মধ্যপাড়ায় পাথর উত্তোলনে রাজস্ব আয়ের রেকর্ড

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০১৮, ১৬:৫৮

দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামের (জিটিসি) পাথর উৎপাদন বেড়ে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। পাশাপাশি পাথর বিক্রিও বেড়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় বেড়েছে।

জানা গেছে, এখানকার অধিকাংশ পাথর যাচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে। মধ্যপাড়া খনিতে উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি খনি থেকে প্রতি মাসে ১ লাখ ২০ হাজার টন পাথর উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখতে যাচ্ছে এই পাথর খনিটি।

জিটিসি সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাস থেকে মাসিক ১ লাখ ২০ হাজার টন পাথর উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে কাজ চলছে। চলতি মাসের প্রথম দিনে এ খনিতে পাথর উত্তোলন হয়েছে ৪ হাজার ৮০০ টন। গত জুন মাসে ৬২ হাজার ৫০ টন পাথর বিক্রি থেকে মধ্যপাড়া পাথর খনিতে আয় হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি টাকা। খনি কর্তৃপক্ষ জানায়, কয়েক দফা পাথরের দাম বাড়ানো হলেও এর চাহিদা কমেনি। ট্রাকে পাথর পরিবহনে সরকার নির্ধারিত লোড ক্যাপাসিটি করায় খনি থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৫০টি ট্রাকে এই পাথর পরিবহন করা হচ্ছে।

সরেজমিনে পাথর খনি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, খনি গেটের সামনে প্রধান সড়কে কয়েকশত ট্রাক পাথর লোডের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। কথা হয় পাথরের ডিলার মোমিন সরকার, সিদ্দিক হোসেন, নুরে-আলমসহ তাদের কয়কজন প্রতিনিধির সঙ্গে। এ সময় তারা জানান, জিটিসির হাতে পাথরের উত্তোলন বেড়ে যাওয়ায় পাথর বিক্রি বহুগুণে বেড়েছে। পাথর বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় খনি এলাকায় সংশ্লিষ্ট পাঁচ শতাধিক পরিবহন শ্রমিক, পাথর ক্রেতা, ডিলার ও প্রতিনিধিসহ এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রাণচাঞ্চল্য বিরাজ করছে। মধ্যপাড়া লোড-আনলোড শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাদেকুল ইসলাম জানান, জিটিসি মধ্যপাড়া পাথর খনির দায়িত্ব নেওয়ার আগে এর ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। খনি থেকে পাথর উৎপাদন কম হওয়ায় মধ্যপাড়ায় পাথরের ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছিল। বন্ধ হতে বসেছিল এই খনিটি। আমরা চাই যেকোনো মূল্যে পাথর উৎপাদন বৃদ্ধির বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকুক।

খনির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামের (জিটিসি) নির্বাহী পরিচালক জাবেদ সিদ্দিকী জানান, খনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তির বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ছয় মাস পর ২০১৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি খনির দায়িত্বভার গ্রহণ করে ২৪ ফেব্রুয়ারি খনি থেকে পাথর উৎপাদন শুরু করেন তারা। জিটিসি পাথর উৎপাদন শুরু করে কয়েক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় শিফট চালু করে। প্রায় সাত মাসের মাথায় খনির বহুল আকাক্সিক্ষত ৩ শিফট চালু করে প্রতিদিন ৪৫০০ থেকে পাঁচ হাজার টন পাথর উত্তোলন করে খনির পাথর উৎপাদন ইতিহাসে নতুন রেকর্ড তৈরি করেন।

জিটিসির এই কর্মকর্তা আরো জানান, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে বিশ্বমানের অত্যাধুনিক যন্ত্র এবং যন্ত্রাংশ আমদানি করে খনির ভূগর্ভে এসব যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন শেষে নতুন স্টোপ নির্মাণ করা হয়। গত বছরের শেষের দিকে তারা পাথর উত্তোলন শুরু করেন। বেলারুশের প্রায় ৭০ জন খনি বিশেষজ্ঞ, অর্ধশত দেশি প্রকৌশলী ও প্রায় ৭০০ খনি শ্রমিক দিন-রাতে তিন শিফটে উৎপাদন ও খনি উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত থেকে আধুনিক এসব মেশিনপত্র স্থাপনের ফলে দ্রুতগতিতে স্টোপ নির্মাণ সম্ভব হয় এবং উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়। সেসঙ্গে বেড়ে যায় পাথর বিক্রি।

পাথর খনির বর্তমান উৎপাদন ও বিক্রি বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী এস এম নুরুল আওরঙ্গজেব জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ দেশের মেগা প্রকল্পগুলোতে মধ্যপাড়ার পাথর ব্যবহার হচ্ছে। দেশে নির্মাণাধীন মেগা প্রকল্পগুলোতে মধ্যপাড়ার পাথরের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে খনিটি সরকারের লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

পিডিএসও/তাজ