৫ রুটে চালু হবে হাইস্পিড রেল

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৮, ১৩:৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের মানুষকে যাতায়াত ব্যবস্থায় স্বস্তি দিতে রেল খাত উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম প্রধান প্রধান ছয়টি হাইস্পিড রেল চালু করা হচ্ছে। সবার আগে এই রেল চালু হবে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে। যার কাজ বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদে শুরু হতে যাচ্ছে। কারণ বাংলাদেশ রেলওয়ে মনে করে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিরাপদ ভ্রমণের মাধ্যমে দূরত্ব কমিয়ে আনতে হাইস্পিড রেলপথ নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম ছাড়া আরো চার রুটে হাইস্পিড (বুলেট) রেল চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। রুটগুলো হলো— ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-বরিশাল, ঢাকা-খুলনা এবং ঢাকা-দিনাজপুর। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে হাইস্পিড রেলপথ নির্মাণ ও চালুকরণ প্রকল্পগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাই ও সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে লেখা রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের এক চিঠিতে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি রেলমন্ত্রী অর্থমন্ত্রীকে একটি চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন। এর আগে ঢাকা সিলেট রেলপথের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়ে রেলমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী।

রেলমন্ত্রীর চিঠিতে বলা হয়েছে, রেলওয়ের বিদ্যমান নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উপ-আঞ্চলিক রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে দেশের সব মিটারগেজ সেকশনকে পর্যায়ক্রমে ডুয়েলগেজে রূপান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডরের ঢাকা-আখাউড়া লাকসান সেকশনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হচ্ছে। আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে সব লাইনই ডুয়েলগেজে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

রেলের রুটগুলো ডুয়েলগেজে উন্নীত হলে কমপক্ষে ঘন্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে রেল চলাচল করতে পারবে। এতে যাত্রীদের অনেক সময় সাশ্রয় হবে। আর বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২০ বছরের মধ্যে ঢাকা সঙ্গে ছয় রুটে হাইস্পিড রেল স্থাপন করতে পারলে অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে বিভাগীয় শহরগুলোতে যাতায়াত করা সম্ভব হবে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা যায়,বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে ইতিমধ্যে একাধিক সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। চায়না রেলওয়ে ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো গ্রুপ কোম্পানি লিমেিটডকে কন্ট্রাক্ট নেগোসিয়েশন ও কমার্শিয়াল কন্ট্রাক্ট স্বাক্ষরিত হয়েছে। এজন্য জিটুজি ভিত্তিতে রেলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সম্মতিতে ৯ সদস্যের নেগোসিয়েশন কমিটি কাজ করছে। সেই কমিটিকে সহায়তা দিচ্ছে অন্য আরেকটি সাত সদস্যের কমিটি।

জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের সময়ের দূরত্ব কমিয়ে আনতে এই রুটে হাইস্পিড রেলওয়ে স্থাপনের পরিকল্পনা বর্তমান সরকারেরই। ঢাকা থেকে কুমিল্লার লাকসাম হয়ে চট্টগ্রাম গিয়ে পৌঁছাবে এই রেলপথ। এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, ব্রিজ ডিজাইন ও নির্মাণ কাজের জন্য ইতোমধ্যে পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরামর্শক সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত এ প্রকল্পের কাজ শুরু করতে চায় সরকার।

এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যাত্রীরা মাত্র দুই ঘণ্টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছতে পারবেন। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের চুক্তির অংশ হিসেবে প্রকল্পটির নকশা তৈরির কাজ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

পিডিএসও/তাজ