বিশেষায়িত হিসাবযন্ত্র ইএফডি ব্যবহার বাধ্যতামূলক হচ্ছে

ভ্যাট ফাঁকি প্রতিরোধ

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৮, ১৫:৪৮

শাহ্জাহান সাজু

রাজধানী ঢাকাসহ সিটি করপোরেশন ও দেশব্যাপী জেলা শহরের ১৩ ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষায়িত হিসাবযন্ত্র (ইলেক্ট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস বা ইএফডি) ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এর ফলে কয়েক লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই যন্ত্রটিকে ব্যবহার করতে হবে। এতে তাদের পণ্য বা সেবা বিক্রয়ে স্বচ্ছতা আসায় মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট ফাঁকির সুযোগ কমে যাবে। অন্যদিকে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত ৯ আগস্ট জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকা এবং ১ ডিসেম্বর থেকে সব জেলা শহরে ইএফডি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহার না করলে বা ব্যবহারে কোনো ধরনের ফাঁকি প্রমাণ হলে ২০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। শুধু তাই নয়, একাধিকবার এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ (বিন লক) করার উদ্যোগও নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, প্রায় ১৩ ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ফাস্টফুডের দোকান, মিষ্টান্ন ভান্ডার, আসবাবপত্রের বিক্রয় কেন্দ্র, পোশাক বিক্রয় কেন্দ্র বা বুটিক শপ, বিউটি পার্লার, ইলেকট্রনিক বা ইলেকট্রিক্যাল গৃহস্থালিসামগ্রীর বিক্রয় কেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার, অভিজাত শপিং সেন্টারের অন্তর্ভুক্ত সব ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, জেনারেল স্টোর বা সুপারশপ, অন্যান্য বড় ও মাঝারি ব্যবসায়ী (পাইকারি ও খুচরা) প্রতিষ্ঠান এবং স্বর্ণকার, রৌপ্যকার ও স্বর্ণ ও রৌপ্যের দোকানদার।

ইসিআরের সঙ্গে এর মূল পার্থক্য হলো এটি এনবিআরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সার্ভারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকবে যার নাম ইএফডি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা ইএফডিএমএস। ফলে যেকোনো বিক্রির তথ্য ইএফডিতে দেওয়া হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা এনবিআরে রক্ষিত সার্ভারে দেখা যাবে। এটি ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অনলাইন বা ইন্টারনেট ব্যবস্থা ও নির্ধারিত সিম থাকবে। প্রত্যেক বিক্রয় তথ্য অনুমোদিত কোডের জন্য এনবিআরে রক্ষিত সার্ভার বা ইএফডিএমএসে যাবে। ইএফডিএমএস থেকে অনুমোদিত কোড পাওয়ার পর বিক্রয়ের লেনদেন কার্যকর হবে।

একটি ইউনিক নাম্বারসহ চালান মুদ্রিত হবে। ওই চালানের কপি ক্রেতাকে দেওয়া হবে এবং ওই নম্বর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও এনবিআরের সংরক্ষিত সার্ভারে থাকবে। ফলে প্রতিদিন কত বিক্রি হয়েছে এবং এর কত ভ্যাট আদায় হলো তা এনবিআর জানতে পারবে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই যদি ভ্যাট ফাঁকিতে হাত মেলায়, তবে এ ব্যবস্থায়ও সুফল মিলবে না। কেননা ইএফডি বাদ দিয়ে হাতে হাতে লেনদেন হলে সেক্ষেত্রে ওই ফাঁকি ধরা কার্যত সম্ভব হবে না।

এ বিষয়ে এনবিআরের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ইএফডি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতায় আনা আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। পরে ধীরে ধীরে স্বচ্ছতা আসবে। এতে ভ্যাট আদায়ও বাড়বে বলে জানান তিনি।

পিডিএসও/তাজ