জলাবদ্ধতা নিয়ে মুখ খুললেন সাঈদ খোকন

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৮, ১৯:০১

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনের সমন্বয়হীনতার স্বীকার করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, জলাবদ্ধতা ও খোঁড়াখুড়িসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ৫৬ সংস্থার প্রতিনিধি সভা আহবান করা হলে দুই তিন জন প্রতিনিধি আসেন। এছাড়া সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এমন কাউকে পাঠানো হয়, যারা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এরমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানের কেউ সভাতে আসেন না। যদি এমন হয়, তাহলে সমস্যাগুলোর সমাধান হবে কিভাবে? বুধবার ডিএসসিসি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে নগর ভবনের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সাবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলালসহ সিটি করপোরেশন কর্মকর্তা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

জলাবদ্ধতা নিরসনে সাঈদ খোকন বলেন, গত দুই বছর আগেও শান্তিনগরে এক ঘন্টা বৃষ্টি হলে  পানি নিষ্কাশন হতে সময় লাগতো ১২-১৫ ঘন্টা। আর এখন টানা ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও শান্তি নগরে পানি জমে না। এছাড়া নাজিমুদ্দিন রোডেরও একই অবস্থা। এখানে ড্রেন নির্মানের কাজ ৯০ শতাংশ শেষ। আশা করি কিছুদিনের মধ্যে বাকি কাজটুকু শেষ হয়ে যাবে। কাজ শেষ  ওই এলাকায় এক ঘন্টা বৃষ্টি হলেও জলাবদ্ধতা হবে না। এছাড়া সিটি করপোরেশনের অন্য এলাকায় জলাবদ্ধতার নিরসনের জন্য ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে। জলাদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশন সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে।

বাসা-বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা বা পূর্ণ বয়স্ক মশা পেলে জেল-জরিমানার ঘোষণা থেকে সরে এসে মেয়র বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকে আমাদের মনিটরিং টিম প্রতিটি ওয়ার্ডে যাবে কোনো বাসায় এডিস মসার লার্ভা পাওয়া গেলে সেটা ধ্বংস করবে। পাশাপাশি বাসাবাড়ির মালিকদের সচেতন করা হবে যেন মশার বংশবিস্তার না ঘটে। এরপর একই ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঘটলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে সিটি করপোরেশন।

এর আগে সাঈদ খোকন তিন বছর পূর্তিতে তার সফলতা তুলে ধরে বলেন, আমাদের দায়িত্বভার গ্রহণকালে করপোরেশনের সমুদয় রাস্তাঘাট ভেঙে-চুরে একাকার হয়ে গিয়েছিল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছিল, মশা মারার ওষুধ একটুও মজুত ছিল না, সড়ক বাতি জ্বলত না। বিদ্যুৎ বিল বকেয়ার কারণে নগর ভবনের বিদ্যুৎলাইন পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এ রকম একটি অবস্থায় করপোরেশন পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নগরবাসীকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা পেয়ে আমরা তিন বছরে নগরীর ভাঙাচোরা বেহাল রাস্তা, ফুটপাত, নর্দমা সংস্কার ও মেরামত, এলইডি বাতি সংযোজন, পাবলিক টয়লেট, পার্ক, খেলার মাঠ, কবরস্থান, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ভবন (এসটিএস) নির্মাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, রাজস্ব উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনে পদক্ষেপ গ্রহণ, সর্বস্তরের নাগরিকদের সচেতন, সম্পৃক্ত ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ডিএসসিসির সার্বিক কর্মকা-ে গতিশীলতা এনেছি। নগরবাসীর আস্থা অর্জন করেছি। ঢাকার নাম গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্তি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আমাদের নিরলস প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে। সময়ের ব্যবধানে নানা ধরনের পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়েছে। আরও দৃশ্যমান হবে।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ডিএসসিসিকে বাসোপযোগী, পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর নগরীরূপে গড়ে তুলতে গত তিন বছরে সরকারি তহবিল থেকে প্রাপ্ত অর্থ (জিওবি) ও নিজস্ব অর্থায়নে নাগরিকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ৪৭৩ কিলোমিটার সড়ক, ১১২ কিলোমিটার ফুটপাত সংস্কার, ৪৬৯ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হয়েছে। আর ২৫৯ কিলোমিটার সড়ক, ২৬১ কিলোমিটার ড্রেন এবং ৫১ কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। রাতের অন্ধকারচ্ছন্ন ঢাকাকে আলোকিত করতে ৩৭ হাজার ৯৭৯টি এলইডি বাতি স্থাপন করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ৪০০ কিলোমিটার নর্দমা পরিস্কার করা হয়েছে। ৩১টি পার্ক ও খেলার মাঠের আধুনিকায়নের কাজ চলছে। এসব মাঠ আগামী বছরের জুনের মধ্যেই উপযুক্ত করা হবে। ধানমন্ডি ২৭ নম্বর থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত সড়কটি উন্নত বিশ্বের শহরের আদলে গড়ে তোলা হবে। এটাকে মডেল সড়ক হিসেবে গণ্য করা হবে। অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে খালের ১২০ একর জমি উদ্ধার করেছে ডিএসসিসি।

পিডিএসও/রানা