রেমিট্যান্সের ওপর ভ্যাট বসানো হয়নি : এনবিআর

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৮, ১৮:০৮ | আপডেট : ১৩ জুন ২০১৮, ২১:৩৬

অনলাইন ডেস্ক

বিদেশ থেকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর কোনো মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট বসানো হয়নি। প্রবাসীরা আড়াই লাখ টাকার বেশি আয় করলে কর দিতে হবে এমন গুজবকে অপপ্রচার জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর।

আগামী অর্থ বছরের বাজেট নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে করারোপের গুজব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষিতে বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি স্পষ্ট করে এনবিআর। এর আগে ফেসবুকে একই বিষয় জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

গত ৭ জুন আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এতে ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো-কমানোর বিষয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি। অর্থাৎ আগের মতোই আয় আড়াই লাখ টাকার বেশি হলেই তাকে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে।

তবে ফেসবুকে গুজব রটেছে যে, দেশের মতো প্রবাসেও আড়াই লাখ টাকার বেশি আয় করলে এবং তা দেশে পাঠালে সেটি করের আওতায় আসবে।

এনবিআর গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ‘২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে বিদেশ থেকে প্রেরিত রেমিটেন্সের উপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আরোপিত হয়েছে মর্মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও গুজব।’

এই গুজব ছড়ানোতে চক্রান্ত দেখছে এনবিআর। তারা বলেছে, ‘দেশের বৈধ রেমিটেন্স প্রবাহ বন্ধ করে হুন্ডির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণের অপপ্রয়াস হিসাবে এ প্রচারণা চালানো হতে পারে।’

জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ এ মুমেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানায়, মূল্য সংযোজন কর আরোপিত হয় পণ্য বা সেবা সরবরাহের উপর। প্রবাসীরা দেশের বাইরে যে সেবা দিয়ে থাকেন তার বিনিময়ে বৈদেশিক মুদ্রা আহরিত হয়। তাদের সব কাজ ভ্যাট আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৩ এর উপ-ধারা ২(ক) মোতাবেক সেবা রপ্তানি হিসাবে বিবেচিত। সুতরাং এ রপ্তানি কার্যক্রম ভ্যাটের আওতা বহির্ভূত।

‘অর্থাৎ রেমিটেন্স সীমা নির্বিশেষে এ খাতের উপর কোন ভ্যাট প্রযোজ্য নয়। তাই প্রবাসীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে যে কোন পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বা রেমিটেন্স প্রেরণ করতে পারেন’- বিজ্ঞপ্তিতে জানায় এনবিআর।

হুন্ডির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠালে তা জাতীয় অর্থনীতিতে কোনো ভূমিকা রাখ পারে না জানিয়ে হুন্ডি পরিহার করতেও সবাইকে অনুরোধ করেছে এনবিআর।

পিডিএসও/তাজ