বেড়েছে সবজির দাম, মাছে স্বস্তি

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:৫৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বাজারে সবজির দাম বেড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ বাজারে সবজির দাম মোটামোটি মানুষের নাগালের মধ্যে ছিল। এখন বেশির ভাগ সবজি কেজিপ্রতি ৪০-৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে বাজারে। কেজিপ্রতি বাড়তি দর ১০ থেকে ২০ টাকা। অবশ্য নতুন আসা শিমের দর আরো চড়া, প্রতি কেজি ১২০-১৩০ টাকা।

সবজি ছাড়া স্থিতিশীল রয়েছে চাল, ডাল, তেলের দাম। বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়লে মাছের দাম কমবে বলে আশা করা হয়েছিল, যদিও সে আশা পূরণ হয়নি। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে এ তথ্য মিলেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি শসা বিক্রি হয়েছে ৫৫ থেকে ৭০ টাকা, গাজর ৮০ থেকে ১১০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। এসব সবজিগুলো গত সপ্তাহে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কম দামে বিক্রি করতে দেখা যায়। অন্যদিকে শিম প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১৩০ টাকা, পটল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুর ছড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা, করলা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, কাঁকরোল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, উচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। এ ছাড়া প্রতি পিস লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বাধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ফুলকপি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।

আশা নামে এক ক্রেতা বলেন, আজ সব সবজির দাম বেশি রাখা হচ্ছে। দুদিন আগে শসা বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। আজ চাওয়া হচ্ছে ৬০ টাকা। অথচ বাজারে কোনো কিছুর ঘাটতি নেই। বিক্রেতা সাব্বির বলেন, দাম বাড়ার ক্ষেত্রে আমাদের হাত নেই। পাইকারি বাজারে দাম বাড়লে খুচরা বাজারেও বাড়বে। আজ পাইকারি বাজারে সব সবজির দাম বেশি।

তবে ইলিশ ছাড়া কম দামেই মাছ বিক্রি করতে দেখা যায় ব্যবসায়ীদের। ইলিশ ৯০০ থেকে ১ কেজি ওজনের হালি ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, ৭৫০ গ্রাম থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি হালি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। এ ছাড়া বাগদা চিংড়ি প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, গলদা ৬০০ থেকে ৮৫০ টাকা, বাতাশা ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, কাতল ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই ২২০ থেকে ৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়।

মসলা জাতীয় পণ্যের দাম কিছুটা কমেছে। বাজারে পেঁয়াজ (দেশি) প্রতি কেজি ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকা, পেঁয়াজ (ভারতীয়) ৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। রসুন (দেশি) ৬০ থেকে ৭০ টাকা, রসুন (ইন্ডিয়ান) ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা দাম আদা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়।

ভোজ্যতেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১০৮ টাকায়, মসুর ডাল ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। চাল নাজির ৬০ থেকে ৮০ টাকা, মিনিকেট ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, মিনিকেট (সিরাজ) ৫৬ থেকে ৬০ টাকা, আটাস ৫০ টাকা, এলসি ৪২ টাকা, মোটা ৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়।

মাংসের দাম আগের মতোই বিক্রি করতে দেখা যায়। এসব বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়, লেয়ার ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায়, গরুর মাংস বিক্রি করতে দেখা যায় ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকায়, খাসির মাংস ৭৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির ডিমের হালি ৩২ টাকা, দেশি মুরগি ও হাঁসের ডিম প্রতি হালি বিক্রি করতে দেখা গেছে ৪৫ টাকায়।

পিডিএসও/তাজ