বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক স্থাপনে লাইসেন্স ফি বাড়ছে

৫ হাজার টাকার ফি হচ্ছে আড়াই লাখ টাকা

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১৪:৫৪

শাহ্জাহান সাজু

বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপনের লাইসেন্স ও নবায়ন ফি ৩৬ বছর পর বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপনের লাইসেন্স ও নবায়ন ফি বাড়ানো হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, দেশের যেকোনো স্থানে স্থাপিত বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্ধারিত বার্ষিক লাইসেন্স ফি বর্তমানে মাত্র ৫ হাজার টাকা। ১৯৮২ সালে এই ফি নির্ধারণ করা হয়। এটিকে বাড়িয়ে এবার ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হচ্ছে। এটি বর্তমান ফির ৫০ গুণ বেশি। দেশের বিভাগীয়, সিটি করপোরেশন, জেলা, উপজেলা পর্যায়ে যেকোনো ধরনের বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিকের বার্ষিক লাইসেন্স ও নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা রয়েছে। বেডের সংখ্যাভেদে ৪০ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে বিভাগীয় ও সিটি করপোরেশনের ১০-৫০ শয্যাবিশিষ্ট বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ফি ১০ গুণ বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে করা হচ্ছে ৪০ হাজার টাকা। উপজেলা পর্যায়ে এর বার্ষিক ফি হচ্ছে ২৫ হাজার টাকা। একইভাবে ৫১-১০০ শয্যাবিশিষ্ট বার্ষিক ফি ২০ শতাংশ বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে এই ফি করা হচ্ছে ৭৫ হাজার টাকা। উপজেলা পর্যায়ে এর বার্ষিক ফি করা হচ্ছে ৫০ হাজার টাকা।

বিভাগীয় ও সিটি করপোরেশনের ১০১-২৪৯ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের ফি করা হচ্ছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। জেলা পর্যায়ে করা হচ্ছে ১ লাখ টাকা। উপজেলা পর্যায়ে করা হচ্ছে ৭৫ হাজার টাকা। বিভাগীয় ও সিটি করপোরেশনে অবস্থিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের বার্ষিক ফি করা হচ্ছে ২ লাখ টাকা। জেলা পর্যায়ে করা হচ্ছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। উপজেলা পর্যায়ে করা হচ্ছে ১ লাখ টাকা।

জানা যায়, ডায়াগনস্টিক ল্যাব ক্যাটাগরি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক লাইসেন্স এবং নবায়ন ফিও বাড়ছে। প্রকারভেদে এই ফি বাড়ানো হচ্ছে সর্Ÿোচ্চ ৫০ গুণ। এ ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ডায়াগনস্টিক ল্যাব ক্যাটাগরি-এ (যেসব সেন্টার রুটিন প্যাথলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, হেমাটোলজি, এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, হিন্টোজাবলোজি, মাইক্রোবায়োলজি, ইমিউনোলজি, হরমোন পরীক্ষা অন্যান্য রেডিওলজি ও ইমেজিং, সিটিস্ক্যান এবং এমআরআই) বর্তমানে লাইসেন্স ও নবায়ন ফি রয়েছে মাত্র ১ হাজার টাকা।

এখন এটি বিভাগীয় বা সিটি করপোরেশন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে করা হচ্ছে যথাক্রমে ৫০ হাজার, ৪০ হাজার এবং ২৫ হাজার টাকা। একইভাবে বি ক্যাটাগরির ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জন্য এই ফি হবে এলাকাভেদে বিদ্যমান ১ হাজার টাকার পরিবর্তে ৩৫ হাজার, ২৫ হাজার এবং ২০ হাজার টাকা। সি ক্যাটাগরির জন্য ২৫, ২০ এবং ১৫ হাজার টাকা। বিদেশ গমনের উদ্দেশে স্থাপিত মেডিকেল চেকআপ সেন্টার স্থাপন ও নবায়ন ফি বিদ্যমান ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হচ্ছে। একইভাবে ডেন্টাল ক্লিনিক স্থাপন ফি ও নবায়ন ফি ১ হাজার পরিবর্তে করা হচ্ছে এলাকাভেদে ৩০, ২৫ ও ২০ হাজার টাকা।

সূত্র আরো জানায়, ডায়াগনস্টিক ল্যাবকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে ফি বাড়ানো হচ্ছে। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে রুটিন প্যাথলজি, বায়োকেমেস্ট্রি, হেমাটোলজি পরীক্ষা, এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, হোস্টা প্যাথলজি, মাইক্রোবায়োলজি, ইমউনোলজি, হরমোন পরীক্ষা, অন্যান্য রেজিওলজি ও ইমেজিং সেবা, সিটিস্ক্যান এবং এমআরআই। বর্তমানে এগুলোর নির্ধারিত লাইসেন্স ফি রয়েছে ১ হাজার টাকা।

জানা যায়, বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের বর্তমানে যে ফি ধার্য রয়েছে, তা ৩৬ বছর আগের ১৯৮২ সালের। এ সময়ের মধ্যে আর কোনো ফি বাড়ায়নি সরকার। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপট তথা রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য এসব ফি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

পিডিএসও/তাজ