আসছে বড় ব্যয়ের নির্বাচনী বাজেট

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৭:৫৬ | আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৮:১১

শাহ্জাহান সাজু

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট প্রণীত হচ্ছে। সেখানে জনতুষ্টি অর্জনে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। জনগণের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হতে পারে—এমন কোনো কর বা ভ্যাট পলিসি নিচ্ছে না সরকার। আসছে বাজেটের লক্ষ্য থাকছে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনসহ জিনিসপত্র বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। স্বপ্নের পদ্মা সেতুসহ অন্যান্য মেগাপ্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে নতুন বাজেটে থাকবে বিশেষ পদক্ষেপ। সামাজিক নিরাপত্তা বলয় বাড়াতে থাকছে নানা কর্মসূচি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জনজীবনে সামষ্টিক অর্থনীতির যে সূচকটি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে, সেটি হলো মূল্যস্ফীতি। তবে আসছে নতুন অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির হার সহনীয় মাত্রায় থাকবে বলে বলছে অর্থ মন্ত্রণালয়। মূল্যস্ফীতি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে চলতি অর্থবছরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। পাশাপাশি ভারত ও চীনে মূল্যস্ফীতির নিম্নমুখী প্রবণতা বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির ওপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যস্ফীতির সম্ভাবনা কম। এছাড়া উন্নত, উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোতে ২০১৭ সালে উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কারণে শিল্পের উৎপাদন বাড়বে, বৈদেশিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে এবং ভোক্তার আস্থা ফিরে প্রবৃদ্ধির সহায়ক হবে।

আগামী বাজেটের আকার হতে পারে ৪ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। আগামী বাজেটে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা, যা চলতি (২০১৭-১৮) অর্থবছরের চেয়ে ১৮ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি।

আসছে বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন প্রাক্কলন করা হচ্ছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। সেক্ষেত্রে জিডিপির আকার হবে ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ১০০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে জিডিপির আকার হলো ২২ লাখ ২৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

আগামী অর্থবছরে জিডিপি টাকার অঙ্কে দাঁড়াবে ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ১০০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে জিডিপির আকার হচ্ছে ২২ লাখ ২৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। নতুন অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির হার সহনীয় মাত্রায় থাকবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ার সম্ভাবনা নেই। পাশাপাশি ভারত ও চীনে মূল্যস্ফীতির নিম্নমুখী প্রবণতা বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির ওপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যস্ফীতির সম্ভাবনা কম। এছাড়া উন্নত, উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোতে ২০১৭ সালে উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নানা কারণে শিল্পের উৎপাদন বাড়বে, বৈদেশিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে এবং ভোক্তার আস্থা ফিরে প্রবৃদ্ধির সহায়ক হবে।

নতুন বাজেটের আকার হতে পারে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাজেটের আকার হচ্ছে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। আগামী বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা হতে পারে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা, যা চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৮ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি।

আসছে বাজেটেও বড় উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নিতে যাচ্ছে সরকার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হচ্ছে ২ লাখ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এডিপির আকার ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে এডিপিবহির্ভূত এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর জন্য আরও প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

নতুন এডিপিতে চলমান প্রকল্পগুলো অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কারণ আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মেগা প্রকল্পগুলোর দৃশ্যমান উন্নয়ন জনসাধারণকে দেখাতে চায় সরকার। এজন্য পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, পদ্মা সেতুতে রেলসংযোগ, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ ইত্যাদি প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হবে প্রয়োজনমাফিক। এসব প্রকল্পে বরাদ্দে কোনো ধরনের কৃপণতা দেখাবে না সরকার। এরই মধ্যে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো এ বিষয়ে প্রাথমিক নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি আগামী বাজেটে দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে। এছাড়া ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সড়ক, রেলপথ ও বন্দর উন্নয়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন, কর্মসৃজনকে অগ্রাধিকার খাতে রাখা হচ্ছে। অগ্রাধিকার তালিকায় আরও রাখা হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জন, সরকারি সেবাদানে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন। এছাড়া থাকছে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, বহির্বিশ্বের অর্থনৈতিক সুযোগের অধিক ব্যবহারসহ নতুন রফতানির বাজার অনুসন্ধানের বিষয়।

পিডিএসও/হেলাল