বিশ্বকাপে যত আশ্চর্য ঘটনা!

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

চার বছর ঘুরে আবার শুরু হচ্ছে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি বিশ্বকাপেই ঘটেছে অদ্ভুত কিছু ঘটনা। ওইসব ঘটনার কয়েকটি তুলে ধরা হলোÑ

ম্যারাডোনার ডোপ কেলেঙ্কারি

১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ জিতে দেশকে আনন্দে ভাসানো ডিয়েগো ম্যারাডোনা একটুর জন্য পরের টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনাকে আরেকটা শিরোপা এনে দিতে পারেননি। ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে হারে আর্জেন্টিনা। ১৯৯৪ বিশ্বকাপটা ছিল আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির শেষ সুযোগ। কিন্তু সেবার ডোপ টেস্টে ধরা পড়ে দুটো ম্যাচ খেলেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত যেতে হয় ম্যারাডোনাকে। আর আর্জেন্টিনাও বাদ পড়ে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে!

রোনালদোর মৃগী রোগ!

১৯৯৪ সালে ব্রাজিলে নতুন তারকার উত্থান হয়, নাম তার রোনালদো নাজারিও ডি লিমা। পিএসভি আইন্দোফেইনের হয়ে মাত্র ৪৬ ম্যাচে ৪২ গোল করা রোনালদো নজরে আসেন বার্সেলোনার। বার্সা তখন তাকে বিশ্বের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় বানিয়ে নিয়ে আসে ন্যু ক্যাম্পে। বার্সেলোনায় এক মৌসুমে ৩৭ ম্যাচে ৩৪ গোল করে রোনালদো আবারও বিশ্বের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হয়ে পাড়ি জমান ইন্টার মিলানে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে এই রোনালদোই ছিলেন ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ভরসা। ফাইনালের আগ পর্যন্ত চার গোল করে ফাইনালে ওঠায় বড় ভূমিকাও রেখেছিলেন রোনালদো। কিন্তু ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনাল শুরুর আগে ব্রাজিলের মূল একাদশে প্রথমে রোনালদো ছিলেন না! চারদিকে সাড়া পড়ে গেল। জানা গেল, রোনালদো অসুস্থ। বলা হয়েছিল, রোনালদো ম্যাচের দিন ‘কনভালসিভ ফিট’ বা এক ধরনের মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাই মূল একাদশে তার জায়গায় এডমুন্ডোকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই পরিবর্তিত মূল একাদশে এডমুন্ডোর জায়গায় ফেরানো হয় রোনালদোকে। ফাইনালের পুরো নব্বই মিনিট রোনালদো যেন ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে, গোল করা দূরের কথা, স্বাভাবিক খেলাই খেলতে পারেননি। তার পাদপ্রদীপ কেড়ে নেন ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান, জোড়া গোল করে ফ্রান্সকে জেতান অধরা বিশ্বকাপ। আসলে কী হয়েছিল সেদিন রোনালদোর? অনেকে বলেন, বিশ্বকাপ ফাইনালে দলের মূল খেলোয়াড় হিসেবে খেলার চাপটা নিতে পারেননি তিনি। ফলে আতঙ্কে তার এক ধরনের ‘নার্ভাস ব্রেকডাউন’ হয়। যাই হোক, ২০০২ সালের বিশ্বকাপ জিতে সেই অপ্রাপ্তি ঘুচিয়ে দেন রোনালদো!

নির্লজ্জ বায়রন মরেনো

ফ্রান্সেসকো টট্টি, দেল পিয়েরো, বুফন, গাত্তুসো, ভিয়েরিসমৃদ্ধ প্রতিভাবান ইতালি দল ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জিততে পারে, এমনটাই ভেবেছিলেন অনেকে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দ্বিতীয় রাউন্ডে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেয় ইতালি। ১৮ মিনিটে ইতালিয়ান স্ট্রাইকার ভিয়েরির দেওয়া গোলটা ৮৮ মিনিটে শোধ করে দেন সিউল কি-হিউন। পরে ১১৮ মিনিটের ‘গোল্ডেন গোল’ করে ইতালিকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে ফেলেন আন জুন-হুয়ান। কিন্তু আন জুন-হুয়ান নন, এই ম্যাচে সবাই মনে রেখেছে রেফারি বায়রন মরেনোকে। কারণ সেদিন জঘন্যতম রেফারিং করেছিলেন মরেনো। ইতালিয়ানরা তো আজও তাকে শাপ-শাপান্ত করে! ইকুয়েডরের এই রেফারি বেশ কিছু ভুল সিদ্ধান্ত দেন, যার মাশুল গুনতে হয়েছিল ইতালিকে। অতিরিক্ত সময়ে ড্যামিয়ানো টমাসির গোল খামোখাই অফসাইড ডেকেছিলেন মরেনো।

"