রাজধানীতে ইজারা ছাড়াই বসছে সাতটি পশুর হাট

দুই সিটি রাজস্ব হারাবে ৯ কোটি টাকা

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৮, ০০:৩০

হাসান ইমন

তিনবার দরপত্র আহ্বান করেও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ২২টি হাটের মধ্যে সাতটি অস্থায়ী পশুর হাটের দরপত্র পায়নি। দরপত্র পাওয়া হাটগুলোতে প্রস্তুতি চললেও অন্য হাটের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়নি কর্তৃপক্ষ। তবে একটি মহল দরপত্র না হাওয়া হাটগুলোতে খাস আদায়ের মাধ্যমে পশুর হাট বসানোর চেষ্টা করছে। তবে এতে সিটি করপোরেশন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এ বছর মোট ১৩টি হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর মধ্যে প্রথম দফা দরপত্রে ছয়টি হাটের ইজারা সম্পন্ন হয়। বাকি সাতটি হাটের দরপত্র কিনলেও একটিও জমা না পড়ায় দ্বিতীয় দফা দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় একটি দরপত্রও বিক্রি হয়নি। ফলে তৃতীয় ও শেষ দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এতে সাতটি হাটের মধ্যে মাত্র একটি হাটের বিপরীতে (মেরাদিয়া) দরপত্র জমা পড়ে। হাটটি ৬৮ লাখ ৩০ হাজার টাকায় ইজারা দেয়া হয়। কিন্তু ছয়টি হাটের বিপরীতে তৃতীয় দফায়ও দরপত্র জমা না পড়ায় নিয়মানুযায়ী এ হাটগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি মন্ত্রণালয়। ডিএসসিসির কর্মকর্তারা জানান, তিন দফা দরপত্র আহ্বানের পর ইজারা দেয়া না গেলে তখন খাস আদায় করা হয়। গত বছরও ছয়টি হাট থেকে খাস আদায় করেছিল ডিএসসিসি। এতে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয় সংস্থাটি। এ বছর ইজারা সম্পন্ন না হওয়া হাটগুলোতে খাস আদায়ের প্রস্তুতি চলছে। এতে এ বছরও বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাবে ডিএসসিসি। এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উত্তর খানের ময়নারটেক হাটে কাক্সিক্ষত দরপত্র জমা না পড়ায় এটি চূড়ান্ত করা হয়নি। অন্যদিকে দুই সিটির সাতটি হাটে দরপত্র জমা না দিলেও হাট বসাতে একটি শ্রেণি প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এরা সবাই স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এর মধ্যে ডিএসসিসি এলাকার ব্রাদার্স ইউনিয়ন সংলগ্ন বালুর মাঠ ও কমলাপুর স্টেডিয়ামের আশপাশের খালি জায়গা, আরমানিটোলা খেলার মাঠ ও আশপাশের খালি জায়গা, ধূপখোলা ইস্ট অ্যান্ড ক্লাব মাঠ, দনিয়া কলেজ মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা ও সাদেক হোসেন খোকা মাঠসংলগ্ন ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল ও সংলগ্ন খালি জায়গার হাটগুলোর ইজারা প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। এই হাটগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, শ্রমিকরা হাট প্রস্তুতির কাজ করছে। কমলাপুর স্টেডিয়ামের আশপাশের খালি জায়গায় গিয়ে দেখা গেছে, হাটের গোপিবাগ অংশে ও কমলাপুর রেলওয়ে উচ্চবিদ্যায়ের সামনে দুইটি সুবিশাল গেট তৈরির কাজ প্রায় শেষ। হাটের ভেতরেও বাঁশ, খুঁটি স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ। এছাড়া ব্রাদার্স ইউনিয়নসংলগ্ন বালুর মাঠ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পশুর হাট বসানোর জোর প্রস্তুতি চলছে। হাটের জন্য নির্ধারিত এলাকায় চলছে বাইরে থেকে আনা পশু রাখার বন্দোবস্ত। ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের সামনে দুটি বড় বড় তোরণ নির্মাণের কাজ করছেন শ্রমিকরা। তারা সারি সারি করে বাঁশের খুঁটি ও তাঁবু স্থাপনের কাজ করছেন। বৃষ্টির কবল থেকে রক্ষায় করা হচ্ছে বিশেষ প্রস্তুতি। মোট কথা হাট বসানোর যা যা প্রস্তুতি সবই করা হচ্ছে। অথচ এই হাটটির ইজারা চূড়ান্ত করা হয়নি। এছাড়াও উত্তরের আফতাবনগর হাট বাতিল করলেও সেখানে হাট বসাতে তৎপরতা শুরু করেছে একটি চক্র। এরই মধ্যে বাঁশের খুঁটি স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া শ্যামপুরে আরো একটি অবৈধ হাট বসানোর পাঁয়তারা চলছে বলে জানা গেছে। এসব হাট ইজারা না হওয়ায় দুই সিটি করপোরেশন কমপক্ষে ৯ কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

দক্ষিণের ইজারা হওয়া ৭টি হাট হলো মেরাদিয়া বাজারসংলগ্ন খালি জায়গা, উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘের মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা, জিগাতলার হাজারীবাগ মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা, রহমতগঞ্জ খেলার মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা, কামরাঙ্গীরচর ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধসংলগ্ন খালি জায়গা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন খালি জায়গা, শ্যামপুরসংলগ্ন খালি জায়গা।

এ ব্যাপারে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও হাট মূল্যায়ন কমিটির আহ্বায়ক খান মোহাম্মদ বিলাল বলেন, আমরা এরই মধ্যে সাতটি হাটের ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। বাকি ৬টি হাটের বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য মন্ত্রণালয় পাঠিয়েছি। এই কর্মকর্তা আরো বলেন, ঈদের দিনসহ চার দিনের জন্য হাটের অনুমোদন দেয়া হয়, এর দুই দিন আগে প্রস্তুতি শুরু করতে পারে। ঈদের ছয়-সাত দিন আগে হাট প্রস্তুতি শুরু করতে পারে যাদের অনুমোদন দেয়া হয়েছে শুধু তারা। যেসব হাটের ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি সেগুলোর প্রস্তুতির তো প্রশ্নই আসে না। যারা এমন কাজ করছে তারা অবশ্যই আইন অমান্য করছে। আমরা এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেব।

এদিকে ঢাকার হাটগুলোতে পশু কেনাবেচার জন্য রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকার খামারিরা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু আনতে শুরু করেছেন। এসব গরুর মধ্যে গত কয়েক বছরের মতো এবারো দেশি গরুর সংখ্যা বেশি। হাটের প্রস্তুতি শেষ হলেই চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি অথবা শেষের দিকে কোরবানির পশু হাটে উঠানো শুরু করবেন তারা। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকারদের সঙ্গে যোগাযোগও শুরু করেছেন ইজারাদাররা।

পিডিএসও/রিহাব