করদাতাকে হয়রানি করলেই ব্যবস্থা

এনবিআরের ফিল্ড অডিট

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:৩৩

শাহ্জাহান সাজু

কর ফাঁকির রহস্য উদ্ঘাটনে ফিল্ড অডিটে মাঠ কর্মকর্তাদের আটটি বিষয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কেউই যেন কর ফাঁকি দিয়ে পার না পান, সেজন্য এবার কর অঞ্চলগুলোকে এই বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক বার্তাও দিয়েছে সংস্থাটি। বলেছে, দায়িত্ব পালনকালে কোনো কর্মকর্তা করদাতাদের হয়রানি করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতি বছর কমপক্ষে ২৫ হাজার কর ফাইল অডিটের জন্য দাখিল করা হয়।

অডিটের মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করে থাকে সংস্থাটি। তবে স্বয়ংক্রিয় নিরীক্ষণ ব্যবস্থা চালু হলে করদাতাদের হয়রানি বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা ।

এনবিআরের নির্দেশনায় বলা আছে, একজন করদাতা যদি আগের বছরের থেকে তার আয় অন্তত ১৫ শতাংশ বেশি বলে ঘোষণা দেন তাহলে তার রিটার্ন অডিটের জন্য সুপারিশ করা যাবে না। জানা যায়, গত ছয় বছরে রাজস্ব বোর্ড ২০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে দুই হাজার কোটি টাকাই পায় আয়কর খাত থেকে। এর ৩০ শতাংশের মতো কর আসে বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) থেকে। আর বাকি কর পাওয়া যায় দেশের ৩১টি কর অঞ্চল থেকে।

নির্দেশনায় নির্বাচিত করদাতাদের আয়কর রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য সুনির্দিষ্ট কারণ করদাতাদের জানাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে করদাতাদের ব্যাখ্যা বা প্রমাণাদিও সংগ্রহ করতে হবে। অডিটের নির্বাচিত আয়কর বিবরণী আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে এনবিআর কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, অডিট ইস্যু নির্বাচনের ক্ষেত্রে এনবিআরের আটটি নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে নির্বাচিত করদাতাদের আয়কর রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য সুনির্দিষ্ট কারণগুলো সংশ্লিষ্টদের জানানো, একই সঙ্গে করদাতাদের এ-সংক্রান্ত ব্যাখ্যা সংগ্রহ। তবে ব্যাখ্যা ও প্রমাণাদি পাওয়া না গেলে বা দাখিলকৃত ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ। অডিটের জন্য বোর্ড নির্বাচিত করদাতাদের তালিকা কার্যালয়ের নোটিস বোর্ডে প্রদর্শন।

করদাতাদের হয়রানি ছাড়া সঠিক পরিমাণ মোট আয়কর নির্ধারণই অডিটের লক্ষ্য হবে। সংশ্লিষ্ট অডিট মামলার নির্বাচিত ইস্যুর সমর্থনে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তির কাছ থেকে লিখিতভাবে সংগ্রহ করতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কর পরিদর্শক দ্বারা সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে প্রণীত প্রতিবেদন গ্রহণ করতে হবে।

একই সঙ্গে কর নির্ধারণী আদেশে এর প্রতিফলন থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের কর কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট পারদর্শী কর্মকর্তা অডিট মামলাগুলোর কর নির্ধারণ কার্যক্রম বিশেষভাবে তদারকি করবেন। অডিটের প্রস্তাবে যেসব ইস্যু বা কারণ উল্লেখ করা হবে; তার বাইরে অন্য ইস্যু নিয়ে করদাতার ব্যাখ্যা-প্রমাণ চাওয়া যাবে না। এ ছাড়া অডিট ইস্যু নির্বাচনকালে ত্রুটি শনাক্তের ক্ষেত্রে অনুমান নির্ভরতা পরিহারও করতে বলা হয়েছে।

এবার করদাতাদের একটি বড় অংশের আয়কর নথি অডিটের আওতায় আনা হচ্ছে উল্লেখ করে নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, কর ফাঁকির রহস্য উদ্ঘাটনে এবার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এনবিআর। কেউই যেন কর ফাঁকি দিয়ে পার না পান, সেজন্য কর অঞ্চলগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো কর্মকর্তা তদন্তের নামে করদাতাকে হয়রানি করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ রয়েছে, সারা দেশের রাজস্ব বোর্ডের সার্কেল অফিসগুলো থেকে প্রচুর পরিমাণে আয়কর বিবরণী বোর্ডের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু এত রিটার্ন যাচাই-বাছাই করার সক্ষমতা নেই সংস্থাটির নিরীক্ষা, গোয়েন্দা এবং তদন্ত শাখার। এর ফলে আঞ্চলিক কর কার্যালয় থেকে যা নির্ধারণ করে দেওয়া হয় অনেক ক্ষেত্রে তাই অনুমোদন দিতে হয় রাজস্ব বোর্ডকে। এতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।

আয়কর বিবরণী নিরীক্ষার নামে করদাতাদের একরকম হয়রানি করেন কতিপয় কর্মকর্তা। এ ছাড়াও কিছু কিছু কর কর্মকর্তার অদক্ষতা এবং অনিচ্ছার কারণে গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব সংশ্লিষ্ট ফাইলও অবহেলায় পড়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। এজন্য ব্যবসায়ী সমাজ দীর্ঘদিন ধরে দক্ষ জনবল বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে।

পিডিএসও/তাজ