পেঁয়াজের দাম কমে অর্ধেক : চালে স্থিতি

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৮, ১৫:৪৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বাজারগুলোতে পেঁয়াজের যে দাম চড়েছিল, সেখানে নেমে এসেছে স্বস্তি। এখন পেঁয়াজের মৌসুম। চাষিরা ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তুলে বিক্রি করছেন হাট-বাজারে। সপ্তাহ ব্যবধানে দাম কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে নিত্য প্রয়োজনীয় এ পণ্যটির। খুচরা বাজারে এখন মাত্র ২০ টাকায় মিলছে এক কেজি পেঁয়াজ। অথচ চলতি বছরের শুরুতে এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হয়েছিল ১০০ টাকার ওপরে। পেঁয়াজের দাম নাগালে আসায় স্বস্তি পাচ্ছে ক্রেতারা।

এদিকে, ১২০-১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচের দাম কমে এখন দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকায়। একইসঙ্গে কেজি প্রতি ৫-১০ টাকা করে কমেছে প্রায় শাক-সবজির। তবে এখনো নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে চালের বাজার। সম্প্রতি আর দাম বাড়েনি, আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যটি, এতটুকুই স্বস্তি। গতকাল শুক্রবার কারওয়ান বাজার, মহাখালীসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, বাজারে এখন সব ধরনের পেঁয়াজ-মরিচের সরবরাহ বেড়েছে। নতুন দেশি পেঁয়াজের পাশাপাশি ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে ভরপুর। আর এখন কাঁচামরিচের ভরা মৌসুম। এখন ক্ষেত থেকে মরিচ না তুললে পেকে পচে যাবে। ফলে চাষিই এখন মরিচ তুলছেন, যে কারণে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। বাজারে এমন সরবরাহ বাড়ায় দাম কমে গেছে।

এদিকে, মরিচ-পেঁয়াজের পাশাপাশি অধিকাংশ কাঁচা সবজির দামও এখন বেশ সস্তা। দুই-একটি সবজি বাদে অধিকাংশই এখন ৩০ টাকা কেজি দরের নিচে মিলছে। এমনকি মাসখানেক আগে যে সবজি ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হয়েছে, তা এখন মাত্র ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ার বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা নতুন দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৪০ টাকা কেজি দরে। আর ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৩০ টাকা কেজি দরে। ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে মেহেরপুর থেকে আসা নতুন পেঁয়াজ।

এ বিষয়ে বাজারটির ব্যবসায়ী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা আড়ৎ থেকে এখন কম দামে পেঁয়াজ আনতে পারছি। সে কারণে কম দামে বিক্রি করতে পারছি। এই ব্যবসায়ী বলেন, এখন বাজারে নতুন পেঁয়াজে ভরপুর। নতুন পেঁয়াজ মজুদ করে রাখা কষ্টকর। তাই বড় বড় ব্যবসায়ীরা এই পেঁয়াজ মজুদ না করে বাজারে ছেড়ে দিচ্ছেন, তাই দাম কমে গেছে।

কারওয়ান বাজারের পাইকারী ব্যবসায়ী রুবেল মিয়া বলেন, ভালো মানের দেশি পেঁয়াজের এখন বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা পাল্লা দরে। অর্থাৎ প্রতিকেজির দাম সর্বোচ্চ ৩৬ টাকা। আর সব থেকে ভালো মানের ভারতীয় পেঁয়াজের পাল্লা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা। অর্থাৎ প্রতিকেজির দাম ৩২ টাকা। মেহেরেপুরের পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে ৮০ টাকা পাল্লা বা ১৬ টাকা কেজি দরে।

এদিকে, কারওয়ান বাজারে এক কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে। যা রামপুরা, খিলগাঁও, মালিবাগ অঞ্চলের বাজারগুলোতে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। মরিচের দামের বিষয়ে মহাখালী কাঁচা বাজারের মো. আকরাম হোসেন বলেন, এখন আর এক কেজি মরিচ কিনতে ১০০ টাকা খরচ হয় না। আগে এক পোয়া কিনতে যা খরচ হত এখন সেই টাকা দিয়েই এক কেজি মরিচ পাওয়া যাচ্ছে। এখন এক কেজি মরিচের দাম মাত্র ৩০ টাকা; এক সপ্তাহ আগেও যা ৬০ টাকা ছিল।

বাজারে পাকা টমেটো মানভেদে ১৫-২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। যার গত সপ্তাহের দাম ছিল ২০-২৫ টাকা। খুচরা বাজারে ফুলকপি বিক্রি হয়েছে ১২-২০ টাকা। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ২০-৩০ টাকায়। ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া শিম গতকাল বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা দরে। এছাড়া শসা প্রতিকেজি ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০, বেগুন (কালো) ৩০, বেগুন (সাদা) ৫০, করলা ৫০, মুলা ২০, পটল ৪০, বরবটি ৬০ ও ঢেঁড়স ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

অন্যদিকে, গত বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৪০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে রয়েছে সব ধরনের চালের দাম। বছর জুড়ে এর মধ্যেই ওঠানামা করেছে। তবে রমজান মাসে চালের দাম বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। গতকালের বাজারে প্রতিকেজি স্বর্ণা ৪৩-৪৪ টাকা, পায়জাম ৪৫, বিআর ২৮ কেজি প্রতি ৪৮-৫০ টাকা, নাজিরশাইল মানভেদে ৬৫-৭৮ টাকা এবং পোলাও’র চাল ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়।

এছাড়া মাছ ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য মতে, গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব জাতের মাছের দাম কেজিপ্রতি ২০-৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বড় আকারের প্রতি কেজি রুই মাছ ২৩০-২৮০, কাতল ২৫০-৩৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ১২০-১৫০, সিলভারকার্প ১৫০, তেলাপিয়া ১৮০, দেশি জাতের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা দরে। আর গরুর মাংস ৪৬০-৫০০ টাকা, খাসি ৭০০-৭৫০, ব্রয়লার মুরগি ১৩০ টাকা এবং পাকিস্তানি লাল মুরগি ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পিডিএসও/তাজ