সবজি ও মাছের দাম চড়া

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৮, ১৪:০৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ কমে আসায় বাজারে সব ধরনের শাকসবজির দাম বেড়েছে। তবে নভেম্বরের শুরুতে বাড়বে শীতকালীন সবজির সরবরাহ। ওই সময় দাম কমে আসবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ফুলকপি, বাঁধাকপি ও শিমের মতো শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। তবে দাম চড়া। গড়ে ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই বাজারে। পাশাপাশি ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণে প্রজননকালে ইলিশ ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ করায় বেড়েছে মাছের দামও। তবে স্থিতিশীল রয়েছে মুরগি ও ডিমের বাজার। অন্যদিকে অপরিবর্তিত রয়েছে চাল, ডাল, মসলা ও তেলের দাম। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজার বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

বাজারে দেখা যায়, প্রতি কেজি শসা বিক্রি হয়েছে ৬০-৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০-৫০, বেগুন ৬০-৭০, কচুর ছড়া ৫০-৬০, গাজর ৮০-১০০, ঝিঙে ৫০-৬০, টমেটো ৮০-১০০, শিম ১২০-১৪০, করলা ৫০-৬০, কাঁকরোল ৫০-৬০, লাউ আকার ভেদে প্রতি পিস ৪০-৬০, জালি কুমড়া প্রতি পিস ৩০-৪০, বাঁধাকপি ৫০-৬০, ফুলকপি ৬০-৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া বাড়তি দামে বিক্রি হয়েছে বিভিন্ন শাক।

কলমি শাক প্রতি আঁটি ৭-১০ টাকা, লালশাক ১০-১৫, লাউশাক ৩০-৪০ ও পালংশাক ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। বাজারে পর্যাপ্ত সবজির সরবরাহ থাকলেও বাড়তি দাম কেন— এমন প্রশ্নের জবাবে মহাখালী বাজারের সবজি বিক্রেতা হাসান বলেন, কাঁচামালের বাজার এক দিনের ব্যবধানে দিগুণ হয়ে যায়। বৃহস্পতিবারের চেয়ে গতকাল বাজারে তুলনামূলক কাঁচাপণ্য কম আসায় দাম একটু বেড়েছে। তাছাড়া সারা দেশে বৃষ্টি হওয়ায় শাকসবজির দাম বেড়েছে।

বাজারে কথা হয় আনোয়ারা বেগম নামে এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বাজারে এখন সব ধরনের সবজি থাকলেও দাম কমছে না। সব বিক্রেতা একই দামে সবজি বিক্রি করছেন। পর্যাপ্ত সবজি থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণেই দাম বাড়ছে। যত সমস্যা আমাদের সাধারণ ক্রেতাদের।’

বাজারে মাছের দামও বেশ চড়া। প্রতি কেজি রুই ২২০-৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৫০-১৮০, পাঙ্গাশ ১৫০-১৮০, পাবদা ৫০০- ১০০০, শিং ৫০০-৮০০, চিংড়ি হরিণা ৫৫০-৭০০, বাগদা ৫৫০-৮০০ টাকা, গলদা ৭০০-১৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

এদিকে গতকাল পালিত হয়েছে ২৩ তম ‘বিশ্ব ডিম দিবস’। সাধারণ মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে ডিম। কিন্তু হঠাৎ করেই গত সপ্তাহ থেকে ডিমের দাম বাড়তে শুরু করেছে। প্রতি ডজন হাঁসের ডিম ১৫০-১৬০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ১৬০ টাকা, বয়লার মুরগির ডিম ১০৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি বয়লার মুরগি ১৩০-১৪০ টাকা, লেয়ার ২০০-২৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে গরু মাংসের দাম। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫০০ ও খাসি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অপরিবর্তিত রয়েছে চাল, ডাল, মসলা ও তেলের দাম। প্রতি কেজি মসুর ডাল (দেশি) ১০০ টাকা, মোটা ৭০, মুগডাল ১২০, ভোজ্যতেল প্রতি লিটার খোলা ৯০ টাকা, বোতল ১০৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদা ১০০-১২০ টাকা, রসুন (ইন্ডিয়ান) ৭০, দেশি ৬০, পেঁয়াজ (দেশি) ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, পেঁয়াজ (ইন্ডিয়ান) ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

পিডিএসও/তাজ