এনবিআরের সনদ ছাড়া বিদেশে অর্থ পাঠাতে পারবে না ব্যাংক

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০১৮, ১৪:৫১

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ইন্টারন্যাশনাল ট্যাক্স উইংয়ের সনদ ছাড়া এখন থেকে কোনো ব্যাংক বিদেশে অর্থ পাঠাতে পারবে না। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনে নিয়োজিত সব ব্যাংককে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বৈত করারোপন পরিহার চুক্তি বলবৎ রয়েছে, সে সকল দেশের প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা ব্যক্তি বাংলাদেশ হতে তাদের অর্জিত অর্থ নিজ দেশে পাঠানোর সময় ব্যাংকগুলোর কাছে দ্বৈত করারোপ পরিহার চুক্তির সুবিধা দাবি করে উৎসে কর কর্তন ব্যতিরেকে/ হ্রাসকৃত হারে উৎসে কর কর্তনপূর্বক বিদেশে অর্থ পাঠিয়ে থাকে।

নির্দেশনায় বলা আছে, অর্থ আইন-২০১৮ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ধারা ৫৬তে এ বিষয়ে সংশোধন আনা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, দ্বৈত কর পরিহার চুক্তির আওতায় কর সুবিধা গ্রহণের আগে এবং বিদেশে অর্থ পাঠানোর আগে ব্যাংকগুলোকে এনবিআরের ইন্টারন্যাশনাল ট্যাক্স উইং থেকে সনদ গ্রহণ করতে হবে।

প্রসঙ্গত, একই ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের আয়ের ওপর যাতে দুই দফা কর দিতে না হয়, সে লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি হয়ে থাকে। ফলে একই অর্থ এক দেশ থেকে অন্য দেশের ক্ষেত্রে হ্রাসকৃত হারে কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে করমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়। বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে এ রকম দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি রয়েছে। তবে এ চুক্তির অপব্যবহার করে অনেক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর ফাঁকি দিতো।

এনবিআর ধারণা করছে, এর মাধ্যমে কোনও ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরকার সঠিক কর আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে সম্প্রতি একটি চিঠি পাঠানো হয় এনবিআরের ইন্টারন্যাশনাল ট্যাক্সেস বিভাগ থেকে। এনবিআর সদস্য কালিপদ হালদার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, এনবিআরের অনুমোদন ছাড়া হ্রাসকৃত হারে বা কর কর্তন ব্যতিরেকে বিদেশে অর্থ পাঠানোর এখতিয়ার ব্যাংকগুলোর নেই।

দ্বৈত করারোপন পরিহার চুক্তির খুঁটিনাটি পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে কোনও ধরণের সুবিধা দেওয়া কিংবা না দেওয়া সংক্রান্ত মতামত দেওয়ার আইনানুগ এখতিয়ার কেবল এনবিআরের।

পিডিএসও/তাজ