পাহাড়ি টিলায় নাগা মরিচের রাজত্ব

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে রফতানি হচ্ছে নাগা মরিচ

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৮, ১৫:২০

ওমর ফারুক নাঈম, মৌলভীবাজার

নাগা মরিচ। ভীষণ ঝালের কারণে পরিচিত। মৌলভীবাজারে পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে সারি সারি আনারস আর লেবুর গাছ। তারই ফাঁকে সাথী ফসল হিসেবে নাগা মরিচের আবাদ করছেন মৌলভীবাজারের চাষিরা।

পাহাড়ি টিলায় এখন ‘নাগা’ মরিচের রাজত্ব। চাষিদের মুখে সাফল্যের হাসি ফোটাচ্ছে এ মরিচ। হচ্ছে বাণিজ্যিক চাষ। স্থানীয় বাজার ও দেশ বিদেশের ব্যাপক চাহিদার এবং মরিচ ঝাল, ঘ্রাণ আর রং এই তিন গুণেই আকৃষ্ট করে ভোজন রসিকদের। তাই দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে নাগা মরিচ।

নাগা মরিচ বাংলাদেশ এবং নিকটবর্তী ভারতের উত্তর পূর্বাংশের আসাম রাজ্যের হাইব্রিড বা মিশ্র প্রজাতি। এটি ভারতের আসাম, নাগাল্যান্ড ও মণিপুরে, এবং সিলেট অঞ্চলে জন্মায়। মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, বড়লেখা, জুড়ি, কুলাউড়াসহ ৭ উপজেলার পাহাড়ি টিলায় বাড়ির আঙিনায় দিন দিন নতুন করে বিস্তৃত হচ্ছে নাগা মরিচের চাষ। অল্প খরচে স্বল্প জায়াগায় কম পরিশ্রমে অধিক লাভজন এ ফসল চাষে এখন ঝুঁকছেন স্থানীয় চাষিরা।

নাগা মরিচের উৎপাদন যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তেমনি ধীরে ধীরে দেশের গন্ডি পেরিয়ে এখন বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। জেলার সব উপজেলাতেই এ মরিচের চাষ হলেও পাহাড় ও টিলা বেষ্টিত শ্রীমঙ্গলে এর চাষ হয় বেশি। তাই বিভিন্ন জায়গা থেকে চাষিরা নাগা মরিচ নিয়ে আসে শ্রীমঙ্গলের পাইকারি বাজারে। এখান থেকে পাইকারা দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায় তাদের পছন্দের নাগা মরিচ। আর বাচাইকৃত নাগা মরিচ চলে যায় দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে।

শ্রীমঙ্গল পাইকারি বাজার সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার নাগা মরিচ বিক্রি হয় শ্রীমঙ্গল পাইকারি বাজারে। বাংলাদেশের চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য দেশে যায়।

কুলাউড়া উপজেলার নাচনী গ্রামের নাগা মরিচ চাষি আব্দুল হাকিম জানান, সিলেট অঞ্চলে উৎপাদিত নাগা মরিচের দাম দেশের চেয়ে বিদেশে অনেক বেশি। স্থানীয় বাজারে প্রতি ১০০ নাগা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। বিদেশে এর দাম চার-পাঁচ গুণ বেশি। পাইকারি ক্রেতারা তাদের কাছ থেকে হাজার হাজার নাগা মরিচ কিনে নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি করে।

বড়লেখা উপজেলার নাগা মরিচ চাষি আব্দুল আওয়াল জানান, নাগা মরিচ বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চল এবং ভারতের সীমান্তবর্তী আসাম রাজ্যের হাইব্রিড প্রজাতি। এটি বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চল এবং ভারতের মণিপুর, নাগাল্যান্ড, আসাম অঞ্চলে অধিক পরিমাণে চাষাবাদ হয়।

লন্ডন প্রবাসী মো: সাইফুর রহমান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, বৃহত্তর সিলেটের নাগা মরিচ এখন লন্ডনের বিখ্যাত চেইনশপ টেসকোতে পাওয়া যায়। সেখানে নাগা মরিচের জন্য প্রতিদিনই লম্বা লাইন লেগেই আছে।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. শাহজাহান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, মৌলভীবাজার জেলায় প্রায় ৯০ হেক্টর জমিতে নাগা মরিচ চাষ হয়। প্রতি হেক্টর জমিতে ৭টনের উপর নাগা মরিচ উৎপাদন হয়।

প্রাকৃতিক অবস্থা অনুকুলে থাকলে প্রতি একর জমিতে অন্যান্য ফসলের সাথে উৎপাদিত নাগা মরিচ বিক্রি করে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা আয় হয়। প্রতি একরে সর্ব সাকুল্যে খরচ হয় ২০ হাজার টাকার মতো। লাভ বেশি হওয়ার কারণে অনেক লেবু-আনারস বাগান মালিক ওই ফসলের সাথে নাগা মরিচ চাষে দিনে দিনে উৎসাহী হয়ে উঠেছেন।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে পৃথিবীর সবচেয়ে ঝাল মরিচ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া নাগা মরিচের চাহিদা রয়েছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। আর বর্তমানে দেশের গন্ডি পেরিয়ে তা যাচ্ছে বিদেশেও। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অনেক প্রয়োজন বলে মনে করেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

পিডিএসও/তাজ