বাজেটে কর্পোরেট কর কমানোর প্রস্তাব এফবিসিসিআই’র

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ১৬:২৭

অনলাইন ডেস্ক

আগামী ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেটে কর্পোরেট কর ২ দশমকি ৫ শতাংশ কমানোর এবং ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই)। এছাড়া সংগঠনটি এবং ব্যক্তিগত করদাতার প্রদর্শিত নিট পরিসম্পদের ভিত্তিতে সারচার্জের শূন্য শতাংশের সীমা বর্তমানের সোয়া ২ কোটি থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়ানোরও প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পারমর্শক কমিটির ৩৯তম সভায় বিভিন্ন প্রস্তাবের সঙ্গে এ প্রস্তাব দেন এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক ও বর্তমান নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিতত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী বছরে বাজেটে নতুন কোন উদ্যোগ নেয়া যায় না। তাই, পুরোনো উদ্যোগগুলোতেই নতুনভাবে জোর দেয়া হবে। এনবিআর এখন জনবান্ধব উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১০ বছরে এনবিআর মানুষের অনেক কাছে এসেছে। এতে করদাতা বেড়ে ৩০ লাখে পৌঁছেছে, যা ১৯৮২ সালে ছিলো মাত্র ৭ লাখ।
শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, দেশের উন্নয়নের গতি আরো ত্বরান্বিত করতে সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পের পাশাপাশি সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলো গতিশীল করা অব্যাহত রাখার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন দেশে বড় ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য আমাদের আরো তহবিল দরকার।
তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে তারা এফবিসিসিআইয়ের দেয়া প্রস্তাবগুলো গ্রহণের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান ২০১৯ সাল থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হবে উল্লেখ করে জানান, ভ্যাট অনলাইন প্রজেক্ট চালু করার লক্ষ্যে সিস্টেম ডেভেলপ করা হচ্ছে। তিনি জানান তারা কর সংক্রান্ত মামলাগুলো বিকল্প বিরোধ মীমাংসা পদ্ধতিতে দ্রুত নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবেন।
অনুষ্ঠানে শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, আসছে বাজেটে ব্যবসায়ীদের স্বার্থে আয়কর, আমদানি শুল্ক ও মূসক সম্পর্তি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রস্তাব করছি। এর মধ্যে আয়কর বিষয়ক প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা আড়াই লাখ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকা করা, কর্পোরেট কর ২ দশমকি ৫ শতাংশ কমিয়ে সব কোম্পানির করের হার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, মূসক নিবন্ধনকারী তালিকাভুক্ত ট্রেডিং কোম্পানির ক্ষেত্রে ৩৫ শতাংশ করা, ব্যক্তিগত করদাতার প্রদর্শিত নিট পরিসম্পদের ভিত্তিতে সারচার্জের শূন্য শতাংশের সীমা আড়াই লাখ টাকা থেকে ৩ কোটি টাকা উন্নীত করা।

পিডিএসও/মুস্তাফিজ