চলছে দরকষাকষি, আজ থেকে জমবে বেচাকেনা

ক্রেতাদের নজর মাঝারি গরুর দিকে

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০৯:৫৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহার বাকি আছে আজসহ তিন দিন। জমে উঠতে শুরু করেছে রাজধানীর পশুর হাটগুলো। তবে গতকাল ব্যাপক বেচাকেনা হয়নি, শুধু দর কষাকষি আর ঘোরাফেরা করেই ফিরে গেছেন ক্রেতারা। আজ থেকেই পুরোদমে জমবে বলে আশা ক্রেতা-বিক্রেতাদের।

দুই সিটির ২৩টি হাটই এখন কোরবানির পশুতে পরিপূর্ণ। ব্যবসায়ীরা জানান, আরো সময় নিচ্ছেন ক্রেতারা। ক্রেতারা বলছেন, এবার গরুর দাম গত বছরের চেয়ে বেশি, তাই যাচাই-বাছাই করে আজ, কাল বা পরশু কোরবানির পশু কিনবেন তারা। তবে হাটে আসা অধিকাংশ ক্রেতার নজর ছিল দেশি মাঝারি গরুর দিকে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর তেজগাঁও পলিটেকনিক্যাল হাটে আসা নাখাল পাড়ার বাসিন্দা জামাল মজুমদার জানান, শুক্রবারও হাটে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু দামে বনিবনা না হওয়ায় ফিরে গেছেন। গতকাল শনিবার এক লাখ ৩০ হাজার টাকায় একটি গরু কিনেছেন, কিন্তু তাতে তৃপ্ত হতে পারছেন না তিনি। তার বক্তব্য, আগেভাগেই গরু না কিনলেই ভালো। কারণ ভারতীয় গরু আসায় শেষ সময়ে দাম কিছুটা কমবে। হাটে গরু-ছাগল নিয়ে বিক্রেতারা যেমন ক্রেতার অপেক্ষা করছিলেন, তেমনি ক্রেতারাও সুলভমূল্যে পশু কিনতে একস্থান থেকে অন্যস্থানে ঘুরছিলেন।

হাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটে মাঝারি সাইজের গরুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি ছোট গরুরও পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। ছোট গরুর সর্বনিম্ন দাম হাঁকা হচ্ছে ৪০-৬০ হাজার টাকা। মাঝারি সাইজের গরুর দাম প্রকারভেদে এক লাখ থেকে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। বড় গরুর দাম হাকাচ্ছেন এক লাখ ৬০ থেকে আড়াই লাখ টাকা।

যশোরের ঝিকরগাছা থেকে মহিবুর রহমান ১২টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। এর মধ্যে তিনি ৮০ হাজার ও ৯০ হাজারে দুটি গরু বিক্রি করেছেন। বাকি ১০ গরু বিক্রির জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি। বসিলা পুলিশ লাইন হাটে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রচুর গরু আমদানি হয়েছে। তবে বিক্রি খুব কম। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থেকে গরু এনেছেন মো. আবদুর রহিম। পাঁচটি গরু নিয়ে আসা আবদুর রহিম বলেন, ‘তিন দিন হলো হাটে এসেছি। একটি গরু আড়াই লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। এখনো চারটি গরু আছে। গরু পালতে যা কিছু দরকার তার সব কিছুরই দাম বেশি। তাহলে আমরা কম দামে কীভাবে গরু বিক্রি করব?’

হাট সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার দেশি গরু ৩০ হাজার থেকে শুরু করে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকানো হচ্ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে হাটের প্রথম দিন হওয়ায় ক্রেতার কমতি নেই। তবে বেচা-বিক্রি কম।

হাটে পাবনা থেকে ৩৬টি গরু নিয়ে এসেছেন জামাল হোসেন। প্রতি গরু দাম হাঁকিয়েছেন দুই লাখ থেকে ৮ লাখ টাকার মধ্যে। বেচাকেনা কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে জামাল বলেন, ইতোমধ্যে দুইটি গরু বিক্রি করেছেন। তার গরু বড় হওয়ায় কম ক্রেতাই দরদাম করছেন।

গতকাল রাজধানীর তেজগাঁও পলিটেকনিক্যাল পশুর হাট ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ওই পশুর হাটে কুষ্টিয়া থেকে ১০টি গরু নিয়ে এসেছেন রহমত উল্লাহ। সবই দেশি গরু। এক-একটির জন্য দাম চাইছেন এক লাখ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এসব গরুর এক-একটিতে চার মণ বা তার কিছুটা বেশি পর্যন্ত মাংস হতে পারে তিনি জানান। তিনি বলেন, ছয় মাস আগে ১০টি গরু পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে কিনেছিলেন তিনি। পরিচর্যা করতে খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। ১০টি গরু ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করেন তিনি। রহমতউল্লাহ বলেন, ‘বাজার আরেকটু দেখতে চাইতেছি। আশা করতাছি, আজ একটা বা দুটা ছাড়তে পারব। বাকিগুলো মঙ্গলবারের মধ্যে ছেড়ে দেব।’

গতকাল তেজগাঁও দেখা গেছে, দেশীয় গরুর চাহিদা বেশি। তার মধ্যে ৪০-৬০ হাজার টাকা দরের ছোট এবং ৮০-৯০ হাজার টাকা দরের মাঝারি গরুর ক্রেতার সংখ্যা বেশি। তবে বেশি দামের গরুর ক্রেতা নেই তা বলা যাবে না। অনেকে এসেছেন বাজারে পশুর উপস্থিতি ও দরদাম পর্যবেক্ষণ করতে। এরপর সময় ও সুযোগ বুঝে সামর্থ্যরে মধ্যে কোরবানির পশুটি কিনে নেবেন। এ প্রসঙ্গে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের গরু খামারি খায়রুল হক বলেন, গত তিন বছর আমরা দেশীয় গরুর খুব ভালো দাম পাইনি। কিন্তু এবার তুলনামূলকভাবে ভারতীয় গরু কম আসায় আশা করছি ভালো দাম পাব। ফলে সরকারের ঋণ পরিশোধ করে পুনরায় বেশি পরিমাণ লোন নিয়ে বড় পরিসরে খামার গড়ে তুলে দেশের গরুর চাহিদা দেশেই মেটাতে পারব।

পিডিএসও/হেলাল