করমুক্ত আয়সীমা বাড়ছে

বিদ্যমান আড়াই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা করা হচ্ছে

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৮, ১২:৪০

শাহ্জাহান সাজু

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যে বাজেট দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সেখানে ব্যক্তি ও শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। করমুক্ত আয়সীমা বিদ্যমান আড়াই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা করা হচ্ছে। আগামী ৭ জুন সংসদে বাজেট পেশকালে অর্থমন্ত্রী এই প্রস্তাব দিতে পারেন। এছাড়া কোম্পানির করহারেও পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। কোম্পানির করহারে কিছুটা ছাড় দেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে একে জনতুষ্টির বাজেট বলেই মনে করছেন অনেকে। তবে বাজেট পাস হওয়ার আগপর্যন্ত পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও বলেছেন, মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যথেষ্ট বেড়ে গেছে। এ কারণে করমুক্ত আয়সীমা বাড়াতে যাচ্ছে সরকার। নির্বাচনের বছরে আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই সীমা বাড়ানো হবে, কমানো হবে করপোরেট করহার। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থনীতিবিষয়ক রিপোর্টারদের সংগঠন ইআরএফের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, ধাতব পদার্থ ও কৃষিপণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রয়েছে। তাছাড়া ভাটির দেশ হওয়ায় অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে হঠাৎ বন্যাজনিত ফসলহানির প্রভাবও পড়ে খাদ্যমূল্যে। অন্যদিকে অর্থবছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হলেও অর্থবছরের শেষের দিকে এসে মূল্যস্ফীতির হার সংশোধন করে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এবং দেশে শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর অব্যাহত দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, বর্তমানে সাধারণ করদাতার জন্য করমুক্ত আয়সীমা আড়াই লাখ টাকা। তা ছাড়াও মহিলা ও ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে করদাতার জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ টাকা; (এটি সোয়া ৩ লাখ টাকা করা হতে পারে), প্রতিবন্ধী করদাতার জন্য ৪ লাখ টাকা এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতার জন্য সোয়া চার লাখ টাকা। বর্তমানে সাধারণ ব্যক্তি করদাতার আড়াই লাখ টাকা থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। এর পরবর্তী ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর ২০ শতাংশ, পরবর্তী ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। অর্থাৎ সাড়ে ৪২ লাখ টাকার উপরে আয় হলে তিনি সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ হারে কর দিয়ে থাকেন। করের এই স্তরে কোনো পরিবর্তন আসছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আগামী বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবনা করেছে ডিসিসিআই। সংগঠনটি আগামী বাজেটে করমুক্ত ব্যক্তির আয়সীমা আড়াই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা করার কথা বলেছে। এ বিষয়ে ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেছেন , করমুক্ত আয়সীমা বাড়ালে মানুষের জীবনযাত্রা আরো সহজ হবে।

পিডিএসও/হেলাল