সব ধরনের সবজির দাম দ্বিগুণ

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০১৮, ১৭:২১ | আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৮, ১৭:৩৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রভাবে সবজির দাম বেড়েছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে সবজির দাম বাড়লেও কিছুটা কমেছে কাঁচামরিচের দাম। এ ছাড়া ডিম এবং মুরগির দাম অপরিবর্তীত রয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও, সেগুনবাগিচা এবং শান্তিনগরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

গত সপ্তাহে এসব বাজারে বেশির ভাগ সবজির কেজি ৩০ টাকার মধ্যে বিক্রি হলেও এখন ৪০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। সবজির এ দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলেন, কয়েকদিন ধরেই টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এতে অনেক চাষির সফলের ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। আবার অনেকে সবজি তুলতে পারছেন না।

এ ছাড়া দাম বাড়ার পেছনে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনেরও কিছুটা প্রভাব রয়েছে বলে জানান তারা। বলেন, অনেকেই সবজি বোঝাই পরিবহন আনতে ভয় পাচ্ছেন। যে কারণে চাহিদার তুলনার বাজারে সবজির সরবরাহ কম। ফলে দাম বেড়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, পটল, ঝিঙা, ধুন্দল, চিচিংগা, কাকরল, ঢেড়স, মিষ্টি কুমড়া, করলাসহ প্রায় সব সবজির দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। গত সপ্তাহে পটল, ঝিঙা, ধুনদল, কাকরল, করলা বিক্রি হয়েছে ২৫-৩০ টাকা কেজি। তবে সবকটির দাম ৪০ টাকা ছাড়িয়েছে। তবে বেগুন ও পেঁপের দাম অপরিবর্তীত রয়েছে। এ দুটি সবজি ২০-৩০ টাকা কেজির মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

গত সপ্তাহে ২০-৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পটলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০-৫০ টাকায়। একই দামে বিক্রি হচ্ছে কাকরল ও করলা। আগের সপ্তাহে এ সবজি দুটির কেজি ছিল ২৫-৩০ টাকা। ঝিঙা ও ধুনদলের দামও বেড়ে ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এ সবজি দুটি ২০-২৫ টাকার মধ্যে পাওয়া গিয়েছিল।

গত সপ্তাহের মতো সবজির মধ্যে বাজারে এখনো সব থেকে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পাকা টমেটো এবং বরবটি। প্রায় সব বাজারেই পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে। গত সপ্তাহেও এ সবজিটির দাম এমনই ছিল। তবে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বরবটির দাম বেড়ে এখন ৫০-৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মো. মিলন মিয়া বলেন, বাজারে এখন সব সবজিই পাওয়া যাচ্ছে, তবে সরবরাহ কিছুটা কম। যে কারণে দাম কিছুটা বেশি। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বেশকিছু খেত নষ্ট হয়ে গেছে। এর সঙ্গে এখন নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে। সবকিছু মিলিয়ে সবজির দাম বেড়ে গেছে।

সবজি তো রাতে বহন করা হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কীভাবে প্রভাব ফেলছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবজির গাড়ি রাতে আসে সে সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলে না এটা ঠিক। কিন্তু অনেক পরিবহন মালিক ভয়ে ঢাকায় সবজি বহন করা পরিবহন পাঠাচ্ছেন না। যে কারণে সবজির সরবরাহ কিছুটা কম।

রামপুরার ব্যবসায়ী মো. কামাল বলেন, অনেক দিন ধরেই বাজারে বেশির ভাগ সবজি ৩০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেছে। কিন্তু এখন সব সবজির দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তবে আড়তে কোনো সবজির ঘাটতি দেখিনি। সবজির দাম বাড়ার প্রসঙ্গে এ ব্যবসায়ী বলেন, আমি যতটুকু বুঝি বৃষ্টির কারণে সবজির দাম বেড়েছে। টানা বৃষ্টি হলে স্বাভাবিকভাবেই সবজির দাম বেড়ে যায়। কিন্তু আজ আড়তে গিয়ে শুনি সবজির পরিবহন কম আসছে।

এদিকে এক মাসের বেশি সময় ধরে কাঁচামরিচ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মরিচের কেজি বিক্রি হয়েছে ১৪০-১৬০ টাকা কেজি। তবে গতকাল শুক্রবার মরিচের দাম কিছুটা কমে ১০০-১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের মতোই ১০৫-১১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে ডিমের ডজন। সাদা বয়লার মুরগি ১৪০-১৫০ টাকা এবং লাল লেয়ার মুরগি ২৫০-২৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহেও মুরগির দাম এমন ছিল।

মরিচের দামের বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মো. জীবন বলেন, মরিচে দাম ১০০ টাকার নিচে আসার সম্ভাবনা কম। বৃষ্টি থামলেও মরিচের দাম কমবে বলে মনে হয় না। কারণ বৃষ্টিতে অনেক মরিচের খেত নষ্ট হয়ে গেছে।

মালিবাগ হাজীপাড়ার ডিম ব্যবসায়ী মো. সাবু বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে ডিমের ডজন ১০৫ টাকা বিক্রি করছি। চাহিদার তুলনায় ডিমের সরবরাহ কম থাকায় ডিমের দাম বেড়ে গেছে। তবে দাম বাড়লেও বিক্রি কমেনি। আগেও যারা ডজন ডজন ডিম কিনতেন, এখনো তারা ডজন ডজন ডিম কিনছেন।

পিডিএসও/তাজ