ডিএনসিসির ২৫৬৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

*কমেছে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা *খরচ কমাতে বাজেট বই করা হয়নি *ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণের উদ্যোগ

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০১৮, ১৮:৫৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ২ হাজার ৫৬৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। যা গত অর্থবছরের তুলনায় ১৮২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বেশি। এ সময় তিনি ১ হাজার ৬৭৮ কোটি ২১ লাখ টাকার সংশোধিত বাজেটও ঘোষণা করেন।  আর চলতি অর্থ বছরের বাজেটে ১ হাজার ৯৬২ কোটি ৮০ লাখ টাকা উন্নয়নখাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা মোট বাজেটের প্রায় ৭৬ শতাংশ। তবে এবছর ডিএনসিসির নিজস্ব আয়ের পরিকল্পনা কমিয়েছে সংস্থাটি। চলতি অর্থবছরে ৮৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে ডিএনসিসি। যা গত অর্থবছরে ছিল ৯৭৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। কারণ হিসেবে প্যানেল মেয়র ওসমান গণি বলেন, রাজস্ব আয়ের অন্যতম প্রধান খাত হোল্ডিং ট্যাক্স। এই হোল্ডিং ট্যাক্সের পূর্নমুল্যায় স্থগিত করায় গত অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০০ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে। যার প্রভাব এই অর্থবছরেও পড়েছে। তবে হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ উঠানো হলে রাজস্ব আয় বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।  সোমবার গুলশান-২-এর ডিএনসিসি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্যানেল মেয়র ওসমান গণি বাজেট ঘোষণা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন-সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেজবাহুল ইসলাম, বিভাগীয় প্রধান ও কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসির ভারপ্রাপ্ত মেয়র বলেন, মেয়র আনিসুল হকের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে আমরা সকলে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা প্রচারণাকে প্রাধান্য না দেয়ার কারণে অনেকে সেসব না জেনে থাকতে পারে। তবে ভবিষ্যতে আমরা প্রচারণাতেও জোর দেবো। 
আরেক প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত মেয়র বলেন, সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা কাজ করছি। তবে এটা আরো কার্যকর করতে ঢাকা দক্ষিণের সঙ্গে একযোগে সমন্বয় সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভবিষ্যতে আমরা একসঙ্গে সমন্বয়ের কাজ করবো।

এছাড়া সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, গতবছরের চেয়ে এবার ডিএনসিসির রাজস্ব আয় বেশি হয়েছে। তবে হোল্ডিংট্যাক্স পূণমূল্যায়ন সরকারি আদেশে বন্ধ করায় রাজস্ব আয় কম হয়েছে। আর সংস্থার আভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে কার্যকর সমন্বয় রয়েছে, তবে এটা আরো কার্যকর করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বিগত বছরগুলোতে বাজেট বই করা হয়েছে, কিন্তু এবছর বই করা হয়নি কেন সাংবাদিকেদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা আভ্যান্তরীন খরচ কমাচ্ছি। সে কারণে বাজেটের বই করা হয়নি। তবে আপনাদের জন্য বাজেট বই করা হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়, রাজধানী সংলগ্ন হরিরামপুর, উত্তরখান, দক্ষিণখান, বাড্ডা, বেরাইদ, ডুমনি, সাতারকুল, ও ভাটারা ইউনিয়ন ডিএনসিসিতে যুক্ত হওয়ায় আয়তন ৮২ দশমিক ৬২ বর্গকিলোমিটার থেকে বেড়ে ১৯৬ দশমিক ২২৮ বর্গকিলোমিটার হয়েছে। এ কারণে নতুন বিশাল এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, মার্কেট নির্মাণ, কবরস্থান উন্নয়ন, মশক নিধন ও দক্ষ বর্জ্যব্যবস্থাপনা গড়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও বলা হয়, ডিএনসিসির টেকসই বর্জ্যব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে আমিন বাজার ল্যান্ডফিলের সম্প্রসারণ করতে ৮২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। আর সম্প্রসারিত এলাকার উন্নয়নে ১ হাজার ৩১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে রিসোর্স রিকভারী ফ্যাসিলিটিজসহ আধুনিক ল্যান্ডফিল নির্মাণের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া সম্প্রসারিত এলাকার ১৮টি ওয়ার্ডের প্রায় ১৬২ কিলোমিটার সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ উন্নয়ন, ২২৩ কিলোমিটার নর্দমা স্থাপন, প্রায় ২৯ কিলোমিটার খাল উন্নয়ন, নগরীকে স্বচ্ছ আলোয় আলোকিত করতে ১১ হাজার ২২৪টি এলইডি বাতি স্থাপন করা হবে।  
ডিএনসিসির বাজেটে নিজস্ব উৎস থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। এরমধ্যে হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ আয়ের টার্গেট ৪০০ কোটি টাকা; যা মোট রাজস্ব আয়ের ৪৭ ভাগ। আর বাজার সালামি বাবদ ৫০ কোটি টাকা, ট্রেড লাইসেন্স বাবদ ৬০ কোটি টাকা, সম্পত্তি হস্তান্তর বাবদ ২০০ কোটি টাকা আয়ের টার্গেট ধরা হয়েছে। উন্নয়ন অনুদান হিসেবে ২০০ কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ এবং সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প থেকে ১ হাজার ৩০কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

ডিএনসিসির বাজেট বক্তৃতায় খাতভিত্তিক ব্যয় বরাদ্দের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, নগরীর বর্জ্যব্যবস্থাপনা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, মশক নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি, পানি ও বিদ্যুৎসহ অন্যান্য খাতে ৪৩৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। সড়ক ও ফুটপাত, ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণা-বেক্ষণে ২৭৮ কোটি, বাজার নির্মাণ ও উন্নয়ন খাতে ৬২ কোটি ২৫ লাখ, কবরস্থান, শ্মশানঘাট ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শেষকৃত্যের উন্নয়ন ও রক্ষণা-বেক্ষণে ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এছাড়া পার্ক ও খেলার মাঠের উন্নয়ন খাতে ৩ কোটি টাকা, পরিবেশ উন্নয়ন খাতে ১৯ কোটি ২০ লাখ, বর্জ্যব্যবস্থাপনা বিভাগের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ৭৮ কোটি, স্বাস্থ্য বিভাগের আওতায় মশক নিয়ন্ত্রণ, মশার ওষুধ ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নতুন অর্থবছরের বাজেটে উন্নয়ন খাতে সর্বমোট ১ হাজার ৯৬২ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

পিডিএসও/রানা