ডিএনসিসির ১০২৬ কোটি টাকার প্রকল্প

খুঁড়িয়ে চলছে উন্নয়নকাজ, ভোগান্তিতে মিরপুরবাসী

প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০১৮, ১৫:১৪

হাসান ইমন

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় উন্নয়নকাজে ধীরগতির ফলে সীমাহীন দুর্ভোগে আছে নগরবাসী। অপরিকল্পিতভাবে দীর্ঘদিন ধরে একযোগে চলছে নগরীর নর্দমা, ফুটপাত ও সড়ক সংস্কারকাজ। আগাম বর্ষণ ও বর্তমান বর্ষা মৌসুমে এই সংস্কারকাজ নাগরিক জীবনে বয়ে এনেছে সীমাহীন ভোগান্তি।

মিরপুর ১০, ১১, ১২ ও ১৩ নম্বরে ইমপ্রুভমেন্ট অব ড্রেন অ্যান্ড ইমপ্রুভমেন্ট অব রোডস অ্যান্ড ফুটপাতের (আইডিআইপি) প্রকল্পের কাজ চলায় অবস্থা এখন বেশ নাজুক। কাজের ধীরগতির কারণে জলাবদ্ধতা ও যানজটের পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে পথচারীদের চলাচল। আর এজন্য পরিকল্পনার অভাবকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে মেগা প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি অঞ্চলে ১ হাজার ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ইম্প্রুভমেন্ট অব ড্রেন অ্যান্ড ইমপ্রুভমেন্ট অব রোডস অ্যান্ড ফুটপাতের (আইডিআইপি) ৬২টি প্যাকেজের কাজ শুরু করে ডিএনসিসি। এর মধ্যে প্রথম পর্বে ২৬টির কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ৩৬টি প্যাকেজের কাজ চলমান রয়েছে; যা চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

ডিএনসিসির অঞ্চল-২ সূত্রে জানা যায়, (আইডিআইপি) প্রকল্পের আওতায় চলতি বছরের এপ্রিল থেকে মিরপুরে ২২টি প্যাকেজের ফুটপাত, ড্রেনেজ ও সড়ক মেরামতের কাজ শুরু করে ডিএনসিসি; যা ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পের পাঁচ মাস বাকি থাকলেও কাজের তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। কাজের গতি খুব ধীর। যথাসময়ে বাস্তবায়ন নিয়ে রয়েছে সংশয়ও। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও ম্যানহোলের গর্ত খুঁড়ে রাখা হয়েছে। আবার কোথাও রাস্তা কেটে রাখা হয়েছে। কোথাও আবার ড্রেন কেটে মাটি রাস্তায় রাখা হয়েছে। এসব কারণে মিরপুরের বাসিন্দারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে।

এ বিষয়ে ডিএনসিসির অঞ্চল-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী ইনামুল কবির বলেন, এ প্রকল্পের মাত্র ২০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ না শেষ হলেও কিছু কাজ বাকি থাকতে পারে। তবে যথাসময়ে বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। এই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘কাজের ধীরগতির মূল কারণ মিরপুরের অনেক জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল করে বসবাস করছে এলাকার বাসিন্দারা। এগুলো উচ্ছেদ করতে আমাদের বেগ পেতে হচ্ছে এবং বৃষ্টির কারণে থেমে থেমে কাজ করতে হচ্ছে, তাই সময় বেশি লাগছে। আবার অনেক এলাকায় সরু রাস্তার কারণে ট্রাক ঢুকতে না পাড়ায় সময়মতো মাটি সরানো যাচ্ছে না। আমরা মানুষের ভোগান্তির কথা মাথায় রেখেই কাজ করছি। বর্ষায় উন্নয়নকাজ করলে তো একটু ভোগান্তি হবেই। চলতি সপ্তাহ থেকে কাজের গতি বাড়বে।’

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ডিএনসিসির অঞ্চল-২-এর মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ৩ নম্বর রোডে চলছে রাস্তা মেরামত ও ড্রেনেজের কাজ। রাস্তার মাঝখানে বড় করে ম্যানহোলের জন্য গর্ত করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে পথচারীদের জন্য কোনো সতর্ক সংকেত রাখা হয়নি। রাস্তার ওপর ফেলে রাখা হয়েছে ইট, বালু, ম্যানহোলের রিন, সø্যাবসহ প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী। পাশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে রিকশা ও পথচারীরা। যে কোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। মিরপুর ১২ নম্বরের বি ব্লকে রাস্তার ওপর মাটি ফেলে ড্রেনেজের কাজ করছেন নির্মাণশ্রমিকরা। রাস্তা কাটার কিছুক্ষণ পরই আবার বৃষ্টির পানিতে ভরে যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে গর্তের ভেতর পানি জমে থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছে এই এলাকার বাসিন্দারা।

এ ছাড়া মিরপুর ১১, ১২ ও ১৩ নম্বর ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি ব্লকে চলছে সড়ক, ড্রেনেজ ও ফুটপাত নির্মাণের কাজ। রাস্তা কেটে সড়কের ওপরে যেখানে-সেখানে রাখা হয়েছে মাটি, ময়লা-আবর্জনা ও স্লাবসহ নির্মাণসামগ্রী। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদামাটিতে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে এসব সড়ক। খানাখন্দে ভরা এসব সড়কে প্রায় যানজট লেগে থাকে, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে প্রাইভেট কার ও রিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন। এ ছাড়া কালশী, বেনারশি পল্লীসহ অধিকাংশ সড়কের বেহাল অবস্থা।

মিরপুরের বাসিন্দা এল আর বাদল বলেন, এলাকার উন্নয়ন হবে— এটা অবশ্যই খুশির বিষয়। কিন্তু এর জন্য তো একটা সঠিক পরিকল্পনা থাকবে। কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই যে যার মতো করে সব রাস্তা এক সঙ্গে কেটে কাজ করছে। দীর্ঘমেয়াদি এ কাজে এ এলাকার রাস্তাগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোনো রিকশা আসতে চায় না। আর যদি আসেও তা হলে দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হয়। নির্মাণ নীতিমালা না মেনে রাতের আঁধারে নিম্নমানের ইট-সিমেন্ট দিয়ে কাজ করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে এসব রাস্তা কদিন টিকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাঈদ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টির মৌসুমে কাজ চলায় ভোগান্তি একটু হবেই, তবে এর সুফলও তারা পাবে। আমাদের ঠিকাদারদেরও কিছু গাফলতি আছে, যা অস্বীকার করা যাবে না। তবে আমরা সব সময় কাজের মনিটরিং করছি। যদি কেউ অনিয়ম করে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

পিডিএসও/তাজ