বৃষ্টির কারণে সবজির দাম বেড়েছে

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০১৮, ১০:২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

সবজি বাজারে গিয়ে অনেকটা হতাশ হতে হয়েছে ক্রেতাদের। পটোল, ঝিঙা, ধুন্দল, চিচিঙ্গা, বেগুন, কাঁকরোল, ঢেঁড়স, মিষ্টিকুমড়া, পেঁপে, করলাসহ বিভিন্ন সবজিতে বাজারে ভরপুর। তার পরও গত সপ্তাহের তুলনায় বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ টাকা। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বৃষ্টিকে দুষছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে ৭০-৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পাকা টমেটোর দাম ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৮০-৯০ টাকায়। টমেটোর মতো দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে চিচিঙ্গা, পটোল, ঝিঙা, ধুন্দল, কাঁকরোল, করলা, বরবটি। গত সপ্তাহে এসব সবজি ৩০-৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে এগুলো কিনতে বাড়তি ২০-৩০ টাকা গুনতে হবে ক্রেতাদের। প্রতি কেজি বেগুন কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। আর পেঁপে বিক্রি হয়েছে ৩৫-৪০ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি আঁটি লাউশাক ২৫-৩০ টাকা, লালশাক, পালংশাক ১০-২০ টাকা, পুঁইশাক ও ডাটাশাক ২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা জয়নুল বলেন, গত সপ্তাহে সবজির দাম কিছুটা কম ছিল। কিন্তু এ সপ্তাহে টানা বৃষ্টির কারণে দাম বেড়েছে সব রকম সবজির। আবহাওয়া ঠিক হলে সবজির দামেও পরিবর্তন আসবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, অনেক দিন ধরেই বাজারে বেশির ভাগ সবজি ৩০-৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া গিয়েছিল। তবে এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে সবজির দাম আরো বেড়ে যেতে পারে। বৃষ্টিতে সবজি নষ্ট হয়ে যেতে পারেÑ এমন আশঙ্কায় অনেক চাষি খেতের ফলস তুলে ফেলছেন। ফলে সামনে বাজারে সবজির সরবরাহ আরো কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে নানা অজুহাতে বেড়েই চলছে ডিমের দাম। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। অপরদিকে খুচরা বাজারে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকায়। আর খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১১০-১২০ টাকায়।

ডিমের দামের মতো মাসখানেক ধরে উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়েছে কাঁচামরিচ। বর্তমানে রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ২০০ টাকায়। অর্থাৎ ২৫০ গ্রাম কাঁচামরিচ খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে ৪০-৫০ টাকায়।

অপরিবর্তিত রয়েছে পেঁয়াজের দাম। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪৫-৫০ টাকা কেজি। আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৩০-৩৫ টাকায়। আর আমদানি করা রসুন প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১০০-১১০ টাকা, আর দেশি রসুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে।

মাছ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি রুই ৩৬০-৪০০ টাকা, কাতলা ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-২০০, আইড় ৪০০-৬০০, মেনি মাছ ৪৫০-৫০০, বাইলা ৩৬০-৫০০, বাইম ৪০০-৬০০, গলদা চিংড়ি ৪৫০-৬০০, পুঁটি ১৮০-২০০, পোয়া ৪০০-৬০০, মলা ৩২০-৪০০, পাবদা ৪০০-৫০০, বোয়াল ৪৫০-৫০০, শিং ৪০০-৭০০, দেশি মাগুর ৫০০-৭০০, শোল ৫০০-৭০০, পাঙ্গাস ১৪০-১৬০, চাষের কৈ ২০০-২৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়।

তবে অপরিবর্তিত রয়েছে গরুর মাংসের দাম। প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৫০০ টাকায়। খাসির মাংস ৭০০-৭৫০ টাকা এবং সাদা বয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৫৫-১৬০ টাকা কেজি দরে। আর প্রতি কেজি লাল মুরগি বিক্রি হয়েছে ২২০ টাকা দরে।

পিডিএসও/তাজ