আন্তর্জাতিক লেনদেন : ১ হাজার বিদেশি প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত

এনবিআরের ট্রান্সফার প্রাইসিং সেল খতিয়ে দেখছে

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৬:২২

শাহ্জাহান সাজু

আন্তর্জাতিক লেনদেন খতিয়ে দেখতে এক হাজার বিদেশি প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ট্রান্সফার প্রাইসিং সেল। এ তালিকায় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি, বিদেশি কোম্পানির ব্রাঞ্চ অফিস ও লিয়াজোঁ অফিস রয়েছে। তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে এনবিআরের সবচেয়ে চৌকস কর্মকর্তারা কাজ করছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এনবিআরের বোর্ড সভায় ট্রান্সফার প্রাইসিং সেলের কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলের সেলের পক্ষ থেকে সভায় ওই তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে, অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধে তৎপরতা বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ লক্ষ্যে গত রোববার রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে এ-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। সমঝোতা অনুযায়ী অর্থপাচার, সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়ন ও অর্থ সংশ্লিষ্ট সব অবৈধ কর্মকাণ্ড দমনে পারস্পারিক তথ্য বিনিময়, আন্তঃসংস্থা সহযোগিতা বৃদ্ধি, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও প্রশিক্ষণ, কর্মকর্তা বিনিময়, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এ ছাড়া বিএফআইইউ ও এনবিআর শিগগিরই বাংলাদেশ পুলিশ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সঙ্গে একই সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে বলেছেন, অর্থপাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধে এনবিআর বাংলাদেশ পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে একযোগে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, এনবিআরের মাঠ পর্যায়ে অফিস থেকে নেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। ট্রান্সফার প্রাইসিং সেল (টিপিসি) এসব প্রতিষ্ঠানের আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করা আন্তর্জাতিক লেনদেনের তথ্য এবং প্রকৃত লেনদেনের তথ্য যাচাই-বাছাই শুরু করেছে। তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে একটি তালিকা প্রণয়ন করা হবে। তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে এনবিআরের চৌকস কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি টিম গঠন করা হয়েছে। ওই টিম ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে শিগগিরই একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। দ্রুত প্রতিবেদন তৈরির লক্ষ্যে কাস্টমস ও ভ্যাট এবং গবেষণা ও পরিসংখ্যান অনুবিভাগের কর্মকর্তা দ্বিতীয় সচিব (মূসক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক অব্যাহতি) মো. তারেক হাসান, উপপরিচালক মো. সানোয়ার কবিরকে ফোকাল পয়েন্ট করে ট্রান্সফার প্রাইসিং সেলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১২-১৩ অর্থবছরের বাজেটে বহুজাতিক কোম্পানির রাজস্ব ফাঁকি ও অর্থ পাচার ঠেকাতে ট্রান্সফার প্রাইসিং সেল গঠনের প্রস্তাব দেন অর্থমন্ত্রী। এরই ধারাবহিকতায় আয়কর অধ্যাদেশ নতুন ধারা সংযোজন এবং এনবিআরে স্বতন্ত্র সেল গঠন করা হয়।

সূত্র আরো জানায়, যেসব প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক লেনদেন তিন কোটি টাকার বেশি, তাদের নজরদারিতে রেখেছে ট্রান্সফার প্রাইসিং সেল। এজন্য আয়কর অধ্যাদেশেও সংশোধনী আনা হয়েছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে সংশ্লিষ্ট তথ্য, দলিলাদি সংরক্ষণ করতে হবে। এ ছাড়াও বিদেশের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার ধরণসহ যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। ওই প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃত দাম দিয়েই পণ্য আমদানি করেছে কি না, তা বছর শেষে যাচাই-বাছাই করবে এনবিআর।

আয়কর অধ্যাদেশের ৭৫-এ ধারা এবং ধারা-১০৭-এর ‘ইই’ উপধারার আওতায় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক লেনদেনের সব তথ্য এনবিআরকে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। কোম্পানিগুলোকে তাদের লেনদেনের ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসন সেবা, বিক্রয় ও বিপণন সেবা, গবেষণা উন্নয়ন, সফটওয়্যার, আইসিটি, টেকনিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং, কমিশন, লজিসটিকস, সম্পদ ব্যবস্থাপনা, সুদ, সম্পদ বিক্রি, লিজ পেমেন্টস, বীমা, গ্যারান্টি, ঋণ, বিনিয়োগসহ যাবতীয় তথ্য এনবিআরকে সরবরাহ করতে হবে।

পিডিএসও/তাজ