ক্রেতা-বিক্রেতার স্বস্তি

চাল ডাল স্থিতিশীল, কমেছে মরিচের দাম

প্রকাশ | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:৫০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বাজারে দুই মাসের বেশি সময় ধরে প্রতি কেজি ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচের দাম কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। এখন বাজারে এক কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। একইসঙ্গে কমেছে ফার্মের মুরগি ও ডিমের দাম। এ ছাড়া কয়েক মাস থেকে চাল, ডাল বাড়তি দামে স্থিতিশীল থাকলেও সবজির বাজারে রয়েছে স্বস্তি। গতকাল শুক্রবার কারওয়ান বাজার ও শান্তিনগরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে রাজধানীতে কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। সেই মরিচ এখন ৬০ টাকায় নেমে এসেছে। দাম কমার কারণ হিসেবে তারা বলেন, এখন মরিচের ভরা মৌসুম। এখন না তুললে কিছুদিন পর পেকে যাবে। এ জন্য অধিকাংশ চাষি একসঙ্গে মরিচ তুলছেন। ফলে বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দাম কমে গেছে। গতকাল কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায় ভালো মানের কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি। মরিচের দামের বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মো. আফজাল বলেন, দুই মাসের বেশি সময় ধরে কাঁচামরিচ ১০০ টাকার ওপরে কেজি বিক্রি করেছি। গত সপ্তাহেও মরিচের কেজি ১০০ টাকা ছিল। এখন তা ৬০ টাকায় বিক্রি করছি।

দাম কমার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আড়ত থেকে কম দামে আনতে পারছি এ জন্য বিক্রিও করছি কম দামে। কিছুদিন আগেও আড়তে পছন্দমত মরিচ পাওয়া যেতো না। আর এখন ভালো মানের মরিচ ভরপুর, জোগান অনেক বেড়েছে। এ কারণেই হয়তো আড়তে দাম পড়ে গেছে।

এ ছাড়া বাজারে অন্যান্যা সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পটল ৪০-৪৫, শসা ৫০-৬০, চিচিঙ্গা ৫০, ঢেঁড়শ ৩০-৪০ টাকা, কচুর ছড়া ৫০-৬০, করলা ৪৫-৫০, করলা ৫০-৬০, বরবটি ৬০-৭০, টমেটো ৯০-১০০, গাজর ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া লাউ ৫০-৬০, বাঁধাকপি ৫০-৬০, ফুলকপি ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। তবে বাজারের আর এক দামি সবজি পাকা টমেটোর দাম কিছুটা কমেছে। বাজার ভেদে ৭০-১০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। আগের সপ্তাহে এ সবজিটির কেজি ছিল ১০০-১২০ টাকা।

এদিকে গত সপ্তাহের মতোই দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকা কেজি। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৫-৩০ টাকা কেজি। রসুন (দেশি) ৭০ টাকা, রসুন (ইন্ডিয়ান) ৮০-৯০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি আদা বিক্রি হয়েছে ১৪০-১৫০ টাকা দরে।

তবে স্থিতিশীল রয়েছে ভোজ্যতেল, চাল-ডালের দাম। প্রতি লিটার ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে ১০৮ টাকায়, মসুর ডাল ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। চাল নাজির ৭০ টাকা, মিনিকেট ৬০ টাকা, মিনিকেট (সিরাজ) ৬০ টাকা, ২৯ চাল ৫০ টাকা, ২৮ চাল ৫০ টাকা, মোটা চাল ৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়।

একই অবস্থা মাংসের বাজারেও। বাজারে প্রতি কেজি বয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৪০-১৫০ টাকায়, লেয়ার ২৪০-২৫০ টাকায়। আর গরুর মাংস বিক্রি করতে দেখা যায় ৪৮০-৫০০ টাকায়, খাসির মাংস ৭৮০ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে ডিমের দাম হালিতে ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বয়লার মুরগির ডিমের হালি ৩২ টাকা, দেশি মুরগি ও হাঁসের ডিম প্রতি হালি বিক্রি করতে দেখা গেছে ৪৫ টাকায়।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি রুই ২৩০-৩৫০, কাতল ২৫০-৩৫০, তেলাপিয়া ১৪০-২০০, গলদা চিংড়ি ৫৫০-৮০০, পুঁটি ২০০-৩০০, পাবদা ৪০০-৫০০, দেশি মাগুর ৪০০-৬০০, শোল ৫০০-৭০০, পাঙ্গাস ১৪০-১৬০ এবং চাষের কৈ ২০০-২৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

পিডিএসও/হেলাল