ি, ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিল। ভাড়া বাড়িকে তারা নিজেদের আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছিল। বর্তমানে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংরক্ষণ থাকায় যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কর্মকান্ডের পর সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হচ্ছে।

সম্প্রতি অনেক দুর্ঘটনার পর এবং অন্য কোনো অপরাধ করে গণপরিবহনের শ্রমিকরা পালিয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে তাদের তথ্য পেতে অনেক বেগ পেতে হয়। এ ছাড়া তারা নিজেরাও যখন দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা যায়, তখন তাদের স্বজনদের খুঁজে পেতে চরম সমস্যার মুখে পড়েন সংশ্লিষ্টরা। সে জন্য সরকার গণপরিবহনের চালক ও হেলপারদের তথ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে কোথাও কোথাও এই কাজ শুরু করে দিয়েছে পুলিশ। মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে ছাড়াও বিআরটিএর মাধ্যমে তাদের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গণপরিবহনে যারা চালক রয়েছে, তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে হয়। সেই ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যুর আগে তাদের সঠিক নাম, ঠিকানা যাচাই করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সুপারভাইজারসহ বাসের চালকের সহকারী হিসেবে যারা কাজ করে, তারাও নিজ নিজ পরিবহন কোম্পানির মাধ্যমে নিয়োগ পেয়ে থাকে। সে জন্য কোম্পানিগুলোকেও চালক ও তার সহকারীদের নাম-ঠিকানা সংরক্ষণে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। এতে করে কোনো অপরাধ করে পালিয়ে গিয়ে লুকিয়ে থাকা সম্ভব হবে না। তারপরও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যাতে অসৎ শ্রেণির ব্যক্তি পরিবহনের চালক, কন্ডাক্টর, সুপারভাইজার ও হেলপার হিসেবে কাজ নিয়ে যাত্রীসেবা বিঘ্নি করতে না পারে। যাত্রীদের সঙ্গে অপরাধে লিপ্ত হতে না পারে। সেই লক্ষ্যেই গণপরিবহনের শ্রমিকদের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে।

বাসমালিক সমিতির দফতর সম্পাদক সামদানি খন্দকার জানান, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের বলা হয়েছে, চালক ও তার সহকারীদের তথ্য নেওয়ার জন্য। তারা তথ্য নেওয়া শুরু করেছেন। তবে পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো তথ্য দেওয়া শুরু করেননি তারা। তা ছাড়া পুলিশ কীভাবে কী করতে চায় সেটাও এখনো বিস্তারিত জানি না।’

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম জানান, আমরা চালক ও তার সহকারীদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছি। সুপারভাইজার, হেলপার ছাড়াও চালকের লাইসেন্সের কপি ও নাগরিক সনদও নেওয়া হচ্ছে। তাদের নাগরিক সনদ, মা, বাবা, স্ত্রী ও স্বজনদের মোবাইল নম্বর ও তাদের মোবাইল নম্বরও রাখা হয়। পুলিশও এসব তথ্য তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে নেওয়া শুরু করেছে।

পুলিশ সদর দফতরের ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এআইজি মোশাররফ হোসেন মিয়াজি জানান, সড়ক নিরাপত্তায় পুলিশ আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতামূলক কাজও চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে গণপরিবহনের শ্রমিকদের তথ্য সংগ্রহেও কাজ শুরু হয়েছে। তবে সেটা একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তা ছাড়া চালকদের যেহেতু লাইসেন্স নিতে হয়, সে জন্য বিআরটিএতে তাদের তথ্য দিতে হয়। সেখানেও তাদের তথ্য রয়েছে। চালকের সহকারীদের তথ্য সংরক্ষণে মালিকপক্ষকে বলা হয়েছে। সবার সঙ্গে সমন্বয় করেই পুলিশ গণপরিবহন শ্রমিকদের তথ্য সংগ্রহ করছে।

মোশাররফ হোসেন মিয়াজি আরো জানান, ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি না চালানো, প্রশিক্ষিত ও দক্ষ চালক নিয়োগ করা ছাড়াও দীর্ঘপথে অতিরিক্ত চালক নিয়োগ করার জন্য মালিকপক্ষকে বলা হয়েছে। হালকা ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে ভারী গাড়ি না চালানো ও নির্ধারিত যানবাহনের জন্য নির্ধারিত ড্রাইভার নিয়োগ করার জন্য বলা হয়েছে। এতে করে বেপরোয়া ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে গাড়ি চালানো এবং হেলপার ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক দিয়ে গাড়ি চালানোও বন্ধ হবে।

পিডিএসও/তাজ