কমলাপুরে ঘরমুখী মানুষের ঢল

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৮, ২০:২৬

অনলাইন ডেস্ক

ট্রেনে ঈদযাত্রার চতুর্থ দিন আজ বুধবার কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। তবে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ১২টি ট্রেন দেরিতে স্টেশন ছেড়েছে। যাত্রীদের মধ্যে এ নিয়ে দেখা যায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। গত দুই দিনের তুলনায় বুধবার ভোর থেকেই স্টেশনে মানুষের ভিড় বেশি ছিল।

সড়কপথে যানজটের ঝক্কি এড়াতে অনেকে বিকল্প হিসেবে রেলপথে ভ্রমণ করছেন। গত তিন দিন বেশির ভাগ ট্রেন নির্ধারিত সময়ে প্লাটফর্ম ছেড়েছিল। তবে এদিন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েকটি ট্রেন দেরিতে যাওয়ায় যাত্রীরা কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, ভোর থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ৩০টি ট্রেন কমলাপুর থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। ঈদ স্পেশাল ট্রেনসহ মোট ৫৯টি ট্রেন ছাড়ে কমলাপুর থেকে। রাজশাহী, দেওয়ানগঞ্জ, পার্বতীপুর, লালমনিরহাট ও খুলনার উদ্দেশে পাঁচটি বিশেষ ট্রেন ছেড়ে যায় স্টেশন।

বেলা আড়াইটার দিকে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শনে আসেন। তিনি রাজশাহীগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রামগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেসের যাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘শুধু একটি ট্রেন যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে দেরিতে ছেড়েছে। সেটি হচ্ছে সুন্দরবন এক্সপ্রেস। মাত্র ৫৫ মিনিট দেরি করেছে। বাকি সব ট্রেনই যথা সময়ে কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে গেছে। আমাদের লক্ষ্য যাত্রীদের সেবা দেওয়া।’তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে দেরিতে ছেড়েছে ১২টি ট্রেন।

এদিকে প্রতিদিন তিন লাখ যাত্রী ট্রেনে আসা-যাওয়া করছে বলে রেলমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, ‘রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সেবা দিয়ে ঈদযাত্রা নির্বিঘœ করতে সতর্ক রয়েছে। ট্রেনের ছাদে কিন্তু কোনো যাত্রী নেই। কারণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যাত্রীদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে, ছাদে ওঠা আইনবহির্ভূত। এ বছর যাত্রীরা ছাদে কেউ ওঠেননি। ঈদে রেলওয়ের কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে যাত্রীদের সেবা নিশ্চিতের জন্য। তবে কমলাপুর স্টেশন থেকেই কোনো কোনো যাত্রীকে ছাদে ভ্রমণ করতে দেখা গেছে।

বিমানবন্দর স্টেশন থেকে ট্রেনের ছাদে যাত্রীরা উঠছে— সাংবাদিকদের এমন তথ্যের ব্যাপারে রেলমন্ত্রী জানান, ছাদে ওঠা আইনে নেই। আমরাও সমর্থন করি না। যারা ওঠেন, তারা নিজ দায়িত্ব উঠছেন। যারা উঠছেন, তাদের নিবৃত্ত করা হচ্ছে।

রেলমন্ত্রী বেলা ৩টা ২০ মিনিটে কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যান। একই সময়ে নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেসের স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উপকূল এক্সপ্রেস ৩৭ মিনিট দেরি করে স্টেশন ছাড়ে। 

পিডিএসও/তাজ