হঠাৎ বেড়েছে বেগুনের দাম, সবজির বাজারও চড়া

প্রকাশ : ২১ মে ২০১৮, ১১:১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কাঁচাবাজারে গতকাল প্রতি কেজি লম্বা বেগুন বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। অথচ, গত বুধবার তা বিক্রি হয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি বেগুনে বেড়েছে ২৫ থেকে ৪০ টাকা। প্রতি বছর রমজান এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি।

এ ছাড়া দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে শসা, গাজর ও কাঁচামরিচসহ কয়েক ধরনের সবজির। গতকাল সেগুনবাগিচা ও শান্তিনগরের বিভিন্ন বাজার পর্যবেক্ষণ করা হয়। কথা বলা হয় ব্যবসায়ী, ক্রেতাদের সঙ্গে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চলতি মাসের শুরু থকেই বেগুনের দাম বাড়ছে। এপ্রিল মাসে ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া বেগুনের দাম মে মাসের শুরুতেই এক লাফে বেড়ে হয় ৭০ টাকা। আরো কয়েক দফা বেড়ে এখন অনেক বাজারেই ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচা বাজারের ব্যবাসয়ীরা প্রতি কেজি লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন। গোল বেগুন ৬০-৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

বেগুনের এমন দামের বিষয়ে শান্তিনগরের ব্যবসায়ী আফজাল মিয়া বলেন, রোজার সময় বেগুনের দাম কিছুটা বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। এতে বিস্মিত হওয়ার কী আছে? এখন তো ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছু দিন পর বেগুনের কেজি ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। রোজায় বেগুনের দাম বাড়ার কারণ কীÑ এমন প্রশ্নে এই ব্যবসায়ী বলেন, রোজার সময় বেগুনের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। রোজার এক মাসে যে পরিমাণ বেগুনের চাহিদা থাকে, তা দিয়ে বছরের চার-পাঁচ মাসের চাহিদা মেটানো যায়।

বেগুনের দামের বিষয়ে ব্যবসায়ী মো. কামাল হোসেন বলেন, এপ্রিল মাসে লম্বা বেগুন প্রতি কেজি ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হয়। এখন সেই বেগুন ৮০ টাকায় বিক্রি করছি। মূলত রোজার কারণেই বেগুনের এমন দাম। চলতি মাসের শুরু থেকেই বেগুনের দাম বাড়ছে। আমরা আশা করছি রোজা চলে গেলেই বেগুনের দাম আবার কমে যাবে। একই অবস্থা অন্যন্যা সবজিরও। রোজা শুরুর পর থেকেও প্রতিদিনই বাড়ছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম। মাছ-মাংসের বেশি দামের কারণে যারা অন্তত সবজি দিয়ে দিন পার করতেন ভোগান্তিতে পড়েছেন সেসব স্বল্প আয়ের মানুষও।

সবজি বিক্রেতা আবদুস সালাম জানান, শাকসবজির দাম সব সময়ই ওঠানামা করে। কিন্তু রোজা শুরুর সপ্তাহখানেক আগে সবজির বাজারে যেন আগুন লেগেছে। প্রতিদিনই বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে সবজি। আমরাও তো খুচরা বিক্রেতা। যেমন দামে কিনি তেমন বিক্রি করতে হয়।

সবজির মধ্যে ঝিঙা ৭০ টাকা, পটল ৬০, করলা ৬০, চিচিঙ্গা ৬০, পেঁপে ৬০, বেগুন ৮০ ও ঢেঁড়স ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ কেজি ২০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে দামের এ উত্তাপ শাকেও লেগেছে। লালশাক, সবুজ ডাটাশাক, পাটশাক, কলমিশাক বিক্রি হচ্ছে ১০-১৫ টাকা আঁটি, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫-১০ টাকা। আর ২০-২৫ টাকা আঁটি বিক্রি হওয়া পুঁইশাক ও লাউশাক বেড়ে হয়েছে ৩০-৩৫ টাকা। দেশি পেঁয়াজ আগের সপ্তাহের মতো ৪৫-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে আর ভারতীয় ৩৫-৪০ টাকা।

মাছের দামও রমজানের শুরুতেই বেড়ে গেছে বলে জানান মাছ বিক্রেতারা। রামপুরা বাজারে ৫০০ গ্রাম ওজনের এক হালি ইলিশের দাম এক হাজার ৬০০ টাকা, আর ৩৫০ গ্রাম ওজনের এক হালি ইলিশ চাওয়া হচ্ছে এক হাজার টাকা। এই ইলিশ এক সপ্তাহ আগেও হালি প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কমে পাওয়া গেছে।

বড় সাইজের তাজা দেশি রুই কেজি প্রতি ৩৫০ টাকা, একটু ছোট ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৩ থেকে ৫ কেজি ওজনের কাতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। চিংড়ি মাছ বড় ৫০০ টাকা, বাগদা ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কেজিপ্রতি ৪৫০ টাকা দর বেধে দিলেও চাওয়া হচ্ছে ৪৮০ টাকা। যারা দরদাম করে কিনছেন তারা সর্বনিন্ম ৪৭০ টাকায় নিতে পারছেন।

পিডিএসও/তাজ