তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ব্যাংকিং

সম্ভাব্য মানি লন্ডারিং ঠেকানোর তাগিদ

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০১৮, ১৩:০৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের সম্ভাব্য মানি লন্ডারিং ঠেকাতে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে ব্যাংকার, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং মোবাইল অপারেটরদের একযোগে কাজ করতে হবে। এতে আরো বলা হয়েছে, সারা বিশ্বে এ ধরনের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থায় যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে।

বুধবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ‘মানি লন্ডারিং ভালনারেবিলিটিস ইন নিউ পেমেন্ট সিস্টেমস : বাংলাদেশ কনটেক্সট’ শীর্ষক কর্মশালায় এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্যে আয়োজনের উদ্দেশ্য বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী। তিনি ব্যাংকিং কার্যক্রমে মানি লন্ডারিং ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও জনশক্তি নেই। এদিকে নজর দিয়ে ব্যাংকারাদের দক্ষতা বাড়াতে হবে।

পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থা আইটিনির্ভর হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে শুধু আইটি অফিসারদের নয়, পুরো ব্যাংকিং খাতের কর্মীদের আইটি বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক আইটিতে অনেক এগিয়ে বলে অন্য ব্যাংক তার সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি বলেন, আইন করার সময় ব্যাংকিং অপারেশনে যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকটি বিবেচনায় রাখতে হবে। সুতরাং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে।

ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফারুক মাঈনুদ্দিন আহমেদ বলেন, গ্রাহক এবং ব্যাংকার সব পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে এজেন্টদের সচেতনতা জরুরি। অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমে গতি বাড়লেও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা চালু হয়নি। এটা রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দোহাই দিলে হবে না, সচেতনতা বাড়াতে হবে।

সাউথইস্ট ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাঈনুদ্দিন চৌধুরী বলেন, মানবসম্পদকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি এনবিআর, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, নির্বাচন কমিশন, আইসিটি মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক লিলা রশীদ বলেন, মোট লেনদেনের ৬ শতাংশ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। সাম্প্রতিক এ ধরনের ব্যাংকিংয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আরো নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে আনতে কিছুটা সময় লাগবে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করলে দ্রুত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

আইপে সিস্টেম লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাকারিয়া স্বপন বলেন, বাংলাদেশে ই-আর্থিক সেবা চালু করতে গেলে অনেক হয়রানি হতে হয়। তবে নন-ব্যাংক পেমেন্টের অনেক সুযোগ রয়েছে। চাহিদার বিপরীতে অনেক কম সেবা দিতে পারছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।

এনবিআরের প্রথম সচিব সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে সময় নেই। এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের বিষয়ে আরো সচেতনতা এবং সচেষ্ট হতে হবে।

সমাপনী বক্তব্যে বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, আগামী দিনে ব্যাংকিংব্যবস্থা আরো সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য নতুন পেমেন্ট সিস্টেমের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

পিডিএসও/তাজ