মূলধন ঘাটতি পূরণ

৯ ব্যাংক পেল ১৮৫০ কোটি টাকা

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০১৮, ১৫:২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

মূলধন ঘাটতি মেটাতে কয়েক বছর থেকে ধারাবাহিকভাবে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোকে সরকারি কোষাগার থেকে টাকা দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সদ্যবিদায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকারি ৯ ব্যাংকে দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। সম্প্রতি অর্থ বিভাগের উপসচিব রেদোয়ান আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পরিপত্র জারি করে এ টাকা বণ্টন করে দেওয়া হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পরিপত্রে দেখা গেছে, মূলধন ঘাটতি পূরণ বাবদ সোনালী ব্যাংককে দেওয়া হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা, একইভাবে জনতা ব্যাংককে দেওয়া হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংককে ৩০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংকের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংককে মূলধন ঘাটটি পূরণ বাবদ ৪০০ কোটি টাকা, রাজশাহী কৃষি ব্যাংককে মূলধন ঘাটটি পূরণ ও সুদ ভর্তুকি বাবদ ১৯৯ কোটি ৭৯ টাকা ও গ্রামীণ ব্যাংককে (পরিশোধিত মূলধনের সরকারি অংশ হিসেবে) ২১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া সরকারের বিশেষায়িত ব্যাংক কর্মসংস্থান ব্যাংককে পরিশোধিত মূলধন বাবদ ৫০ কোটি টাকা, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংককে একইভাবে ৯০ কোটি টাকা এবং আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংককে ১০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে ব্যাংকগুলোকে ৪০০ কোটি টাকা অথবা ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশের মধ্যে যা বেশি সেই পরিমাণ অর্থ মূলধন হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়। এদিকে ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মানদ- ব্যাসেল-৩ নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে ১০ শতাংশ ন্যূনতম মূলধনের পাশাপাশি দশমিক ৬২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত মূলধন সংরক্ষণ করতে হয়। গত ডিসেম্বর শেষে ন্যূনতম মূলধন সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে ৯টি ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে দেখা গেছে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে সরকারি-বেসরকারি ৯টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। এই ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা। এদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৬টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ১৭ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি ঘাটতিতে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। এই ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি ৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

মূলধন ঘাটতির দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সোনালী ব্যাংক। এই ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি ৫ হাজার ৩৯৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এছাড়া বেসিক ব্যাংক ২ হাজার ৬৫৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) ৮১৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংক ৬৩৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং জনতা ব্যাংকের ১৬১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে। এর তিন মাস আগে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী সোনালী, জনতা, রূপালী ও বেসিক ব্যাংক এবং বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি) ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা।

জানা গেছে, সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি তৈরি হলে বাজেট থেকে তার জোগান দিতে হয়। জনগণের করের টাকায় বিভিন্ন সময় মূলধন ঘাটতিতে পড়া ব্যাংকগুলোতে অর্থ জোগান দেয় সরকার। তবে করের টাকায় মূলধন জোগানের বরাবরই বিরোধিতা করে থাকেন অর্থনীতিবিদরা। নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের জোগান দেওয়া অর্থ ও মুনাফার একটি অংশ মূলধন হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়। কোনো ব্যাংক মূলধনে ঘাটতি রেখে তার শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে পারে না।

পিডিএসও/তাজ