গত তিন অর্থবছর

৪ হাজার কোটি টাকার পণ্য জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০১৮, ১৬:০৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত তিন অর্থবছরে বিদেশ থেকে শুল্ক ফাঁকি ও চোরাই পথে আনা প্রায় ৪ হাজার ১৮৬ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের পণ্য আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। তার মধ্যে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১ হাজার ২৫৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১ হাজার ৩০ কোটি ৯২ লাখ টাকা ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৯৬৫ কোটি ৭ লাখ টাকার বিভিন্ন পণ্য আটক করা হয়। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের তৈরি করা এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের ওই প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অবৈধ পথে বিদেশি মুদ্রা, শুল্ক ফাঁকি বা চোরাইভাবে সিগারেট, মোবাইল ফোন, স্বর্ণ, অসত্য ঘোষণায় আমদানিকৃত পণ্য ও বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে যেসব পণ্য বিদেশ থেকে আনা হয়েছে, সেগুলো জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে এই তিন অর্থবছরে ৩ কোটি ১৬ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৫ শলাকা বিদেশি সিগারেট আটক করা হয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৬২ কোটি টাকা।

এছাড়া বিগত এই তিন অর্থবছরে শুল্ক ফাঁকি বা চোরাই পথে বিদেশ থেকে আনা হয়েছে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার ১৫ হাজার ৭৬৯ পিস মোবাইল ফোন, ৪৪০ কোটি ৮৮ লাখ টাকার ৯০৫ দশমিক ৬৮ কেজি স্বর্ণ, ১৭ কোটি ৯ লাখ টাকা মূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা ও বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে আনা হয়েছে ৮৭৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকার পণ্য। অন্যদিকে প্রতিবেদনটির আরেকটি অংশে চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে আটক পণ্যের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

ওই তালিকায় দেখা যায়, এ বছরের বিগত চার মাসে ৩০ কোটি টাকার স্বর্ণ, ১৩ কোটি টাকার বিদেশি সিগারেট, ৩ কোটি টকার মোবাইল ফোন ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার ওষুধ, ৩০ কোটি টাকার বিলাসবহুল ১২টি গাড়ি আটক করা হয়েছে। এছাড়া এই ৪ মাসে বন্ডেড পণ্য থেকে ১২০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে।

এ বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। এরই মধ্যে মানিলন্ডারিংয়ের সঙ্গে যুক্ত কিছু প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এছাড়া দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

পিডিএসও/তাজ