এবার মদের ওপর কর কমানোর দাবি

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৮, ১৩:২১

সংসদ প্রতিবেদক

মদের ওপর আরোপিত ট্যাক্স কমানো এবং চাহিবামাত্র মদ বিক্রির লাইসেন্স প্রদানের দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। গতকাল সোমবার সংসদের অধিবেশনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ দাবি তোলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

তিনি বলেন, সারা দেশে মাত্র ৯৬টি অনুমোদিত বার রয়েছে। অথচ এর বাইরে অনেক হোটেল ও রেস্টুরেন্টে মদ বিক্রি হয়। কিন্তু লাইসেন্স না থাকায় তারা সরকারকে ট্যাক্স দেয় না। তাই যারা মদ বিক্রি করছে সবাইকে লাইসেন্স প্রদান করা হোক। পাশাপাশি মদের ওপর আরোপিত ট্যাক্স কমানো হোক।

পূর্তমন্ত্রী বলেন, পর্যটন শিল্প বিকাশে চট্টগ্রাম ছাড়া সব হোটেল ও রিসোর্টকে ৫-১০ বছরের জন্য কর অবকাশ দেওয়া হোক। অবহেলিত এলাকায় শিল্প কারখানা করলে তাতেও কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া হোক। তিনি বলেন, পাঁচ তারকা মানের হোটেল এবং রিসোর্টে হার্ড ড্রিংকসের ব্যবস্থা রাখা হয়। কিন্তু এই হার্ড ড্রিংকসে যে হারে কর আরোপ করা হয়েছে, তা অত্যধিক। এটির ওপর যে হারে ট্যাক্স নেওয়া হয় তাতে বিদেশিরা খুশি না, ফলে বিক্রিও কম হয়।

বর্তমানে সারা দেশে অনুমোদিত বারের সংখ্যা কম জানিয়ে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ বলেন, গুলশান-বনানীতে যেকোনো রেস্টুরেন্টে ডিনার করতে গিয়ে যেকোনো ধরনের ড্রিংকসের অর্ডার করলে ওরা সার্ব করে, কিন্তু তারা কোনো ট্যাক্স দেয় না। কারণ তাদের লাইসেন্স নেই। তাই যারা এসব করছে তাদের বৈধভাবে মদ বিক্রি করার সুযোগ দিলে ট্যাক্স পাওয়া যাবে।

দেশে করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব করে মন্ত্রী বলেন, কমপক্ষে দুই কোটি মানুষকে করের আওতায় আনতে হবে। এই দুই কোটি লোক যদি ২০ হাজার করে টাকা দেয় তাহলে ৪০ হাজার কোটি টাকা আসতে পারে। তিনি ভ্যাট আদায়ে ডিজিটাল ব্যবস্থা করার দাবি জানান। তিনি বলেন, জনগণ ভ্যাট প্রদান করলেও পুরোটা সরকারি কোষাগারে যায় না।

এ কারণে প্রতি বছরই রাজস্ব আদায় ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে ভ্যাট আদায়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। প্রতিটি দোকান এবং সেবা কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক্স ক্যাশ রেজিস্ট্রার চালু করা হোক। এই ক্যাশ রেজিস্ট্রারের সঙ্গে এনবিআরের সম্পর্ক স্থাপন করতে পারলে ট্যাক্স সরাসরি সরকারি সার্ভারে জমা হবে। এতে ভ্যাট আদায় বাড়বে এবং বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। এতে ভ্যাটের হার কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করলেও বর্তমানের তুলনায় চার গুণ বেশি ভ্যাট আদায় হবে।

পিডিএসও/তাজ