ডিম-মুরগিসহ সবজির দাম কমেছে

প্রকাশ | ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:৩৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদের আগের তুলনায় রাজধানীর বাজারগুলোতে কমেছে মুরগি ও ডিমের দাম। একই সঙ্গে আগের চেয়ে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে অধিকাংশ সবজি। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, সেগুনবাগিচা, মহাখালী ও বাসাবো কাঁচাবাজার ঘুরে এমন তথ্য জানা গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের পর গত কয়েক দিন রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম কম ছিল। আজ (শুক্রবার) ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় বেড়েছে। ফলে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে অধিকাংশ কাঁচাবাজার। তবে ক্রেতা-বিক্রেতার পাশাপাশি সবজির সরবরাহ বাড়লেও বিক্রি খুব একটা বাড়েনি। ফলে ঈদের আগের তুলনায় সব সবজিই কিছুটা কম দামে বিক্রি হয়েছে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা গেছে, সাদা ব্রয়লার মুরগি ১২০-১৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে; যা ঈদের আগে ১৫০-১৬০ কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। ঈদের আগে ২৫০ টাকার ওপরে বিক্রি হওয়া লাল লেয়ার মুরগি বিক্রি হয়েছে ২০০-২২০ টাকা কেজিতে। আর ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হয়েছে ৯০-৯৫ টাকা ডজন, যা ঈদের আগে ১০০ টাকার বেশি ছিল।

মুরগির দাম কমার বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মো. করিম বলেন, ঈদের আগে সাদা ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করেছি ১৫০ টাকা কেজিতে। এখন সেই মুরগি ১২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি। অধিকাংশ মানুষের বাসায় ফ্রিজে কোরবানির মাংস মজুদ রয়েছে। ফলে মুরগির চাহিদা অনেক কম। এ জন্যই দাম কিছুটা কমে গেছে। ডিমের দামের বিষয়ে মহাখালী কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী মো. সাবু বলেন, ঈদের আগে ডিমের ডজন ছিল ১১০ টাকায়। এখন ৯০ টাকা। ঈদের পর ডিমের চাহিদা কিছুটা কমেছে। ফলে দামও কিছুটা কম।

এদিকে কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সবজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজির মধ্যে বিক্রি হয়েছে। তবে ঈদের আগের মতো এখনো শিম, টমেটো, গাজর, ফুলকপি ও পাতাকপি চড়া দামেই বিক্রি হয়েছে। বেশি দামেই বিক্রি হয়েছে শীতের আগাম সবজি শিম। বাজার ও মানভেদে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি; যা ঈদের আগে ছিল ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। বাজারে ১০০ টাকা বা তার থেকে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। ঈদের আগেও একই দাম ছিল। চড়া দামে বিক্রি হওয়া আর এক সবজি গাজর; যা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হয়েছে। বাজারে ছোট আকারের প্রতি পিস ফুলকপি বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। আর বাঁধাকপি বিক্রি হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা পিস। ঈদের আগে চড়া দামে বিক্রি হওয়া বেগুনের দাম সব থেকে বেশি কমেছে। মান ও বাজারভেদে বেগুন বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি; যা ঈদের আগে ছিল ৬০-৮০ টাকা।

এ ছাড়া দাম কমার তালিকায় রয়েছে উস্তা, বরবটি, কাকরোল, করলা, পটল, ঝিঙা, ধুন্দল, ঢেঁড়স ও লাউ। বাজারভেদে উস্তার কেজি বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি; যা ঈদের আগে ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। ঈদের আগে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বরবটি বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি।

ঈদের আগে ৪ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া চিচিংগা, পটল, ঝিঙা, ধুনদল, কাকরোল বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি। পেঁপে আগের মতো ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। আর ঈদের আগে ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস বিক্রি হওয়া লাউয়ের দাম কমে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কাঁচামরিচের দামও কিছুটা কমেছে। ঈদের আগে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা পোয়া (২৫০ গ্রাম) বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচের দাম কমে ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দাম কমেছে পেঁয়াজেরও। ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজের দাম কমে বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৫-৩০ টাকা কেজি; যা ঈদের আগে ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।

বাজারের ব্যবসায়ী মো. খায়রুল বলেন, বাজারে বেশির ভাগ সবজির দাম কমলেও শিম, টমেটো, গাজর, ফুলকপির দাম চড়াই রয়েছে। কারণ এসব সবজির আলাদা চাহিদা রয়েছে। আবার বাজারে তুলনামূলক সরবরাহও কম। শীতের সবজি পুরোপুরি বাজারে না আসা পর্যন্ত এসব সবজির দাম কমার খুব একটা সম্ভাবনা নেই।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে প্রতি কেজি রুই ২৩০ থেকে ৩৫০, কাতল ২৫০ থেকে ৩৫০, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ২০০, গলদা চিংড়ি ৫৫০ থেকে ৮০০, পুঁটি ২০০ থেকে ৩০০, পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০, দেশি মাগুর ৪০০ থেকে ৬০০, শোল ৫০০ থেকে ৭০০, পাঙ্গাস ১৪০ থেকে ১৬০ এবং চাষের কৈ ২০০ থেকে ২৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়।

পিডিএসও/তাজ