চামড়া কেনা-বেচায় সংকট কাটেনি

প্রকাশ | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:০৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

এবার কোরবানির আগে থেকেই চামড়ার দাম ও কেনা-বেচা নিয়ে সংকট সৃষ্টিসহ এবং এসব নিয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের মধ্যে শঙ্কা ছিল; যার কুফলও দেখা গেছে ঈদের সময়।

সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, কোরবানির চামড়া নিয়ে তৈরি সংকট সবসময় সাময়িকই হয়, এটি কেটে যাবে। তবে এ যুক্তি মানতে নারাজ ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিএইচএসএমএ) দাবি করেছে, ঈদুল আজহার চামড়া নিয়ে তৈরি সংকট সম্পূর্ণ কেটে যাবে। তবে ফড়িয়া ব্যবসায়ী এবং বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) বলছে, সংকট কাটতে আরো সময় লাগবে।

বিটিএ সভাপতি শাহীন আহমেদ জানান, দেশের বাজারে চামড়া নিয়ে সৃষ্ট সংকট দীর্ঘস্থায়ী। এটি একবারে ঠিক করা সম্ভব নয়। প্রতি বছর কোরবানির চামড়া নিয়ে কোনো না কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়। আর এবার কোরবানির চামড়া নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তাতে চামড়া ব্যবসায়ীদের কোনো হাত নেই। তিনি আরো জানান, পাইকারি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ফড়িয়াদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত দামের থেকে কম দামে চামড়া কেনে। ফলে এবার ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত।

কিন্তু আমাদের কাছে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বেশি দামেই চামড়া বিক্রি করেছে বা করছে। তারা ফড়িয়াদের কাছ থেকে প্রতি পিস চামড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় কিনে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করেছে। এর ফলে বেশি দামে চামড়া কিনতে গিয়ে আমাদেরও সমস্যা পোহাতে হয়েছে।

বিটিএ সভাপতি আরো জানান, চামড়াশিল্পে ক্রান্তিকাল চলছে। এবার ৪০ শতাংশ ট্যানারিকে ব্যাংক ঋণ দেওয়া হয়েছে। সাভারে অনেক ট্যানারি তো এখনো নানা সমস্যার কারণে উৎপাদনেই যেতে পারেনি। এই দায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের (বিসিক)। ভুল তথ্য দিয়ে ট্যানারি মালিকদের সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এখানে যে বিনিয়োগ করেছিল ট্যানারি মালিকরা, তা মাঠে মারা গেছে। বার বার সময় বাড়িয়েও এ পরিকল্পিত শিল্পনগরীর কাজ শেষ না হওয়ার দায় বিসিকের। সবকিছু মিলিয়ে চামড়াশিল্পে সংকট দীর্ঘস্থায়ী। আর শিল্পের এমন দশার নেপথ্যে রয়েছে সরকারি সহায়তা না থাকা ও পুঁজি সংকট।

শাহীন আহমেদ বলেন, চামড়াশিল্প দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিল্প। তাই এটিকে আরো সামনের দিকে নিয়ে যেতে হলে সরকারকে আরো আন্তরিক হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। তবে আমি এটিও বলতে চাই না যে সরকার আন্তরিক না। এর পরিমাণ আরো বাড়ানো দরকার। এদিকে চামড়ার দাম এখনো কম হওয়ার কারণে ফড়িয়া ব্যবসায়ী পারভেজ অভিযোগ করে বলেন, পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখনো দাম কম বলার কারণে চামড়া লবণ দিয়ে রেখে দিয়েছি। মার্কেট ভালো হলে ছেড়ে দিব। তবে মার্কেট ঠিক হবে কি না, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই।

অন্যদিকে চামড়া নিয়ে তৈরি সংকট আর থাকবে না বলে জানিয়ে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান হাজি দেলোয়ার হোসেন বলেন, আগামী দু-এক সপ্তাহের মধ্যে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সারাদেশ থেকে আমাদের লক্ষ্যমাত্রার চামড়া আমরা কিনতে সক্ষম হব। মৌসুমি ব্যবসায়ী বা ফড়িয়াদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত যে চামড়া আমরা সংগ্রহ করেছি, তা আমাদের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬০ শতাংশ হবে।

আশা করা যাচ্ছে, আগামী দু-এক সপ্তাহের মধ্যে দাম নিয়ে যে সংকট দেখা দিয়েছিল তা থাকবে না। তবে ট্যানারি মালিকদের কাছে গত বছর যে চামড়া বিক্রি হয়েছিল, তার দাম এখনো পাওয়া যায়নি। সেখানে অনেক ব্যবসায়ীর টাকা এখন পর্যন্ত আটকে আছে বলেও জানান তিনি। এবার সারাদেশ থেকে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ কোটি ২৫ থেকে ৩০ লাখ এবং ঢাকার ভেতরে প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা।

পিডিএসও/তাজ